02/12/2022
বাচ্চাদের বুঝাবেন, You are the part of this home. তুমি এই ফ্যামিলির একটা পার্ট। কিছু ডিউটি তোমারও আছে। এটা করতে হবে তোমাকে । মশারিটা টাঙাও, ঘরটা পরিষ্কার করো, কাপড়টা গোছাও । আমিতো আমার অভিজ্ঞতায় বলি, মা-বোনদের প্রতি, এমনকি আমাদের স্ত্রীদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ নই। একদিন আপনাকে দিলাম একটি ওয়ারড্রোব গোছাবেন, একটি আলনা গোছাবেন, প্রত্যেকটা জিনিস ঠিকঠাক করে রাখবেন। এরপর আপনার বাচ্চা যখন ওর নিজের জামাকাপড় খুঁজতে যায়, একটা টান দিয়ে তিনটা ফেলবে, পিটিয়ে লাল করে দিতে মন চাইবে। ঠিক কি-না? আপনারা ‘ঠিক’ বলবেন কেমন করে? কারণ আপনারা তো এ কাজ করেন না। ঠিক বললে তো হবে না, প্রিয় ভাইয়েরা, করে দেখেন, It is a tough job. আমরা মনে করি, এটা তো বৌদের ডিউটি, এখনও জিনিসগুলো এলোমেলা করে রেখে দিয়েছ? ওরে বাবা! কি একটা ভাব আমরা নিয়ে আছি। গোছান না আপনি একদিন। আপনিও তো পরিবারের একটা পার্ট, করে দেখেন না একদিন। প্রিয় ভাইয়েরা, করলে বুঝতে পারবেন, এটা মেয়েদের জন্য কত কঠিন ডিউটি! কিছু না, তিন দিন শুধু রান্না করে খেয়ে দেখেন। শুধু খেয়ে দেখেন ৩ দিন! আপনি আমি বিরক্ত হয়ে যাই। আজকে কী রান্না করব বলো তো? করো একটা, করো যেটা মন চায় করো, এতো শোনার কি আছে? ফ্রিজ ভর্তি জিনিস আছে তো! ওরে বাবা, উনি রান্না করবেন, উনি খাওয়াবেন, আপনাকে জাস্ট একটু বলেছে, আজকে কী রান্না করলে ভালো হয়? আপনার সেটা বলতেও রুচে না! তিন দিন রান্না করেন আপনি। একদম ধারাবাহিক রান্না- সকালের নাস্তা ঠিকমতো, দুপুরের খাবার ঠিকমতো, রাতের খাবার ঠিকমতো। তিন দিনে আপনি বুঝতে পারবেন ঠেলা কি জিনিস! সঠিক সময়ে আমার সামনে খাবার চলে আসছে...। আমি তো মনে করি, আমিই কামাই করি, আমি সর্বেসর্বা। আমি না করলে কে করবে? বিরাট একটা ভাব নিয়ে আছেন। কিন্তু উল্টো একটু দুয়েকদিন খেয়ে দেখেন ভাই । সুতরাং কৃতজ্ঞ হওয়ার এখানেও জায়গা আছে। এই কৃতজ্ঞ যদি না হই..., কেন এ কথা বলছি...
من لم يشكر الناس لم يشكر الله.
আপনি যদি মানুষের কৃতজ্ঞ হতে না শেখেন, মানুষকে যদি ধন্যবাদ বলতে না শিখেন, আপনি কখনও প্রপারলি আপনার ক্রিয়েটর আল্লাহ রাব্বুল
আলামিনের প্রপার কৃতজ্ঞ হতে পারবেন না।
সুনান তিরমিযি, হাদীস : ১৯৫৫।
আপনি ন্যূনতম জায়গাতে ক্ষমা করতে পারেন না, ন্যূনতম জায়গাতে মানুষের সঙ্গে কৃতজ্ঞ হতে পারেন না, আপনি আবার রহমানুর রাহীমের কৃতজ্ঞ কেমন করে হবেন? আপনাদের কাছে বলেছি কিনা, হজের সময় একজন এসে বলছে, হুজুর, দোআ করেন, আল্লাহ যেন আমার পাপ-টাপ ক্ষমা করে দেন। আমি বললাম, তার আগে আপনার ডিউটি আপনি দুনিয়ার সব মানুষকে ক্ষমা করে দেন। হুজুর, সবাইকে ক্ষমা করতে পারব, একটা লোক, হুজুর! ইশ! এমন একটা কথা আমারে বলেছিল, কলিজাটা আমার ছিঁড়ে গেছে হুজুর, সবাইকে মাফ করলেও একে আমি মাফ করতে পারব না। আপনি মেহেরবানি করে এটা বাদ দিয়ে যা বলেন আমি সব করব। আমি বললাম, দুনিয়ার একটা সাধারণ মানুষ একটা কথা আপনাকে বলেছে, এই কথা আপনি মাফ করতে পারছেন না। আর আপনি আপনার রহমান রাহীমের ১ থেকে ৬২ বছর পর্যন্ত লক্ষ কোটি হুকুম মেনেছেন, লক্ষ কোটি হুকুম অমান্য
