08/03/2026
“গণভোটের পরেও জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে যে টালবাহানা করা হচ্ছে, তা শহীদদের রক্তের সাথে স্পষ্ট বেঈমানি”
– মুহাম্মদ রায়হান আলী
আজ ১৮ রমজান ১৪৪৭ হিজরি, ৮ মার্চ ২০২৬, রবিবার, বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলীর সভাপতিত্বে বন্ধুপ্রতিম ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে “জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ছাত্রসমাজের করণীয়" শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সভাপতি ও খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব ডক্টর মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ কোন দিকে যাবে, তার নীতি নির্ধারক হলো সচেতন ও আদর্শবান ছাত্র সমাজ। ইতিহাস সাক্ষী—যখনই দেশের ক্রান্তিকাল এসেছে, তখনই ছাত্রসমাজ সামনের সারিতে থেকে জাতিকে সঠিক পথ দেখিয়েছে। তাই একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ছাত্রসমাজের দায়িত্ব ও ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ রায়হান আলী বলেন, “গণভোটের পরেও জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে যে টালবাহানা করা হচ্ছে, তা শহীদদের রক্তের সঙ্গে স্পষ্ট বেঈমানির শামিল। জুলাইয়ের ঐতিহাসিক আন্দোলনে দেশের ছাত্রসমাজ, তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ জনগণ ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র, অধিকারপূর্ণ এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় রাজপথে নেমেছিল।
এই আন্দোলনে অসংখ্য মানুষ ত্যাগ স্বীকার করেছেন, অনেকেই জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন এবং পরিবার-পরিজন হারানোর বেদনাও বয়ে বেড়াচ্ছেন। তাদের এই আত্মত্যাগ ছিল দেশের ভবিষ্যৎকে একটি ন্যায্য ও সুবিচারপূর্ণ ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশায়।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে গণভোট সম্পন্ন হওয়ার পরেও সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর উদ্যোগ এখনো লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বরং নানা অজুহাত, কালক্ষেপণ ও টালবাহানার মাধ্যমে বিষয়টিকে দীর্ঘায়িত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
এরকম চলতে থাকলে প্রয়োজনে আরো একটি জুলাই সংঘটিত হবে। নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান থাকবে– দেশের ছাত্র, তরুণ ও যুবসমাজের প্রত্যাশা অনুযায়ী সরকারি দল এবং বিরোধী দলসহ সবাইকে সঠিক পথ দেখাতে আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে।”
সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল জাকারিয়া হুসাইন জাকিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা ও ইফতার মাহফিলে ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ এর সহ-সভাপতি ইমরান হোসাইন নূর, ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সানাউল হক, জাগপা ছাত্র কাফেলার সভাপতি আব্দুর রহমান ফারুকী, জাতীয় ছাত্রশক্তির দপ্তর সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি পরিষদ সদস্য দিদারুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্র সমাজের সভাপতি কাজী ফয়েজ আহমদ, বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের সহ-সভাপতি আকিব হাসান, বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহর প্রচার সম্পাদক নেসার উদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি মুহম্মদ আবু দারদা, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ ফরিদ, নাগরিক ছাত্র ঐক্যের সভাপতি মুহাম্মদ ফজলে রাব্বি, ছাত্র ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি রিয়াদ হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জেএসডির) সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন বিজয়, বাংলাদেশ মুসলিম ছাত্রলীগের সভাপতি মুহাম্মদ নূর আলম, ন্যাশনাল ছাত্র মিশনের সভাপতি রেজাউল ইসলাম, জুলাই ফোর্সের সভাপতি মোশাররফ হোসেন, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সহ-সাধারণ সম্পাদক আরাফাত আল মিসবাহ, কওমী ছাত্র ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সাজিদ আব্দুল্লাহ, বৈষম্য বিরোধী কওমী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি নোমান বিন নূর, বাংলাদেশ ছাত্র সমাজের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নূর আলম বাধন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ রায়হান প্রমূখ। এছাড়াও ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।