04/10/2025
বাংলাদেশ স্কাউটস এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, উদ্দেশ্য ও বর্তমান অবস্থা:
বাংলাদেশ স্কাউটস হলো বাংলাদেশের জাতীয় স্কাউটিং সংস্থা। বাংলাদেশ স্কাউটস একটি স্বেচ্ছাসেবী, অরাজনৈতিক সংগঠন। বাংলাদেশ স্কাউটস বিশ্ব স্কাউট সংস্থা (World Organization of the Scout Movement - WOSM) এর সদস্য এবং এটি স্কাউটিংয়ের আন্তর্জাতিক নীতি অনুসরণ করে।
বাংলাদেশের স্কাউটিং এর ইতিহাসের ধারাবাহিকতা
১৯১৪ সাল: স্কাউটিং কার্যক্রম শুরু হয় পূর্ব বাংলায়, যা ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান স্কাউট অ্যাসোসিয়েশনের একটি অংশ ছিল।
১৯৪৭ সাল: দেশ বিভাগের পর এটি পাকিস্তান বয় স্কাউট অ্যাসোসিয়েশনের অংশ হয়।
১৯৭২ সাল: বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর, ১৯৭২ সালের ৮-৯ এপ্রিল ঢাকায় "বাংলাদেশ বয় স্কাউট সমিত" গঠিত হয়। ঐ বছরের ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ১১১ নং অধ্যাদেশ বলে (১১ সেপ্টেম্বর ১৯৭২, সোমবার) উক্ত সমিতি সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে।
১৯৭৪ সাল: বিশ্ব স্কাউট সংস্থা (WOSM) ১৯৭৪ সালের ১ জুন বাংলাদেশ স্কাউট সমিতিকে ১০৫ তম সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
১৯৭৮ সাল: বাংলাদেশ বয় স্কাউট সমিতির নাম পরিবর্তন করে "বাংলাদেশ স্কাউটস" নামকরণ করা হয়।
১৯৯৪ সাল: ১৯৯৪ সালের ২৪ মার্চ বাংলাদেশ স্কাউটস-এর জাতীয় কাউন্সিলে গার্ল ইন স্কাউটিং (Girl in Scouting) এর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে স্কাউট আন্দোলন প্রধানত তিনটি শাখায় বিভক্ত। যথাক্রমে ৬ থেকে ১০+ বয়সী শিশুরা কাব স্কাউট, ১১ থেকে ১৬+ বয়সী বালক-বালিকারা স্কাউট এবং ১৭-২৫ বয়সী যুবক রোভার স্কাউট।
অভ্যন্তরীণ বিভাজন:
দেশব্যাপি সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক অবকাঠামো সুষ্ঠু পরিচালনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ স্কাউসকে ১৩টি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেটে ৯টি, শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এবং রোভার, রেলওয়ে, নৌ এবং এয়ার এই বিশেষ অঞ্চল ৪টির দফতর ঢাকায় অবস্থিত।
উদ্দেশ্য: স্কাউটিংয়ের মূল লক্ষ্য হলো আনন্দময় কার্যকলাপের মাধ্যমে যুবকদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ ঘটানো, যাতে তারা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
বর্তমান অবস্থা: বাংলাদেশ স্কাউটস বিশ্বের ৫ম বৃহত্তম স্কাউট সংগঠন এবং এটি বাংলাদেশে যুবকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনে পরিণত হয়েছে।