19/05/2026
বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদুতের সাথে বৈঠক করেছে মায়ের তরীর প্রতিনিধি দল।
ঢাকা রয়েল নরওয়ে হাই কমিশনের আমন্ত্রনে গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২0২৬) হাই কমিশনের সভাকক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন অ্যারাল্ড গুলব্রানসেন (Håkon Arald Gulbrandsen)-এর নেতৃত্বে ৫ সদস্যর হাই কমিশন টিমের সাথে মায়ের তরীর প্রতিষ্ঠাতা লেখক, লোক গবেষক, আলোকচিত্রী ও কবি উয়েরা সেথের (Wera Sæther) –এর নেতৃত্বে ৪ সদস্যর একটি প্রধিনিধি দল অংশ নেন।
খুবই আন্তরিকপূর্ণ পরিবেশে আলোচনায় মায়ের তরীর কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন নরওয়ের রাষ্ট্রদূত। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামে লোক সংস্কৃতি বিকাশের কাজে মায়ের তরীর উদ্যোগকে রাষ্ট্রদূত প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমৃদ্ধ লোক সংস্কৃতিকে বাচিয়ে রাখার এমন চেষ্টা খুবই প্রয়োজন। আর মায়ের তরী দীর্ঘ দশ বছর যাবত এই কাজটি নিরবে করে যাচ্ছে। সেই জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে নরওয়ের নাগরিক হিসেবে লেখক, লোক গবেষক, আলোকচিত্রী ও কবি উয়েরা সেথের (Wera Sæther)কেও তিনি ধন্যবাদ জানান।
মায়ের তরীর পক্ষ থেকে মা উয়েরা সেথের রাষ্ট্রদূতকে এবং নরওয়ের হাইকমিশনকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সেই সাথে মায়ের তরীর সকল কার্যক্রমে হাই কমিশনের সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
এ সময় মায়ের তরীর নির্বাহী পরিচালক সুজন কুমার বেদ রাষ্ট্রদূতের হাতে মায়ের তরীর চলমান কার্যক্রম ও আগামী দিনের পরিকল্পনার একটি ডকুমেন্ট তুলে দেন।
সুজন বেদ জানান, মায়ের তরীর মাধ্যমে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় নয়টি গুরুগৃহে ৬শতাধিক শিশু লোক সংগীত ও লোক বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখছে। আগামীতে প্রবীণ লোক সাংস্কৃতিকসেবীদের জন্য সম্মান ও নিরাপত্তার একটি আপন ঠিকানা তৈরির প্রচেষ্টা চলছে। সেই সাথে লোক সংস্কৃতির বিশেষ চর্চা কেন্দ্রও গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসে মায়ের তরীর গুরুগৃহ পরিদর্শন করার কথা থাকলেও বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অংশ নিতে না পারায় হাই কমিশন দুঃখ প্রকাশ করে। তবে মায়ের তরীর আমন্ত্রনে আগামী জুন মাসে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত ও তাদের প্রতিনিধি দল মায়ের তরীর লোক সংগীত উৎসবে অংশ নেয়ার সম্মতি প্রকাশ করেন।
আলোচনা শেষে ফকির লালন সাইজির ৫৩টি গান নরওয়েজিয়ান ভাষায় অনুবাদ করা বই এবং বাংলাদেশের লোক সংস্কৃতির বিভিন্ন আলোকচিত্রের উপর লিখিত বই রাষ্ট্রদূতের হাতে তুলে দেন লেখক, লোক গবেষক, আলোকচিত্রী ও কবি উয়েরা সেথের (Wera Sæther)।
আলোচনায় নরওয়ের হাই কমিশনের কর্মকর্তা ও মায়ের তরীর দুই উপদেষ্টা অংশ নেন।
#মায়েরতরী Norwegian Embassy in Dhaka