12/07/2026
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
মাজগ্রাম জীবনরেখা ফাউন্ডেশন
গঠনতন্ত্র, নীতিমালা ও ঘোষণা পত্র
(প্রথম সংস্করণ)
ভূমিকা
পরম করুণাময় মহান আল্লাহ তায়ালার নামে শুরু করছি।
মাজগ্রাম জীবনরেখা ফাউন্ডেশন একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, অলাভজনক, মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী সমাজসেবামূলক সংগঠন। কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার ২নং শিলাইদহ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মাজগ্রামকে একটি আদর্শ, মানবিক, শিক্ষিত, সচেতন ও সহযোগিতাপূর্ণ সমাজ হিসেবে গড়ে তোলার মহান লক্ষ্য নিয়ে ৩০ মে ২০২৬ সালে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
সংগঠনটি একঝাঁক মানবিক, সৎ, সমাজসেবামূলক মনোভাবসম্পন্ন তরুণদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো মানুষের কল্যাণে কাজ করা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রক্তদান, পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক উন্নয়ন, যুবসমাজকে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করা এবং সর্বোপরি মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করা।
মাজগ্রাম জীবনরেখা ফাউন্ডেশন বিশ্বাস করে—একটি সুন্দর সমাজ গড়তে হলে শুধু অর্থ নয়, প্রয়োজন সততা, ঐক্য, মানবিকতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
এই গঠনতন্ত্র ও নীতিমালা সংগঠনের সকল সদস্য, কর্মকর্তা, উপদেষ্টা, প্রতিষ্ঠাতা, দাতা সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য বাধ্যতামূলক হবে।
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সংগঠকবৃন্দ
১। এস এইচ সোহাগ
প্রতিষ্ঠাতা
প্রধান উদ্যোক্তা ও গঠনতন্ত্র প্রণেতা।
২। এনামুল হক রবি
সহ-প্রতিষ্ঠাতা, সংগঠক ও পরিচালক।
ঘোষণাপত্র
আমরা, মাজগ্রাম জীবনরেখা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা, সংগঠক, সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীগণ মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে মানবতার কল্যাণে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।
আমরা ঘোষণা করছি যে—
১। সংগঠনটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী।
২। কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে সংগঠনের নাম ব্যবহার করা যাবে না।
৩। সংগঠনের সকল আয়-ব্যয় স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে।
৪। সকল সদস্য গঠনতন্ত্র ও নীতিমালা মেনে চলতে বাধ্য থাকবেন।
৫। মানবসেবা, সততা, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ সংগঠনের মূল ভিত্তি হবে।
অনুচ্ছেদ–১
সংগঠনের নাম, পরিচয় ও স্লোগান
১.১ নাম (বাংলা)
মাজগ্রাম জীবনরেখা ফাউন্ডেশন
১.২ নাম (ইংরেজি)
Majgram Jibonrekha Foundation (MJF)
১.৩ সংগঠনের প্রকৃতি
মাজগ্রাম জীবনরেখা ফাউন্ডেশন একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, অলাভজনক, মানবিক, স্বেচ্ছাসেবী ও সমাজকল্যাণমূলক সংগঠন।
১.৪ স্লোগান
“মানবতার সেবায় জীবনের পাশে”
অনুচ্ছেদ–২
প্রতিষ্ঠাকাল ও কার্যালয়
২.১ প্রতিষ্ঠাকাল
৩০ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।
২.২ প্রধান কার্যালয়
মা মেডিকেল হল
কারিগরপাড়া, মাজগ্রাম, শিলাইদহ, কুমারখালী, কুষ্টিয়া।
২.৩ ডিজিটাল কার্যালয়
সংগঠনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ, ফেসবুক গ্রুপ, মেসেঞ্জার গ্রুপ, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, ওয়েবসাইট এবং ভবিষ্যতে অনুমোদিত অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।
২.৪ কার্যপরিধি
প্রাথমিকভাবে মাজগ্রাম ও কারিগরপাড়া এলাকায় কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সংগঠনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা যাবে।
অনুচ্ছেদ–৩
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
১। অসহায়, দুস্থ, দরিদ্র ও রোগাক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
২। রক্তদান কর্মসূচি পরিচালনা এবং জরুরি রক্ত সংগ্রহে সহযোগিতা করা।
৩। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ, বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান।
৪। স্বাস্থ্যসেবা, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও চিকিৎসা সহায়তা পরিচালনা।
৫। পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা।
