03/10/2016
পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা কয়রার কাঠকাটা
: এক পাশে কপোতাক্ষ নদ, অন্য পাশে শাকবাড়িয়া নদীর তীর ঘেঁষে যতদূর চোখ যায় চলে গেছে সুন্দরবন। যেখানে দাঁড়িয়ে এমন দৃশ্য দেখা যাবে সে জায়গাটিও একসময় ছিল সুন্দরবনের অংশ। শতবর্ষ আগে এখানে বন কেটে মানুষের আবাসস্থল গড়ে ওঠে বলে জানা যায়। মাটি খুঁড়লেই তাই এখনও পাওয়া যায় বড় বড় গাছের গুঁড়ি। সুন্দরবন আর দুই নদীর মাঝখানের স্থানটির নাম কাঠকাটা। সুন্দরবনের কাঠ কেটে আবাদ করায় হয়তো স্থানটির পরিচিতিও সেভাবে পেয়েছে। এখানে আজও বসবাস করেন বেশ কিছু আদিবাসী মুন্ডা মাহাতো পরিবার। খুলনার কয়রা উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দক্ষিণে সুন্দরবনের গা ঘেঁষা এ স্থানটিতে দাঁড়ালে সুন্দরবনের কয়েক কিলোমিটার এলাকার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় এক নিমিষেই। শোনা যায় বাঘ, হরিণ ও পাখ-পাখালির ডাক। যে কারণে বছরজুড়ে সেখানে স্থানীয়রাসহ বাইরে থেকে যারা কয়রা উপজেলায় বিভিন্ন কাজে কিংবা বেড়াতে আসেন সকলেই এ স্থানটি একবার ঘুরে যান। অনেকেই কাঠের বৈঠাবাহি নৌকা অথবা ট্রলারে করে ঘুরে সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগ করেন। বছরের বিশেষ বিশেষ সময়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগমও ঘটে এখানে। পরিকল্পিভাবে এ স্থানটিতে পর্যটনের জন্য সুব্যবস্থা করা হলে সুন্দরবনের হিরণপয়েন্ট, দুবলারচর, কটকা-কচিখালি, করমজলের মতো সুন্দরবনের দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে কাঠকাটা এলাকা। সুন্দরবনের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলো যেমন লোকালয় থেকে অনেক দূরে তেমনি সেসব স্থানে পর্যটকদের পৌঁছাতে অনেক কষ্ট করতে হয়। তবে কাঠকাটা এলাকায় সহজে পৌঁছানো সম্ভব এবং এখানে বসে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন দর্শনার্থীরা। সেই সঙ্গে মাইকেলের কপোতাক্ষ নদের সৌন্দর্যও উপভোগ করবেন পর্যটকরা।
সুন্দরবন নিয়ে কাজ করেন এমন একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা জিয়া উদ্দীন আহমেদ বলেন, সুন্দরবন সংলগ্ন এ এলাকাটিতে একটি আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হলে একদিকে কমবে বনের ওপর স্থানীয় মানুষের অবৈধ নির্ভরশীলতা অন্যদিকে এলাকার অধিকাংশ মানুষের কর্ম সংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পর্যটন খাতে সুন্দরবন থেকে বছরে যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয় তা বেড়ে দ্বিগুণ হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। কারণ হিসেবে তিনি জানান, সড়কপথে সহজে এখানে পৌঁছানো সম্ভব এবং নিরাপত্তার কথা ভেবে অন্যান্য স্থানের চেয়ে এখানে দেশী এবং বিদেশী পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে।
স্থানীয় একটি ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা বলেন, সুন্দরবনের এ স্থান থেকে অনেক সহজে হিরণ পয়েন্ট, দুবলারচরে পৌঁছানো যায়। এখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হলে সুন্দরবনের বিশাল অংশের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি সাগর উপকূলের নদ-নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন পর্যটকরা। তাছাড়া পর্যটক ও নিরাপত্তাকর্মীদের আনাগোনায় সুন্দরবনের অবৈধ অনুপ্রবেশ অনেকাংশে কমে যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, পরিকল্পিতভাবে একটি আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র এখানে গড়ে উঠলে এলাকায় সামগ্রিক জীবনযাত্রায় এর প্রভাব পড়বে। বদলে যাবে এলাকার চালচিত্র। গড়ে উঠবে পর্যটনকেন্দ্রিক নতুন নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। অবহেলিত জনপদের মানুষের ভাগ্য বদলে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে কয়রা উপজেলার কাঠকাটা পর্যটন কেন্দ্রটি।