হাওর উন্নয়ন ফাউন্ডেশন

হাওর উন্নয়ন ফাউন্ডেশন Haor development foundation was established in October 2013. Ten young men started this voluntary or

13/11/2024

যখন আমি বুড়ো হয়ে যাবো, একেবারে থুত্থুরে বুড়ো, তখন একটু আমার পাশে থাকবি ? একটু ধৈর্য ধরে রাখবি তো আমার ওপরে ? ধর, যদি তোর দামী কাচের বাসনটা আমার হাত থেকে পড়ে যায় হঠাৎ ? কিংবা, তরকারির বাটিটা উল্টে ফেলি টেবিলের উপরে ? আমি যে তখন অত ভালো দেখতে পাবো না রে ! আমাকে তুই চিৎকার করে বকিস না প্লিজ ! বুড়োরা যে সারাক্ষণ নিজেদেরই অবহেলিত মনে করতে থাকে, তুই জানিস না ?

আমি একদিন আর কানে শুনতে পাবো না, একবারে বুঝে ফেলবো না তুই কী বলছিস, তাই বলে আমাকে ‘বধির’ ডাকিস না ! লাগলে না হয় আরেকটাবার কষ্ট করে কথাটা বলিস, না হয় লিখেই দিলি কাগজে কলমে। আমাকে ক্ষমা করিস রে, আমি যে প্রকৃতির নিয়মে বুড়িয়ে গেছি , কী করবো বল ?

আর যখন আমার হাঁটু কাঁপবে, পা দুটো শরীরের ভার আর বইতে চাইবে না, তুই একটু ধৈর্য ধরে আমাকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করবি না, বল ? যেমন করে প্রথম হাঁটতে শিখেছিলি আমার পায়ের পাতার উপরে দাঁড়িয়ে, তেমনি করে ?

কখনো কখনো আমি ভাঙা রেকর্ড প্লেয়ারের মত বকবক করেই যাবো, তুই একটু শুনিস কষ্ট করে। আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করিস না প্লিজ, আমার বকবকানিতে অধৈর্য হয়ে যাস না রে। তোর মনে আছে, ছোট্টবেলায় তুই একটা বেলুনের জন্য কেমন ঘ্যানঘ্যান করেই যেতিস আমার কানের কাছে, যতক্ষণ না তোকে আমি সেটা কিনে দিতাম , মনে পড়ছে তোর ?

আমার গায়ের গন্ধটাকেও ক্ষমা করে দিস পারলে। আমার শরীরে বুড়োটে গন্ধ জন্মাচ্ছে! স্নান করার জন্য জোর করিস না তখন। আমার শরীরটা যে বড্ড দুর্বল থাকবে, একটু জল লাগলেই ঠাণ্ডা লেগে যাবে ! আমাকে দেখে নাক শিঁটকাস না প্লিজ ! মনে আছে, ছেলেবেলায় তোর পেছনে আমি ছুটতাম আর ছুটতাম, তুই স্নান করতে চাইতিস না বলে ? তুই বিশ্বাস কর, বুড়োদের এমনই হয়, হয়তো তুই বুঝবি একদিন, হয়তো… একদিন !

হাতে যদি সময় থাকে, আমরা একসাথে গল্প করবো, কেমন ? হোক না মাত্র কয়েকটা মুহূর্তের জন্য। আমি তো সারাদিন একাই থাকি, আমার সময় যে একা ফুরোয় না রে ! আমি জানি, তুই তোর কাজ নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত থাকবি, আমার বুড়ো হয়ে যাওয়া গল্পগুলো তোর শুনতে ভালো না লাগলেও একটু আমার পাশে থাকিস ? তোর মনে আছে, কত কতবার তোর ছোট্ট পুতুলের গল্প আমি শুনতাম, শুনেই যেতাম ? আর তুই বলেই যেতিস, বলেই যেতিস… আমিও তো তোকে অনেক গল্প বলতাম , মনে পড়ে তোর ?

একদিন আসবে, বিছানায় পড়ে থাকবো, আমার একটু যত্ন নিবি সেদিন ? আমাকে ক্ষমা করে দিস যদি ভুল করে বিছানা ভিজিয়ে ফেলি, যদি চাদরটা নোংরা করে দেই, আমার শেষ সময়টায় শুধু আমাকে ছেড়ে দূরে থাকিস না প্লিজ!

যখন সময় হবে, আমার হাতটা তোর মুঠোয় পুরে নিস। আমাকে একটু সাহস দিস যেন মৃত্যুকে আমি নির্ভয়ে আলিঙ্গন করতে পারি !

আর ভাবিস না, যখন আমি আমার স্রষ্টার দেখা পাবো, তাঁর কানে কানে ফিসফিসিয়ে বলবো, যেন তোর মঙ্গল করেন, কারণ তুই আমাকে ভালোবেসেছিলি, আমার বুড়ো সময়গুলোতে আমার যত্ন নিয়েছিলি !