৬। গ্রামের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ।
৭। যুবসমাজকে নৈতিক, সামাজিক, মানবিক ও ইসলামী মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করা।
৮। খেলাধুলা, শিক্ষা, সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কার্যক্রম পরিচালনা।
৯। স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের মাধ্যমে মানবকল্যাণে কাজ করা।
১০। অসহায় মানুষের আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে সহায়তা করা।
১১। জরুরি দুর্যোগ, দুর্ঘটনা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ত্রাণ ও সহায়তা প্রদান।
১২। মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে মানবসেবাকে ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করা।
অনুচ্ছেদ–৪
সদস্যপদ
৪.১ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা
১। সৎ, মানবিক, সমাজসেবামূলক ও নৈতিক চরিত্রের অধিকারী হতে হবে।
২। সংগঠনের গঠনতন্ত্র, নীতিমালা ও শৃঙ্খলা মেনে চলার অঙ্গীকার করতে হবে।
৩। নারী ও পুরুষ উভয়েই সদস্য হতে পারবেন।
৪। নির্ধারিত সদস্য আবেদনপত্র পূরণ করে কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।
৫। এককালীন সদস্য উন্নয়ন অনুদান ৫০০/- (পাঁচশত) টাকা প্রদান করতে হবে।
৬। মাসিক ন্যূনতম ১০০/- (একশত) টাকা সদস্য চাঁদা প্রদান করতে হবে।
৭। নতুন আবেদনকারীকে প্রথমে পর্যবেক্ষণ সদস্য (Probationary Member) হিসেবে কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদনের পর তিনি পূর্ণ সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন।
৪.২ সদস্যদের দায়িত্ব
১। সংগঠনের সকল মানবিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা।
২। সংগঠনের সুনাম, মর্যাদা ও আদর্শ রক্ষা করা।
৩। নিয়মিত সভা, প্রশিক্ষণ ও কার্যক্রমে উপস্থিত থাকা।
৪। সময়মতো মাসিক চাঁদা প্রদান করা।
৫। সকল সদস্যের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করা।
৬। সংগঠনের সম্পদ ও নথিপত্র সংরক্ষণে সহযোগিতা করা।
৪.৩ দাতা সদস্য
১। নিয়মিত মাসিক অনুদান প্রদানকারী ব্যক্তি দাতা সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।
২। পরপর তিন মাস চাঁদা বা অনুদান প্রদান না করলে দাতা সদস্যের মর্যাদা সাময়িকভাবে স্থগিত হবে।
৩। বিশেষ কারণ থাকলে লিখিত বা মৌখিকভাবে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।
৪। পুনরায় নিয়মিত অনুদান প্রদান শুরু করলে দাতা সদস্যপদ পুনর্বহাল করা হবে।
৫। দাতা সদস্যগণ সংগঠনের অন্যতম শক্তি ও সহযোগী হিসেবে বিবেচিত হবেন।
৪.৪ আজীবন সদস্য
১। এককালীন ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা বা কার্যনির্বাহী কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত উন্নয়ন অনুদান প্রদানকারী ব্যক্তি আজীবন সদস্য হওয়ার যোগ্য হবেন।
২। আজীবন সদস্যগণ সংগঠনের বিশেষ সম্মাননা ও স্বীকৃতি লাভ করবেন।
অনুচ্ছেদ–৫
সদস্যপদ বাতিল, স্থগিত ও পদত্যাগ
৫.১ নিম্নোক্ত কারণে সদস্যপদ বাতিল বা স্থগিত করা যেতে পারে—
১। সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করলে।
২। আর্থিক অনিয়মে জড়িত থাকলে।
৩। দুর্নীতি, প্রতারণা বা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে।
৪। গঠনতন্ত্র ও নীতিমালা লঙ্ঘন করলে।
৫। সংগঠনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করলে।
৬। অনুমতি ছাড়া সংগঠনের নাম বা লোগো ব্যবহার করলে।
৭। টানা এক বছর সংগঠনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ না করলে।
৮। দীর্ঘ সময় চাঁদা প্রদান না করলে এবং সন্তোষজনক কারণ প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হলে।
৯। অসহায় মানুষের ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করলে।
১০। সংগঠনের অফিস বা সভায় অশোভন আচরণ করলে।
৫.২ পদত্যাগ
যে কোনো সদস্য লিখিতভাবে সাধারণ সম্পাদক বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারবেন।
৫.৩ বহিষ্কার
প্রয়োজন হলে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কার্যনির্বাহী কমিটি সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত অথবা স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে পারবে।
অনুচ্ছেদ–৬
স্থায়ী কমিটি ও প্রতিষ্ঠাতা পরিষদ
৬.১ প্রতিষ্ঠাতা পরিষদ
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যগণ আজীবন প্রতিষ্ঠাতা পরিষদের সদস্য হিসেবে স্বীকৃত থাকবেন।
৬.২ স্থায়ী কমিটি
