07/10/2024
বন্যার্তদের পুনর্বাসনে রোটারি ক্লাবের উদ্যোগ:
প্রকল্প:
২টি বাড়ি, ২টি টিউবওয়েল, ১টি টয়লেট ও ৪৫টি গৃহস্থালি সামগ্রী।
সহযোগিতায়: রোটারি ক্লাব অব কুষ্টিয়া, রোটারি ক্লাব অব কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া ও সৌহার্দ্য ফাউন্ডেশন।
আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বুড়বুড়িয়া গ্রামে ঘুরে যে দুর্দশার চিত্র দেখা গেল, তা ভাষায় প্রকাশ করা অত্যন্ত কঠিন। ভেঙে যাওয়া বাঁধের ধাক্কায় এলাকার প্রায় ১৫০টি বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। কাঁচা-পাকা বাড়িগুলো পানির প্রবল চাপে এক নিমিষে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে, আর বিশাল গাছগুলো যেন মাটির সাথে মিশে গেছে। কেউ কেউ তাদের ঘরের মাটি হারিয়ে নদীর রেখা তৈরি হয়েছে, যেন সেখানে কোনোদিন কিছুই ছিল না। পাকা ছাদের ঘরগুলোও এই প্রলয়ের সামনে দাঁড়াতে পারেনি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, যারা একসময় এই এলাকায় জীবনের স্বপ্ন দেখেছিল, তারা আজ শূন্য হাতে হাহাকার করছে।
ঘরের ছাদ, দেয়াল, মাটি—সব হারিয়ে এখন অনেকেই আশ্রয়হীন। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা, যারা একসময় নিজেদের বাড়িতে হাসিখুশিতে দিন কাটাত, আজ তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে আশ্রয়ের খোজে, ভালো জামাকাপড় এটা স্বপ্নের মতো। লেখা পড়ার, বই, খাতা, সেতো পানির জলে ভেসে গেছে যা গত ৫০ বছরে ও এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর দেখেনি। একটি ছোট্ট ছেলেকে দেখা গেল, তার জীর্ণ শীর্ণ ধূসর চোখের দিকে তাকালে দুর্দশার চিহ্ন পাওয়া যায় পরনের ময়লা কাপড়। আহ্ কি অসহায় অবস্থা। তাদের বাড়িটা পানির তোড়ে ভেঙে গেছে। তাদের পরিবারের সদস্যরা শোকে নিস্তব্ধ হয়ে আছে, আবার কেউ হতাশা ভর করেছে, কীভাবে এই ধ্বংসস্তূপ থেকে তারা ঘুরে দাঁড়াবে। এভাবে কারোর সাহায্যর অপেক্ষা করে বসে থাকা ছাড়া তাদের হাতে আর কোনো উপায় নেই।
এই অবস্থায় রোটারি ক্লাব অব কুষ্টিয়া এবং রোটারী ক্লাব অব কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ার যৌথ উদ্যোগ সত্যিই মানবিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। পাশাপাশি সৌহার্দ্য ফাউন্ডেশন টিউবওয়েল প্রদান করে সহযোগিতা করেছেন।
নির্মিত ২টি বাড়ি, ২টি টিউবওয়েল, ১টি টয়লেট ও ৪৫টি গৃহস্থালি সামগ্রী প্রদান যা বন্যার্ত মানুষের জন্য এক নতুন আশ্রয়ের দিশা। প্রকৃতির নির্মম আঘাতে যারা সব হারিয়েছে, তাদের জন্য এই ঘরগুলো শুধু চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এক নতুন স্বপ্নের সূচনা। যারা এতদিন ধরে আশ্রয়ের অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের জন্য আজকের দিনটি এক নতুন জীবনের শুরু।
তবে আমরা অবাক হয়েছি যে রোটারি ক্লাব অব কুষ্টিয়া এবং রোটারী ক্লাব অব কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ার যৌথ উদ্যোগ সর্বপ্রথম কোন বাড়ি করে দিয়েছে। তবে এখানে থেমে গেলে চলবে না। এই ধ্বংসের পরে যে পুনর্গঠন প্রয়োজন, তা কেবল কয়টা ঘর দিয়েই শেষ নয়। আমাদের, যারা সচ্ছল অবস্থানে আছি, তাদের এগিয়ে আসা অত্যন্ত প্রয়োজন। আমাদের অর্থ, সামর্থ্য, ও সহানুভূতি দিয়ে এই বিপর্যস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে হবে। সমাজের সামর্থ্যবানরা যদি একত্রিত হয়ে এই দুর্দশাগ্রস্ত মানুষদের জন্য কাজ করেন, তবে এই ধ্বংসের মধ্য থেকেও তারা নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
এই উদ্যোগে আজ যেসব মানুষ নতুন ঘর পেয়েছে, তারা কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে এবং নতুন করে স্বপ্ন দেখছে। এই উদ্যোগ আমাদের সকলকে অনুপ্রাণিত করে আরও বেশি মানবিক হতে, একে অপরের পাশে দাঁড়াতে। আমরা যদি সবাই মিলে সাহায্যের হাত বাড়াই, তবে একদিন এই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোও তাদের হারানো জীবন পুনরুদ্ধার করতে পারবে।