তোকে অনেক অনেক ভালোবাসি রে , তুই ভালো থাকিস .... এটা ছাড়া আর কি বলার বা দেওয়ার আছে রে ।

(সংগৃহীত)
Dreamful Life

16/07/2023

ড. মুহাম্মদ খানী বলছেন - একদিন আমি আমার গাড়িতে বসে ছিলাম, হঠাৎ প্রায় ষোল বছর বয়সী এক কিশোর এসে আমাকে বলল, স্যার আমি কি আপনার গাড়ির সামনের গ্লাসগুলো পরিস্কার করে দিতে পারি?
আমি বললাম - হ্যাঁ।
সে যত্ন করে গ্লাস পরিষ্কার করে দিলে আমি তার হাতে ২০ ডলার গুঁজে দিলাম।ছেলেটি খানিক অবাক হয়ে বলল, আপনি কি আমেরিকায় থাকেন?আমি বললাম - হ্যাঁ। কেন?
সে বলল, আমি কি এই ২০ ডলারের বদলে সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্পর্কে কিছু কথা জানতে পারি?
আমি তার বিনয় ও লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ দেখে তাকে কাছে ডেকে নিয়ে আলাপ শুরু করে দিলাম।
আলাপের শেষ দিকে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম - তুমি এভাবে রাস্তায় গাড়ি পরিস্কারের কাজ করে বেড়াচ্ছ কেন , তুমি তো একজন মেধাবী ছাত্র?
উত্তরে সে বলল, আমার দু বছর বয়সেই আমার বাবা মারা যান। আমার মা মানুষের বাসায় কাজ করেন। আমি এবং আমার ছোট বোন বাইরে টুকটাক কাজ করে বেড়াই বাড়তি কিছু রোজগারের আশায় যা দিয়ে আমাদের লেখাপড়ার খরচ চলে। আমি শুনেছি আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নাকি মেধাবী ছাত্রদের উচ্চতর লেখাপড়ার জন্য স্কলারশিপ দেয়। আমার খুব ইচ্ছা সেখানে পড়ার।কিন্তু সেখানে আমাকে সাহায্য করার মত তো কেউ নেই।
আমি বললাম - চলো, আগে আমরা একসাথে ডিনার করি।
সে বলল, একটি শর্তে আপনার দাওয়াত কবুল করতে পারি। আর তা হল বিনিময়ে আমি আপনার গাড়ির পেছনের গ্লাসগুলোও পরিষ্কার করে দেব।
আমি কথা না বাড়িয়ে তা মেনে নিয়ে হোটেলে ঢুকলাম।খাবার অর্ডার করলে সে ওয়েটারকে বলল তারগুলো পার্সেল করে দিতে। সে বাসায় গিয়ে তার মা আর বোনকে নিয়ে খাবে। খেয়াল করলাম তার ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অসামান্য।
বিদায় বেলায় সিদ্ধান্ত হল সে তার কাগজপত্রগুলো আমাকে দিবে, আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করব।
এভাবে দীর্ঘ ছয়মাস পর আমি তাকে আমেরিকা এনে ভালো একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করতে সক্ষম হলাম।
সে তার তার মেধা ও অধ্যবসায়ের জোরে কয়েক বছরের মধ্যেই আধুনিক টেকনোলজির কনিষ্ঠ টেক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। নিউইয়র্ক টাইমসের পাতায় তাকে নিয়ে লিড নিউজ হলে সারা বিশ্বে হইচই পড়ে যায়।
তার ঈর্ষনীয় সফলতায় আমি ও আমার পরিবার যারপরনাই আনন্দিত হই। এদিকে তাকে না জানিয়ে তার মা ও বোনের ভিসা ব্যবস্থা করে আচমকা তার সামনে আমেরিকায় নিয়ে এসে তাকে বড়সড় সারপ্রাইজ দিয়ে চমকে দেই। তাদের দেখে সে বোবা বনে যায়। এমনকি কাঁদতে পর্যন্ত ভুলে যায়।
এখন সে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা শিক্ষকদের একজন।
তারও কিছুদিন পর আমি একদিন বাসা থেকে রাস্তার দিকে তাকিয়ে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাই। দেখি সে বাইরে দাঁড়িয়ে আমার গাড়ির গ্লাসগুলো পরিষ্কার করছে!চটজলদি দৌড় গিয়ে তাকে বাধা দিয়ে বলি - এগুলো কি করছো?সে অশ্রুসজল চোখে বলল, ছাড়ুন স্যার! আমাকে আমার কাজ করতে দিন। যেন আমি আমার পরিচয় ভুলে না যাই। আমি মনে রাখতে চাই আমি কি ছিলাম আর আজ কি হলাম। এবং আপনি আমার জন্য কী করেছেন!
এই সেই ফিলিস্তিনি যুবক ফরিদ আব্দুল আলী। যিনি বর্তমানে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসিদ্ধ তরুণ প্রফেসর 🙂 🫡🫡
#সংগৃহীত

Address

Kishoreganj
2371

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when হাওর উন্নয়ন ফাউন্ডেশন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share