যারা সংগঠনের পরিকল্পনা, প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন, দীর্ঘদিনের সেবা এবং বিশেষ অবদানের মাধ্যমে সংগঠনের ভিত্তি শক্তিশালী করেছেন, তারা স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়ার যোগ্য হবেন।
৬.৩ স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মেয়াদ আজীবন হবে।
৬.৪ স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্য থেকে উপদেষ্টা নির্বাচন করা যাবে।
৬.৫ কোনো স্থায়ী সদস্য যদি সংগঠনের নীতিমালা বিরোধী কাজে জড়িত হন, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকেন অথবা টানা তিন মাস চাঁদা প্রদান না করেন, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তার পদ পুনর্বিবেচনা করা যাবে।
৬.৬ প্রতিষ্ঠাতা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া সংগঠনের মূলনীতি, আদর্শ ও গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করা যাবে না।
অনুচ্ছেদ–৭
কার্যনির্বাহী কমিটি
৭.১ কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ হবে ১ (এক) বছর।
৭.২ কার্যনির্বাহী কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে অথবা ভোটের মাধ্যমে গঠিত হবে।
৭.৩ শুধুমাত্র সক্রিয়, দায়িত্বশীল ও কর্মঠ সদস্যরা কার্যনির্বাহী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন।
৭.৪ কার্যনির্বাহী কমিটির পদসমূহ—
১। সভাপতি
২। সহ-সভাপতি
৩। সাধারণ সম্পাদক
৪। নির্বাহী পরিচালক
৫। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
৬। সাংগঠনিক সম্পাদক
৭। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক
৮। অর্থ সম্পাদক
৯। দপ্তর সম্পাদক
১০। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক
১১। শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক
১২। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিষয়ক সম্পাদক
১৩। সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক
১৪। ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক
১৫। পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক
১৬। আইন বিষয়ক সম্পাদক
১৭। ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক
১৮। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক
১৯। মহিলা বিষয়ক সম্পাদক
২০। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক
২১। তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক
২২। সদস্যবৃন্দ (প্রয়োজন অনুযায়ী)।
অনুচ্ছেদ–৮
কার্যনির্বাহী কমিটির দায়িত্ব ও ক্ষমতা
৮.১ সভাপতি
১। সংগঠনের সর্বোচ্চ নির্বাহী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
২। সকল সভায় সভাপতিত্ব করবেন।
৩। সংগঠনের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করবেন।
৪। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কার্যনির্বাহী কমিটিকে দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন।
৫। জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন, তবে পরবর্তী সভায় তা অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করতে হবে।
৮.২ সহ-সভাপতি
১। সভাপতিকে দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করবেন।
২। সভাপতির অনুপস্থিতিতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
৩। অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে সম্পন্ন করবেন।
৮.৩ সাধারণ সম্পাদক
১। সংগঠনের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
২। সকল সভার নোটিশ প্রদান, কার্যবিবরণী প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করবেন।
৩। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সকল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন।
৪। সদস্যদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করবেন।
৫। সংগঠনের সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
৮.৪ নির্বাহী পরিচালক
১। নির্বাহী পরিচালক সংগঠনের দৈনন্দিন কার্যক্রম সমন্বয় করবেন।
২। প্রতিষ্ঠাতা ও কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নেতৃত্ব প্রদান করবেন।
৩। প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি করবেন।
৪। পরিচালকের দায়িত্ব পালনকালে সংগঠনের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
৫। পরিচালকের বিষয়ে গঠনতন্ত্রে বর্ণিত বিশেষ বিধান প্রযোজ্য হবে।
৮.৫ অর্থ সম্পাদক
১। সকল আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করবেন।
