11/04/2026
সৌর পঞ্জিকা অনুসারে বাংলা বারো মাস অনেক কাল আগে থেকেই পালিত হতো। এই সৌর পঞ্জিকার শুরু হতো গ্রেগরীয় পঞ্জিকায় এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় হতে। সৌর বছরের প্রথম দিন আসাম, বঙ্গ, কেরল, মনিপুর, নেপাল, উড়িষ্যা, পাঞ্জাব, তামিল নাড়ু এবং ত্রিপুরার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অনেক আগে থেকেই পালিত হত। হিন্দু ও শিখগণ এই উৎসব পালন করত। [১] ভারতের পূর্বাঞ্চল ও উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর নববর্ষের উৎসবগুলো ‘হিন্দু বিক্রমী দিনপঞ্জি’র সাথে সম্পর্কিত। এই দিনপঞ্জির নামকরণ করা হয়েছে খ্রিস্টপূর্ব ৫৭ অব্দে বিক্রমাদিত্যের নাম অনুসারে। ঐতিহাসিকদের মতে, পহেলা বৈশাখ উৎসবটি ঐতিহ্যগত হিন্দু নববর্ষ উৎসবের সাথে সম্পর্কিত যা Vaisakhi (বৈশাখী ) ও অন্য নামে পরিচিত। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে একই দিনে এই উৎসব পালিত হত। [২] সুতরাং পহেলা বৈশাখ ‘বাঙালি সংস্কৃতি’র সাথে ঐতিহাসিকভাবে ‘খাস’ কোনো জিনিস না। এর উদযাপন বাঙালি জাতিসত্তার সাথেই ইউনিক, এটা বাঙালি জাতিসত্তার পরিচায়ক— ব্যাপারটা এমন না।
সমগ্র ভারতে প্রচলিত ‘হিন্দু বিক্রমী দিনপঞ্জি’টির যে ভার্সনটি বাংলা ও নেপাল এলাকায় চালু ছিল, সেই ‘বঙ্গাব্দ’-এর সূচনা ৫৭ খ্রিস্টপূর্বে হয়নি, বরং ৫৯৩ খ্রিষ্টাব্দে শুরু হয়েছিল। মনে করা হয় শশাঙ্কের শাসনামলেই এই পরিবর্তন হয়। [৩] এই বাংলা দিনপঞ্জিটি সংস্কৃত গ্রন্থ ‘সূর্য সিদ্ধান্ত’-এর উপর ভিত্তি করে লেখা। এখানেও মাসগুলোর ঐতিহাসিক সংস্কৃত নামগুলোই রাখা হয়েছে, যার প্রথম মাসের নাম হল বৈশাখ। [৪] তাদের দিনপঞ্জিটি হিন্দু দিনপঞ্জি ব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত এবং বিভিন্ন বাঙ্গালি হিন্দু উৎসবের দিন নির্ধারণে সেটি ব্যবহৃত হয়। পশ্চিমবঙ্গ ও অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের বাঙ্গালিদের জন্য প্রতি বছর ১৪ বা ১৫ এপ্রিলে এই উৎসব হয়ে থাকে। সুতরাং ঐতিহাসিকভাবেই হিন্দু প্রথা-পার্বণ ও শিরকী ধর্মাচারের সাথে ‘বঙ্গাব্দ’ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং বাঙালি হিন্দুর অন্যতম প্রধান উৎসব ছিল পহেলা বৈশাখের উৎসব।