করেছেন, আল্লাহর লক্ষ কোটি নির্দেশে যা বলার ছিল সেটা না বলে অন্যদিকে বলেছেন, কীভাবে আপনার রহমান আপনাকে মাফ করবেন? আপনার মাফ পাওয়া সম্ভব নয়। লোকটা ভাবছে, সত্যিই এই কথাটা...। আমি মাফ না পাওয়ার সম্ভবনার কথা বলার কে ভাই? কিন্তু ওনার যেন একটু ধাক্কা লাগে, এজন্য এই রকম করে আমি বলেছি। এরপর বলছে, হুজুর, আমি ওরে মাফ করে দিলাম, আমি মনের মধ্যে কারও ব্যাপারে ধরে রাখলাম না। আমি বললাম, ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ আপনাকে মাফ করে দিবেন। হাদিসে তার প্রমাণ আছে। একজন সাহাবি এলেন। আল্লাহর নবী বললেন, যে আসবে সে জান্নাতি। সুবহানাল্লাহ। সাহাবায়ে কিরাম দেখলেন, অপরিচিত মানুষ, আননোন পারসন, আমরা চিনি না। তিনি ওমর, উসমানের মতো ফেমাস
সাহাবি নন, তারপরও কিন্তু? পরের দিন আল্লাহর নবী বললেন, এখন তোমাদের বেশে একজন জান্নাতি আসবে। সুবহানাল্লাহ। সেই লোকই আবার এসেছে! তৃতীয় দিনও বললেন একজন জান্নাতি...। সেই লোকই আবার এসেছে! একজন সাহাবি সঙ্গে সঙ্গে তার পিছু লেগে গেলেন। সুবহানাল্লাহ, আমরা চিনি না, এত বেশি পপুলার নয়। উনি আল্লাহর নবীর কাছে ৩ দিন পরপর এই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়ে গেল! আমি একটু খুঁজতে চাই, দেখি তো তার এমন কী আমল আছে। দীর্ঘ ঘটনা...। তার বাড়িতে থাকলেন, খবর নেওয়ার চেষ্টা করলেন, কিন্তু না, সারারাতে উঠে না, তাহাজ্জুদেও উঠে না, বেলাল যখন ফজরের আজান দিয়েছেন তখন মসজিদে নববিতে চলে গেলেন। এর আগে কোনো খবরই নেই। এশারনামাজের পর ঘুম দিয়েছেন ফজর পর্যন্ত, নাকডাকা অবস্থা। তিন দিন পর বলছে যে, ভাই, এসেছিলাম ভিন্ন উদ্দেশ্যে, আপনার মেহমান হওয়ার জন্য আসিনি | কিন্তু এখন চলে যাচ্ছি মনে বড় বেদনা নিয়ে। আল্লাহর নবী বললেন, আপনি জান্নাতি, কোনো একটা এক্সট্রা আমল দেখলাম না। শুধু ফরজ নামাজ পড়েন, আল্লাহর নবীর কথা শুনেন, বাড়িতে আসেন, সংসার করেন, এশার পরে ঘুমিয়ে পড়েন। কী ব্যাপার? উনি বলছেন, ভাই, আসলেও আমার এক্সট্রা কোনো আমল নেই। তবে একটি প্র্যাকটিস আমার জীবনে করি। আমি যখন রাতে শুতে যাই, ও আমার প্রিয়। হিংসা-বিদ্বেষ ধরে রাখি না। সবার কল্যাণ কামনা করে আমি ওই রাতে দুনিয়ার সব মানুষকে আমি মাফ করে দেই। কারও জন্য অন্তরে কোনো ঘুমাতে যাই। আমি জানি না, এটা আমার আমল কিনা। সাহাবি বললেন, 'ওয়াল্লাহি ওয়াল্লাহি ওয়াল্লাহি'। আল্লাহ আপনার এই আমল এত পছন্দ করেছেন যে, তাহাজ্জুদ না পড়ার পরও, রাত্রে এক্সট্রা আমল না করার পরও, অতি কমন সাহাবি হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর রাসূল তিন দিন আপনার ব্যাপারে জান্নাতি ঘোষণা করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ। দেখুন, আপনার আমার অন্তরের কেমন অবস্থা। ওই অন্তর যদিতৈরি না হয় কেমন করে আমরা কৃতজ্ঞ হব। আমরা কৃতজ্ঞ হতে পারছি না। প্রিয় ভাইয়েরা, এজন্য কৃতজ্ঞ হতে হবে। কৃতজ্ঞ হলে অন্তর তৈরি হবে, অন্তর তৈরি হলে বিদ্বেষ থাকবে না, বিদ্বেষ নেই তো জান্নাতে যাওয়ার রাস্তা মসৃণ হবে, ইনশাআল্লাহ।
“আপনি যদি মানুষের কৃতজ্ঞ হতে না শেখেন, মানুষকে যদি ধন্যবাদ বলতে না শিখেন, আপনি কখনও প্রপারলি আপনার ক্রিয়েটর আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রপার কৃতজ্ঞ হতে পারবেন না।।
#ইনসাইড_ইসলাম
Abdul Hi Muhammad Saifullah