২। রশিদ ও ভাউচার সংরক্ষণ করবেন।
৩। ব্যাংক হিসাব পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করবেন।
৪। প্রতি মাসে আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন।
৫। বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন।
৮.৬ সাংগঠনিক সম্পাদক
১। নতুন সদস্য সংগ্রহ করবেন।
২। সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
৩। সকল ইউনিটের সাথে সমন্বয় করবেন।
৮.৭ দপ্তর সম্পাদক
১। সকল অফিসিয়াল নথিপত্র সংরক্ষণ করবেন।
২। সদস্য নিবন্ধন ও রেকর্ড হালনাগাদ করবেন।
৮.৮ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক
১। ফাউন্ডেশনের সকল প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
২। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পরিচালনা করবেন।
৩। প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও প্রকাশনা প্রস্তুত করবেন।
৮.৯ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক
১। ওয়েবসাইট, ডাটাবেজ ও ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণ করবেন।
২। তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
৮.১০ অন্যান্য সম্পাদকবৃন্দ
নিজ নিজ দায়িত্ব অনুযায়ী সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবেন।
অনুচ্ছেদ–৯
প্রতিষ্ঠাতা, পরিচালক ও বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ পরিষদ
৯.১ প্রতিষ্ঠাতা
প্রতিষ্ঠাতা সংগঠনের মূল আদর্শ, লক্ষ্য ও গঠনতন্ত্রের রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
৯.২ প্রতিষ্ঠাতার ক্ষমতা
১। গঠনতন্ত্র সংশোধনের বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করবেন।
২। স্থায়ী প্রকল্প, বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির অনুমোদন দেবেন।
৩। কার্যনির্বাহী কমিটি, পরিচালক, নীতিনির্ধারক পরিষদ ও এলিট কাউন্সিলের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
৪। এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর করবেন না; সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতকে গুরুত্ব দেবেন।
৯.৩ পরিচালক
১। এনামুল হক রবি সংগঠনের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
২। পরিচালক সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালন করতে অপারগ হলে প্রতিষ্ঠাতার অনুমোদনে একজন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নিয়োগ করা যাবে।
৩। পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে প্রতিষ্ঠাতা পরিষদ, এলিট কাউন্সিল ও নীতিনির্ধারক পরিষদ যৌথভাবে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
অনুচ্ছেদ–১০
এলিট কাউন্সিল (প্রেরণা দাতা পরিষদ)
১০.১ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এলিট কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন।
১০.২ এলিট কাউন্সিল সংগঠনের সর্বোচ্চ সম্মানজনক পরামর্শদাতা পরিষদ হিসেবে বিবেচিত হবে।
১০.৩ এলিট কাউন্সিল সংগঠনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নীতি নির্ধারণ ও পরামর্শ প্রদান করবে।
১০.৪ কোনো সদস্য নিষ্ক্রিয়, নীতিমালা বিরোধী বা সংগঠনের মর্যাদা ক্ষুণ্ণকারী কাজে জড়িত হলে তদন্ত সাপেক্ষে তার এলিট কাউন্সিলের সদস্যপদ বাতিল করা যেতে পারে।
অনুচ্ছেদ–১১
উপদেষ্টা পরিষদ
১১.১ সংগঠনের উন্নয়ন, পরিকল্পনা ও পরামর্শ প্রদানের জন্য উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে।
১১.২ দেশ-বিদেশের সৎ, শিক্ষিত, অভিজ্ঞ ও সমাজে সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ উপদেষ্টা হতে পারবেন।
১১.৩ উপদেষ্টাগণ নীতিগত পরামর্শ প্রদান করবেন, তবে দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবেন না।
অনুচ্ছেদ–১২
সভা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ
১২.১ প্রতি বছর অন্তত একটি বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
১২.২ প্রয়োজন অনুযায়ী মাসিক, ত্রৈমাসিক ও জরুরি সভা আহ্বান করা যাবে।
১২.৩ মোট সদস্যের কমপক্ষে ৫০% উপস্থিত থাকলে কোরাম পূর্ণ হয়েছে বলে গণ্য হবে।
১২.৪ অধিকাংশ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
১২.৫ কোনো ব্যক্তি এককভাবে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন না।
১২.৬ সভার সকল সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
১২.৭ সভার কার্যবিবরণী ভবিষ্যতের জন্য অফিসে সংরক্ষণ করা হবে।
অনুচ্ছেদ–১৩
