11/04/2026
#মেধার_আবর্তে_বর্বর_খুনীরা!
বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যার কথা নিশ্চয় আমরা ভুলে যাইনি! বন্য পশুকেও মানুষ এমন নির্দয় ভাবে খুন করেনা যেভাবে তাকে করা হয়েছিল। খুনিদের সবাই ছিল ঐ বুয়েটেরই ছাত্র। বাংলাদেশের কনটেক্সটে বুয়েট এমন একটা শিক্ষাঙ্গনের নাম যার সবটা জুড়ে আছে মেধা, ঐতিহ্য আর সাফল্যের কাহিনী। ঐ প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পায় কেবল মেধাবীরা।
আবরারের খুনিরাও নিশ্চয় মেধাবী ছিল। স্কুল আর কলেজ আঙ্গিনা ঘাঁটলে তাদেরও অনেক সাফল্যের উপাত্ত পাওয়া যাবে। এসব সাফল্য কি তাদের খুনের দায়মুক্তি দেয়?
শেখ হাসিনার অবৈধ নির্বাচনের সংসদে স্পীকার ছিলেন জনাবা শিরিন শারমীন। এবং তা লম্বা সময় ধরে। তিনি গ্রেফতার হয়েছেন পুলিশের হাতে এবং জামিন না হওয়ায় জেলের ভাত খাচ্ছেন। এই মহিলার অতীত নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া এখন গরম। মানবিক বিভাগে এসএসসিতে প্রথম এইচএসসিতে দ্বিতীয়, বিলাতের এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় হতে পিএইচডি, বাবার বিশাল নাম, বড় বড় সাইনবোর্ড, এসব তরজমা করে অনেকে বুঝানোর চেষ্টা করেছেন এমন একজন 'মহামানবী'কে গ্রেফতার করা ঠিক হয়নি। শেখ মুজিবের রাজনৈতিক স্তুতি বন্দনা করতে গেলে যেমন বাকশাল পর্ব উহ্য রাখতে হয়, তেমনি এই মেধাবী মহিলার সোনালী অতীত টানতে গিয়ে শেখ হাসিনার ১৭ বছরে তার জীবনকেও কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়।
আমরা বোধহয় হিসাবে কষতে কিছু ভুল করছি। ধরে নিয়েছি ২৪'এর উত্তাল দিনগুলোতে দেশের পুলিশ, বিডিআর ও সেনাবাহিনী স্বপ্রনোদিত হয়ে মারনাস্ত্র হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমেছিল। হেলিকপ্টার হতে গুলি চালিয়েছিল। রাস্তায় খুন করে লাশ ভ্যানের উপর স্তূপ দিয়ে সে স্তূপে আগুনে গুম করেছিল লাশের পরিচয়। আসলেই কি তাই? ১৪০০ মানুষ খুনের দায়-দায়িত্ব কি কেবলই পুলিশ আর সেনাবাহিনীর? তাদের যারা মাঠে নামিয়েছিল তাদের কি কোন দায়-দায়িত্ব নেই?
২৪'শের জুলাই-আগস্টে রাজপথের রক্তাক্ত বাধা ছিল তৎকালীন সরকারের একটি কোঅর্ডিনেটেড এফোর্ট। তার সাথে জড়িত ছিল রাজনীতি, অর্থনীতি আর ক্ষমতা ধরে রাখার অসূস্থ ইচ্ছা। এ অধ্যায়ে চালকের আসনে ছিলেন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা। তার সাথে ছিল বিশ্বস্ত উজির নাজির কোতোয়ালের দল। তাদের সবাইকে নিয়েই শেখ হাসিনা পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল। শিরিন শারমীন কি সে সময় ছায়া হয়ে শেখ হাসিনার সাথে ছিলেন না? নাকি তিনিও আবু সাইদদের মিছিলে নেমে প্রতিবাদে ব্যস্ত ছিলেন?
অন্দরমহল ঘাঁটলে শোনা যায় স্বঘোষিত গুম হওয়ার আগে শিরিন শারমীনের মত মেধাবীদের অনেকে দফায় দফায় প্রিয় নেত্রীর কাছে ফোন করে আরও কঠোর হওয়ার আবদার করছিলেন। আশা-নিরাশার শেষ সম্বল এই নেত্রী তার শিষ্যদের বিমুখ করেননি। গণহত্যা ছিল তারই ধারাবাহিকতার ফসল।
স্পীকারের চেয়ার বসে অবৈধ শাসনকে যারা লম্বা করতে সহযোগিতা করেছে তারাও সমান অপরাধী। স্বৈরাচারের ক্ষমতা যত দীর্ঘ হয়েছে তার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে গুম, খুন আর লুটপাট। আইনের চোখে হাসিনার চাইতে কোন বিচারেই কম অপরাধী না এই শিরিন শারমীন।
(সংগৃহীত)