13/03/2026
গিয়েছিলাম কাপড় কিনতে। পছন্দ করে বিল দিতে গিয়ে দেখি মূল দামের সাথে অতিরিক্ত ১৫% ভ্যাট যোগ করা হয়েছে।
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
— এই ভ্যাট কিসের?
উত্তর এলো,
— সরকারকে দিতে হয়।
বললাম, ঠিক আছে। তাহলে আপনার ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নম্বরটা বলুন। একটি নম্বর দেখানো হলো। এরপর আমি বললাম, মূসক-১১ ফর্ম অনুযায়ী ভ্যাট চালান দিন।
সেলসম্যান অবাক। আবার বললাম,
— আমি যদি সরকারের জন্য ভ্যাট দিই, তাহলে তার সরকারি রসিদ তো পাবো! নীল রঙের ভ্যাট চালানটি দিন।
এরপর দোকানের মালিক এলেন।
— কী সমস্যা ভাই?
— সমস্যা তো আপনার। মূসক বিধিমালা ২০১২ অনুযায়ী আমি আপনার মাধ্যমে সরকারকে ভ্যাট দিচ্ছি। কিন্তু আপনি আমাকে সরকারি চালান দিচ্ছেন না কেন?
— আমাদের কাছে তো এমন কিছু নেই।
— নেই মানে? তাহলে কোন আইনে আমার কাছ থেকে ভ্যাট নিলেন?
শেষ পর্যন্ত তারা ১৫% ভ্যাট না নিয়েই কাপড় বিক্রি করল।
বাস্তবতা কী?
শুধু একটি দোকান নয়—অনেক দোকান, রেস্টুরেন্ট, হোটেল ইত্যাদি ভ্যাটের নামে টাকা আদায় করছে, কিন্তু যথাযথ সরকারি চালান দিচ্ছে না। ফলে ভোক্তা ভ্যাট দিলেও সেই অর্থ সবসময় সরকার পর্যন্ত পৌঁছায় না।
নিয়ম কী বলে?
ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ভ্যাট নিলে, সরকারি চালান (মূসক-১১) প্রদান করতে হয়।
শুধু প্রিন্টেড বিল যথেষ্ট নয়, যদি সেটি সরকারি ভ্যাট চালান না হয়।
ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা বাধ্যতামূলক।
কী করবেন?
✔ বিল দেওয়ার সময় ভ্যাট উল্লেখ থাকলে চালান চাইবেন।
✔ ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নম্বর যাচাই করবেন।
✔ চালান দিতে অস্বীকার করলে ভ্যাট দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন।
✔ প্রয়োজনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এর হটলাইন ১৬৫৫৫ নম্বরে অভিযোগ করতে পারেন।
আমরা কষ্টার্জিত আয় থেকে নিয়মিত ভ্যাট দিচ্ছি। তাই সচেতন হওয়া আমাদের অধিকার ও দায়িত্ব—যাতে সেই অর্থ সঠিক জায়গায় পৌঁছায়।
নিজে জানুন, অন্যকেও জানান। সচেতন ভোক্তাই পারে অনিয়ম বন্ধ করতে।
©️Abu Jubayer Ansary