তহবিল, আয়-ব্যয় ও ব্যাংক হিসাব
১৩.১ সংগঠনের তহবিল নিম্নোক্ত উৎস থেকে গঠিত হবে—
১। সদস্যদের মাসিক চাঁদা।
২। এককালীন সদস্য উন্নয়ন অনুদান।
৩। দাতা সদস্যদের অনুদান।
৪। আজীবন সদস্যদের অনুদান।
৫। দেশি ও প্রবাসী শুভানুধ্যায়ীদের অনুদান।
৬। স্পন্সরশিপ।
৭। বৈধ উৎস থেকে প্রাপ্ত দান।
৮। সংগঠনের অনুমোদিত প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত আয়।
১৩.২ হারাম, অবৈধ বা অন্যায়ভাবে উপার্জিত কোনো অর্থ সংগঠন গ্রহণ করবে না।
১৩.৩ সংগঠনের নামে একটি বা একাধিক ব্যাংক হিসাব খোলা যাবে।
১৩.৪ ব্যাংক হিসাব সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অর্থ সম্পাদকের মধ্যে যে কোনো দুইজনের যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে।
১৩.৫ সকল আয়-ব্যয়ের রশিদ, ভাউচার ও হিসাবপত্র সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক।
১৩.৬ প্রতি মাসে আয়-ব্যয়ের হিসাব সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।
১৩.৭ প্রতিবছর সংগঠনের হিসাব অডিট করা হবে।
১৩.৮ অডিট রিপোর্ট স্থায়ী কমিটি, কার্যনির্বাহী কমিটি ও প্রতিষ্ঠাতা পরিষদের নিকট উপস্থাপন করতে হবে।
অনুচ্ছেদ–১৪
সদস্যপদ ও সম্মাননা নীতি
১৪.১ মানবসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংগঠন সদস্যপদ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।
১৪.২ সদস্যপদের ধরণ—
১। Silver Member
২। Golden Member
৩। Platinum Member
৪। Diamond Member
১৪.৩ সদস্যপদের মেয়াদ এক (১) বছর হবে এবং নবায়নযোগ্য হবে।
১৪.৪ সদস্যপদ অনুযায়ী সার্টিফিকেট, ক্রেস্ট, সম্মাননা স্মারক বা উপহার প্রদান করা যাবে।
১৪.৫ মেম্বারশিপধারী ব্যক্তি চাইলে সংগঠনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, পরামর্শ প্রদান এবং নির্ধারিত নিয়মে হিসাব পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন।
১৪.৬ প্রবাসী দাতা ও বিশেষ অবদানকারীদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হবে।
অনুচ্ছেদ–১৪(ক)
প্রকল্পভিত্তিক তহবিল ও অনুদান নীতিমালা
১৪(ক).১ সংগঠনের বার্ষিক বাজেটে অন্তর্ভুক্ত সকল মানবিক, সামাজিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ধর্মীয়, পরিবেশ, ত্রাণ, রক্তদান, ইফতার মাহফিল এবং অন্যান্য অনুমোদিত কর্মসূচির জন্য পৃথক প্রকল্পভিত্তিক অনুদান গ্রহণ করা যাবে।
১৪(ক).২ দেশের অভ্যন্তরে ও প্রবাসে অবস্থানরত সদস্য, দাতা সদস্য, আজীবন সদস্য, শুভানুধ্যায়ী, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণ স্বেচ্ছায় যেকোনো প্রকল্পে অথবা সংগঠনের সাধারণ তহবিলে অনুদান প্রদান করতে পারবেন।
১৪(ক).৩ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্পের জন্য অনুদান প্রদান করলে সেই অর্থ শুধুমাত্র উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেই ব্যয় করা হবে। কার্যনির্বাহী কমিটির যথাযথ সিদ্ধান্ত এবং দাতার সম্মতি ব্যতীত অন্য কোনো খাতে সেই অর্থ ব্যয় করা যাবে না।
১৪(ক).৪ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট প্রকল্প উল্লেখ না করে সংগঠনের সার্বিক উন্নয়ন ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে অনুদান প্রদান করলে সেই অর্থ সংগঠনের "সাধারণ তহবিল (General Fund)"-এ জমা হবে। এই তহবিল থেকে কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদনক্রমে বার্ষিক বাজেটে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন কর্মসূচি, মানবিক সহায়তা, প্রশাসনিক ব্যয়, জরুরি সহায়তা এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে।
১৪(ক).৫ সংগঠনের বার্ষিক বাজেটে অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি কর্মসূচি ও প্রকল্পে সদস্য, শুভানুধ্যায়ী, দাতা সদস্য, প্রবাসী সদস্য এবং সাধারণ জনগণ স্বেচ্ছায় অনুদান প্রদান করতে পারবেন। উক্ত অনুদান সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বাজেটকে শক্তিশালী করবে এবং প্রকল্পের কার্যক্রম আরও বিস্তৃতভাবে বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হবে।
১৪(ক).৬ প্রতিটি প্রকল্পের জন্য পৃথক আয়-ব্যয়ের হিসাব, রশিদ, ভাউচার ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে সাধারণ তহবিলের আয়-ব্যয়ের পৃথক হিসাবও সংরক্ষণ ও নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে।
