29/05/2025
কুয়াকাটা, স্বপ্নের শহর ও কিছু স্বার্থান্বেষী চক্রান্তকারীর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা:
কুয়াকাটা—বাংলাদেশের এক টুকরো স্বপ্ন, যেখানে সূর্য ওঠে আর ডুবে একই সাগরের বুকে, যেখানে প্রতিটি ঢেউ যেন বলে যায় একেকটি জীবনের গল্প। সেই কুয়াকাটা যেন আজ কিছুকাল ধরে শুধু প্রকৃতির নয়, মানুষরূপী দুর্যোগেও জর্জরিত।
২০২১ সালের জানুয়ারিতে দলমতনির্বিশেষে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচিত হয়ে কুয়াকাটার দায়িত্ব নেন সাবেক মেয়র জনাব মোঃ আনোয়ার হাওলাদার। ছোটবেলা থেকে যিনি লালন করে এসেছেন একটিই স্বপ্ন—একটি আধুনিক, পর্যটনবান্ধব কুয়াকাটা গড়া। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে তাঁর অন্যতম দৃশ্যমান পদক্ষেপ ছিল সমুদ্রসৈকতের পাশ দিয়ে একটি সৌন্দর্যবর্ধক রাস্তা নির্মাণের কাজ, যা শুরু হয় ২০২৪ সালে।
এই রাস্তাটি শুধু ইট-পাথরের একটি নির্মাণ নয়, বরং এটি ছিল আমাদের ভবিষ্যতের জন্য একটি স্বপ্নের সেতুবন্ধন। যাতে পর্যটকরা নিরাপদ দূরত্ব থেকে সমুদ্রের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে, আর সৈকতটিও রক্ষা পায় যানবাহনের যান্ত্রিক দখলদারিত্ব থেকে।
এই প্রকল্পের পরিকল্পনায় ছিল দৃষ্টিনন্দন আরসিসি নির্মাণ, রঙিন মোজাইকে সজ্জিত সড়ক ও ফুটপাত, আকর্ষণীয় লাইটিং, বৃক্ষরোপণ, পর্যটকদের জন্য বিশ্রামের আয়োজন—সব মিলিয়ে এক স্বপ্নের নকশা। এক কথায়, এটি ছিল একটি নতুন কুয়াকাটার ইশতেহার।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এক শ্রেণির কুচক্রী মহল, যারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় অন্ধ হয়ে গেছেন। আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর মতো কুয়াকাটাও দুর্যোগপ্রবণ। প্রকৃতির নিয়মে প্রতিবছরই ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসে উপকূল ভাঙে, সৈকতের বালু ক্ষয় হয়। মেয়র থাকাকালীন জনাব আনোয়ার হাওলাদার সৈকত রক্ষায় ভাঙ্গনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে চেয়েছিলেন—নিজ উদ্যোগে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অনুরোধ করে জিও ব্যাগ বসানোর ব্যবস্থা করেন। কিন্তু তিনি মেয়র পদ থেকে সরে যাওয়ার পর সেই উদ্যোগ এই বছর আর আগায়নি। অনেক অনুরোধ সত্ত্বেও পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে এবছরে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ বছরের বর্ষা মৌসুমে সৈকত রক্ষায় তাই ছিল না কোনো প্রতিরোধ, কোনো প্রস্তুতি। আর ঠিক সেই মুহুর্তে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় “শক্তি” আঘাত হানে—নিশ্চিহ্ন করে দেয় উপকূলীয় বনাঞ্চল, ঘরবাড়ি, এমনকি সেই সৈকতের রাস্তার নির্মাণাধীন অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আর এই ক্ষণিক দুর্যোগকেই পুঁজি করে একদল কুচক্রী ব্যক্তি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয় রাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত অংশের ছবি—লাগিয়ে দেয় দুর্নীতির তকমা, ব্যবহার করে কুরুচিপূর্ণ ভাষা। তারা ভুলে গেছে, এটি এখনো একটি চলমান কাজ। অসমাপ্ত কাজে ত্রুটি /ক্ষয়প্রাপ্ত হলে তা সংশোধনযোগ্য— কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য গঠনমূলক নয়, ধ্বংসাত্মক।
প্রশ্ন উঠে—এই সমালোচনাকারীরা কি আদৌ কুয়াকাটাকে ভালোবাসেন? নাকি তারা কারও ইশারায় নিজেদের বিবেক বন্ধক রেখেছেন?
উপকূলীয় বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ একটি চরম বাস্তবতা। এই বাস্তবতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের উচিত ছিল—কিভাবে সমুদ্রকে রক্ষা করা যায়, কিভাবে পর্যটনের নতুন দ্বার উন্মোচন করা যায়, সেই ভাবনা। আমাদের প্রয়োজন দায়িত্বশীল সমালোচনা, গঠনমূলক অংশগ্রহণ। কিন্তু আমরা তা না করে যিনি আমাদের কুয়াকাটার জন্য ভাবছেন, স্বপ্ন দেখছেন, তার পেছনে ছুরি চালালাম।
আসুন, প্রতিহিংসার রাজনীতি ভুলে আমরা সামনের দিকে তাকাই। আসুন, আমরা কুয়াকাটার জন্য একসাথে কাজ করি। আসুন, আমরা সমুদ্রকে বাঁচাতে হাতে হাত রাখি। কারণ, সমুদ্র বাঁচলেই কুয়াকাটা বাঁচবে, আর কুয়াকাটা বাঁচলে, বাঁচবে এই জনপদের মানুষ, ইতিহাস, ও ভবিষ্যৎ।
(বি.দ্র.) যারা চোখ বন্ধ করে শুধু দুর্নীতির সুর তুলছেন, তাদের বলব—একটু গবেষণা করুন, খোঁজ নিন বাস্তবতা। হয়তো আপনি নিজেই অনুতপ্ত হবেন এই নেতিবাচক মনোভাবের জন্য।
পর্যটন উন্নয়ন ও সমুদ্ররক্ষার যুদ্ধে সবার অংশগ্রহণই জরুরি। আজ নয়তো কাল, আপনিও এই আন্দোলনের সৈনিক হবেন—সেই প্রত্যাশায়।
ধন্যবাদ।