15/10/2026
জুপিটার সায়েন্স ক্লাবের বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাড়াদী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান মেলা, অলিম্পিয়াড, বিতর্ক ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত
১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে কুষ্টিয়ার বাড়াদী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে জুপিটার সায়েন্স ক্লাবের আয়োজনে দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য ও প্রাণবন্ত বিজ্ঞান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজ্ঞান মেলা, গণিত ও ফিজিক্স অলিম্পিয়াড, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, দেয়ালিকা প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিদ্যালয় আঙিনা পরিচ্ছন্নতা অভিযান, এই বহুমুখী কর্মসূচিতে পুরো দিন মুখরিত ছিল পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি এক উৎসবমুখর রূপ নেয়।
দিনব্যাপী এই পুরো আয়োজনের মূল আকর্ষণ ও বিভিন্ন ইভেন্ট তদারকি, পর্যবেক্ষণ এবং বিচারকার্য পরিচালনা করেন বাড়াদী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ক্লাবসমূহের সভাপতি মোঃ আরিফুর রহমান। এছাড়া অনুষ্ঠানটি সফলভাবে পরিচালনা করেন বিজ্ঞান ক্লাবের মেন্টর শিক্ষক মোঃ নাজমুল হোসেন, ইব্রাহিম হোসেন এবং রুস্তুম হোসেন। উন্নয়ন সংস্থা 'ফেয়ার'-এর পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন প্রকল্প কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদ এবং স্বেচ্ছাসেবক মেন্টর এস এম তানজিল আলম।
সভাপতির বক্তব্যে বাড়াদী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ক্লাবসমূহের সভাপতি মোঃ আরিফুর রহমান ৪টি বিশেষায়িত ক্লাবের কর্মসূচি ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বলেন, "আমাদের বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত **সায়েন্স ক্লাব, ম্যাথ ক্লাব, ফিজিক্স ক্লাব এবং ডিবেট ক্লাব। এই চারটি বিশেষায়িত ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকশিত হচ্ছে। সায়েন্স ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে প্রজেক্ট তৈরি ও বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের সাথে যুক্ত হচ্ছে, ম্যাথ ক্লাব ও ফিজিক্স ক্লাবের মাধ্যমে তাদের গাণিতিক ও পদার্থবিজ্ঞানের ভীতি দূর হয়ে অলিম্পিয়াডের উপযোগী করে গড়ে উঠছে, এবং ডিবেট ক্লাবের মাধ্যমে তাদের মাঝে যুক্তি ও বাচনভঙ্গি শক্তিশালী হচ্ছে। আজকের এই মেলা, অলিম্পিয়াড, দেয়ালিকা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান প্রমাণ করে যে আমাদের মেয়েরা শুধু পড়ার টেবিলে নয়, সামাজিক ও ব্যবহারিক কার্যক্রমেও সমানভাবে পারদর্শী।"
দিনব্যাপী প্রতিযোগিতাসমূহের মধ্যে কুরআন তেলাওয়াত, হামদ-না’ত ও কবিতা আবৃত্তি: সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত উৎসাহের সাথে অংশগ্রহণ করে। কুরআন তেলাওয়াত ও হামদ-না’ত প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা চমৎকার সুর ও সাবলীল পরিবেশনা উপস্থাপন করে বিচারকমণ্ডলীর প্রশংসা অর্জন করে। এছাড়া কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগীরা তাদের নান্দনিক বাচনভঙ্গির মাধ্যমে উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে।
বিজ্ঞান কুইজ প্রতিযোগিতা: ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি এবং নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দুটি পৃথক গ্রুপে বিজ্ঞান কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশে বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়ে তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখে।
গণিত ও ফিজিক্স অলিম্পিয়াড: শিক্ষার্থীদের গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের গভীর জ্ঞান এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য গণিত ও ফিজিক্স অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। জুনিয়র ও সিনিয়র উভয় গ্রুপে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে চমৎকার নৈপুণ্য প্রদর্শন করে।
বিজ্ঞান প্রজেক্ট ও দেয়ালিকা প্রদর্শনী: শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটে বিজ্ঞান প্রজেক্ট প্রদর্শনীতে। পরিবেশবান্ধব ও কারিগরি বিভিন্ন বিষয়ের ওপর তৈরি প্রজেক্টগুলো সকলের নজর কাড়ে। পাশাপাশি, বিজ্ঞানভিত্তিক নানা তথ্য ও চিত্রায়ন নিয়ে শিক্ষার্থীরা আকর্ষণীয় দেয়ালিকা প্রদর্শন করে।
বিতর্ক প্রতিযোগিতা: "কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার জন্য হুমকি নয় বরং নতুন সম্ভাবনার দ্বার" এই সমসাময়িক ও উদ্দীপনামূলক বিষয়ের ওপর একটি জমজমাট বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি-খণ্ডন এবং চমৎকার যুক্তিনির্ভর বাচনভঙ্গির মাধ্যমে বিতার্কিকরা এক প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করে, যেখানে বিচারকমণ্ডলীর মূল্যায়নে বিজয়ী দল শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে।
উৎসবের শেষ পর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিদ্যালয় আঙিনা পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা স্বহস্তে বিদ্যালয়ের আশপাশ পরিষ্কার করে জনসচেতনতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। পরিশেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে দিনব্যাপী এই বিজ্ঞান উৎসবের সফল সমাপ্তি ঘটে।
উল্লেখ্য, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিজ্ঞান শিক্ষা জনপ্রিয়করণ এবং বিজ্ঞান ক্লাবগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে মানবাধিকার সংস্থা ‘ফেয়ার’ (FAIR)-এর বাস্তবায়নে এবং ‘বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন’ (BFF)-এর সহযোগিতায় “বিজ্ঞান শিক্ষা উন্নয়ন ও বিজ্ঞান ক্লাবসমূহকে টেকসইকরণ (PSE-SSC)” প্রকল্প পরিচালিত হয়ে আসছে।