১৪(ক).৭ সংগঠনের নামে প্রাপ্ত সকল অনুদান শুধুমাত্র গঠনতন্ত্রে বর্ণিত মানবকল্যাণমূলক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহার করা হবে। কোনো সদস্য, কর্মকর্তা বা ব্যক্তি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সংগঠনের তহবিল ব্যবহার করতে পারবেন না।
১৪(ক).৮ সংগঠনের সকল প্রকল্পভিত্তিক তহবিল ও সাধারণ তহবিলের আয়-ব্যয় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সততার সঙ্গে পরিচালিত হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সদস্যদের অবগত করার জন্য আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
অনুচ্ছেদ–১৫
ডিজিটাল নীতিমালা
১৫.১ অনুমতি ছাড়া সংগঠনের নাম, লোগো বা পরিচয় ব্যবহার করা যাবে না।
১৫.২ অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ, গ্রুপ, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ও ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
১৫.৩ সদস্যদের ব্যক্তিগত তথ্য অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা যাবে না।
১৫.৪ সংগঠনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, মিথ্যা তথ্য বা মানহানিকর পোস্ট করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৫.৫ সকল ডিজিটাল নথি নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
অনুচ্ছেদ–১৬
মেসেঞ্জার ও যোগাযোগ নীতিমালা
১৬.১ অফিসিয়াল গ্রুপে শুধুমাত্র সংগঠন-সম্পর্কিত বার্তা আদান-প্রদান করা যাবে।
১৬.২ অপ্রয়োজনীয় মেসেজ, ভয়েস, ভিডিও, স্টিকার বা ইমোজি পাঠানো নিরুৎসাহিত করা হবে।
১৬.৩ গ্রুপে অশালীন, রাজনৈতিক বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
১৬.৪ নিয়ম ভঙ্গকারী সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুচ্ছেদ–১৭
অফিস পরিচালনা নীতিমালা
১৭.১ অফিসে সকলকে শৃঙ্খলা ও সৌজন্য বজায় রাখতে হবে।
১৭.২ ধূমপান, মাদক, জুয়া, অশোভন আচরণ, উচ্চস্বরে গান বাজানো বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
১৭.৩ অফিসের আসবাবপত্র ও সম্পদের যত্ন নেওয়া সকল সদস্যের দায়িত্ব।
১৭.৪ অফিসের পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
১৭.৫ অফিসে সংরক্ষিত নথিপত্র অনুমতি ছাড়া বাইরে নেওয়া যাবে না।
১৭.৬ অশালীন, রাজনৈতিক বা বিভ্রান্তিকর আলোচনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
অনুচ্ছেদ–১৮
ছবি, ভিডিও ও প্রচার নীতিমালা
১৮.১ অসহায় ব্যক্তি বা রোগীকে সাহায্য করার সময় তার সম্মানহানি হয় এমন ছবি বা ভিডিও ধারণ ও প্রচার করা যাবে না।
১৮.২ সংগঠনের অনুষ্ঠান, বৃক্ষরোপণ, রক্তদান, প্রশিক্ষণ, সভা ও সামাজিক কার্যক্রমের ছবি ও ভিডিও প্রচার করা যাবে।
১৮.৩ মানবিক সহায়তাকে প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে হলে গ্রহিতার ফেস দেখনো যাবে না।
১৮.৪ এ নীতিমালা লঙ্ঘন করলে তদন্ত সাপেক্ষে সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিল করা যেতে পারে।
অনুচ্ছেদ–১৯
জরুরি তহবিল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
১৯.১ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্ঘটনা, অপারেশন, চিকিৎসা বা জরুরি মানবিক প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য একটি পৃথক জরুরি তহবিল থাকবে।
১৯.২ জরুরি তহবিলের অর্থ শুধুমাত্র কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত এবং সভাপতির অনুমোদনের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে।
১৯.৩ জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একটি জরুরি সেল/টিম গঠন করা হবে।
১৯.৪ এই তহবিলের সকল আয়-ব্যয় আলাদা রেজিস্টারে সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক।
অনুচ্ছেদ–২০
প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন
২০.১ সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রতি বছর অন্তত একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করা হবে।
২০.২ প্রশিক্ষণের বিষয়সমূহ—
১। প্রাথমিক চিকিৎসা (First Aid)
২। রক্তদান সচেতনতা
৩। নেতৃত্ব ও সংগঠন পরিচালনা
৪। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
৫। সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা
৬। নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ
২০.৩ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ সকল সক্রিয় সদস্যের জন্য উৎসাহিত ও বাধ্যতামূলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
অনুচ্ছেদ–২১
পরিবেশ সুরক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা
২১.১ সংগঠন নিয়মিত বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করবে।
২১.২ প্লাস্টিক দূষণ রোধ, পানি সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষায় সদস্যদের সচেতন করা হবে।
২১.৩ পরিবেশ বিপর্যয় মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণকে যুক্ত করা হবে।
অনুচ্ছেদ–২২
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সহায়তা নীতি
২২.১ সংগঠন জরুরি চিকিৎসা সহায়তা, রক্তদান এবং স্বাস্থ্য ক্যাম্প পরিচালনা করবে।
২২.২ দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহায়তায় আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
২২.৩ প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স ও হাসপাতাল সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে।
অনুচ্ছেদ–২৩
খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক নীতি
২৩.১ সংগঠন শুধুমাত্র সদস্যদের জন্য সীমিত পরিসরে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারবে।
২৩.২ বাইরের দল বা অন্য সংগঠনের সাথে প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলা আয়োজন করা হবে না, যদি না কমিটি বিশেষভাবে অনুমোদন দেয়।
২৩.৩ সকল খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বজায় রাখতে হবে।
২৩.৪ সংগঠনের নাম ব্যবহার করে অনুমতি ছাড়া কোনো টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করা যাবে না।
অনুচ্ছেদ–২৪
প্রবাসী সদস্য ও আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ
২৪.১ প্রবাসী সদস্যরা অনলাইনের মাধ্যমে সংগঠনের সকল কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
২৪.২ প্রবাসী দাতা ও সদস্যদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হবে।
২৪.৩ প্রবাসীদের অবদান সংগঠনের অফিসিয়াল রিপোর্ট ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।
২৪.৪ প্রবাসীদের জন্য আলাদা সমন্বয় টিম থাকবে।
অনুচ্ছেদ–২৫
নারী সদস্য অংশগ্রহণ নীতি
২৫.১ নারী সদস্যরা সমান সুযোগে সংগঠনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
২৫.২ তাদের জন্য নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করতে হবে।
২৫.৩ নারী সদস্যদের নেতৃত্ব ও প্রশিক্ষণে সমান অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে।
অনুচ্ছেদ–২৬
বার্ষিক মূল্যায়ন ও পুরস্কার
২৬.১ প্রতি বছর সংগঠনের কার্যক্রম, সদস্যদের অংশগ্রহণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার মূল্যায়ন করা হবে।
২৬.২ ভালো পারফরম্যান্সকারী সদস্যদের পুরস্কৃত করা হবে।
২৬.৩ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হবে—
১। সেরা স্বেচ্ছাসেবক
২। সেরা দাতা সদস্য
৩। সেরা রক্তদাতা
৪। সেরা সংগঠক
২৬.৪ পুরস্কার হতে পারে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট বা সম্মাননা।
অনুচ্ছেদ–২৭
তথ্য প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা নীতি
২৭.১ সংগঠনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সুরক্ষিত রাখতে হবে।
২৭.২ সদস্যদের ব্যক্তিগত তথ্য অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা যাবে না।
২৭.৩ অনলাইনে অপপ্রচার বা সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুচ্ছেদ–২৮
স্বচ্ছতা ও তথ্য অধিকার
২৮.১ সংগঠনের সকল আর্থিক তথ্য স্বচ্ছভাবে সংরক্ষণ করা হবে।
২৮.২ সদস্যরা নির্ধারিত নিয়মে হিসাব দেখতে পারবেন।
২৮.৩ গোপনীয় তথ্য অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা যাবে না।
অনুচ্ছেদ–২৯
শৃঙ্খলা ও সংঘর্ষ নিরসন
২৯.১ সদস্যদের মধ্যে বিরোধ হলে প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।
২৯.২ সমাধান না হলে শৃঙ্খলা কমিটি তদন্ত করবে।
২৯.৩ শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
অনুচ্ছেদ–৩০
গঠনতন্ত্র সংশোধন নীতি
৩০.১ গঠনতন্ত্র পরিবর্তন, সংযোজন বা বিয়োজন করতে হলে প্রতিষ্ঠাতা পরিষদ, নীতিনির্ধারক পরিষদ ও কার্যনির্বাহী কমিটির সর্বসম্মত অনুমোদন লাগবে।
৩০.২ পরিবর্তনের কারণ লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
৩০.৩ অনুমোদন ছাড়া কোনো সংশোধন কার্যকর হবে না।
অনুচ্ছেদ–৩১
শপথ
আমি ................................................. এই মর্মে শপথ করিতেছি যে—
১। আমি সংগঠনের আদর্শ, নীতি ও গঠনতন্ত্র মেনে চলব।
২। আমি মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখব।
৩। আমি সংগঠনের মর্যাদা রক্ষা করব।
৪। আমি ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে সংগঠনের স্বার্থকে প্রাধান্য দেব।
আল্লাহ আমাকে এই শপথ পালনের তৌফিক দান করুন। আমিন।
অনুচ্ছেদ–৩২
উত্তরাধিকার ও দায়িত্ব হস্তান্তর নীতি
৩২.১ কোনো পদ শূন্য হলে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে নতুন নিয়োগ/নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
৩২.২ দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় পূর্ববর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সকল নথি, হিসাব, চাবি, ফাইল ও তথ্য নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তকে লিখিতভাবে বুঝিয়ে দেবেন।
৩২.৩ দায়িত্ব হস্তান্তর একটি অফিসিয়াল হ্যান্ডওভার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।
অনুচ্ছেদ–৩৩
ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা নীতি
৩৩.১ সকল সদস্যের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্মান ও সহযোগিতার সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
৩৩.২ ব্যক্তিগত সমস্যা থাকলেও তা সংগঠনের শৃঙ্খলা ও নীতিমালার মধ্যে সমাধান করতে হবে।
৩৩.৩ মানবিক সহযোগিতায় কোনো বৈষম্য করা যাবে না।
অনুচ্ছেদ–৩৪
তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের নৈতিকতা
৩৪.১ সংগঠনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম শুধুমাত্র মানবিক ও সংগঠনমূলক কাজে ব্যবহার করা যাবে।
৩৪.২ কোনো ধরনের গুজব, অপপ্রচার, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা নিষিদ্ধ।
৩৪.৩ অনুমতি ছাড়া কোনো সদস্যের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা যাবে না।
অনুচ্ছেদ–৩৫
জরুরি স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নীতি
৩৫.১ জরুরি চিকিৎসা সহায়তা, রক্তদান ও অ্যাম্বুলেন্স সহযোগিতার জন্য সংগঠন প্রস্তুত থাকবে।
৩৫.২ অফিসে প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক।
৩৫.৩ দুর্যোগকালীন সময়ে দ্রুত উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
অনুচ্ছেদ–৩৬
আর্থিক শৃঙ্খলা ও অডিট নীতি
৩৬.১ প্রতি বছর বাধ্যতামূলকভাবে আর্থিক অডিট সম্পন্ন করতে হবে।
৩৬.২ অডিট রিপোর্ট কার্যনির্বাহী কমিটি ও স্থায়ী কমিটি দ্বারা অনুমোদিত হতে হবে।
৩৬.৩ কোনো আর্থিক অনিয়ম প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অনুচ্ছেদ–৩৭
সামাজিক মর্যাদা ও আচরণবিধি
৩৭.১ সকল সদস্যকে শালীনতা, শৃঙ্খলা ও সৌজন্য বজায় রাখতে হবে।
৩৭.২ সংগঠনের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করা যাবে না।
৩৭.৩ সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে এমন কোনো কাজ করা যাবে না।
অনুচ্ছেদ–৩৮
প্রবাসী ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক
৩৮.১ প্রবাসী সদস্যরা অনলাইন সভা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে পারবেন।
৩৮.২ প্রবাসীদের অবদান ফাউন্ডেশনের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে।
৩৮.৩ প্রবাসীদের জন্য আলাদা যোগাযোগ ও সমন্বয় টিম থাকবে।
অনুচ্ছেদ–৩৯
বিশেষ পরিষদ ও নীতিনির্ধারণ কাঠামো
৩৯.১ প্রতিষ্ঠাতা পরিষদ, স্থায়ী কমিটি, এলিট কাউন্সিল ও নীতিনির্ধারক পরিষদ যৌথভাবে সংগঠনের মূল নীতিমালা নির্ধারণ করবে।
৩৯.২ কোনো বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই পরিষদগুলোর মতামত বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ করতে হবে।
৩৯.৩ সংগঠনের মূল আদর্শ পরিবর্তন করা যাবে না।
অনুচ্ছেদ–৪০
চূড়ান্ত অনুমোদন ও ঘোষণা
৪০.১ এই গঠনতন্ত্র ও নীতিমালা মাজগ্রাম জীবনরেখা ফাউন্ডেশনের সকল সদস্যের জন্য বাধ্যতামূলক।
৪০.২ এটি সংগঠনের অফিসিয়াল দলিল হিসেবে গণ্য হবে।
৪০.৩ সকল পূর্ববর্তী মৌখিক বা অনানুষ্ঠানিক নিয়ম এই গঠনতন্ত্রের অধীনে থাকবে।
৪০.৪ সংগঠনের স্বার্থে প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে সংশোধন করা যাবে, তবে তা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী হতে হবে।
অনুমোদন পৃষ্ঠা
আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারীগণ এই মর্মে স্বীকার ও অনুমোদন করছি যে, উপরোক্ত “মাজগ্রাম জীবনরেখা ফাউন্ডেশন” এর গঠনতন্ত্র, নীতিমালা ও ঘোষণা পত্র আমরা সম্পূর্ণভাবে পড়েছি, বুঝেছি এবং তা মেনে চলতে সম্মত হয়েছি।
প্রতিষ্ঠাতা
প্রধান উদ্যোক্তা
এস এইচ সোহাগ
সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক
এনামুল হক রবি
প্রতিষ্ঠান:
মাজগ্রাম জীবনরেখা ফাউন্ডেশন
শিলাইদহ, কুমারখালী, কুষ্টিয়া