29/04/2025
পেশায় সাফাইকর্মী যখন আধ ডজন ডিগ্রির মালিক
লেগে থাকলে, সাফল্য যে একদিন আপনা থেকে ধরা দেবে, তা নিজের অভিজ্ঞতা দিয়েই বুঝেছেন মুম্বাইবাসী সুনীল যাদব। ক্লাস টেনে ফেল করার পর যাঁর ভবিষ্যতের পাশে বড় প্রশ্নচিহ্ন পড়ে গিয়েছিল, সেই ছেলেই কিন্তু সাফল্যের সঙ্গে M.Phil কমপ্লিট করে ফেললেন। পরবর্তী লক্ষ্য, ডক্টরেটটা করে ফেলা।
ধাক্কা খেয়ে বা ফেল করে, পরে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন এমন নজির যে নেই, তা নয়। খুঁজলে হয়তো ভূরি ভূরি পাওয়া যাবে। কিন্তু, সুনীল যাদবের পিছনের লড়াইটা ছিল বাকিদের থেকে ভিন্ন।
ক্লাস টেনে সুনীল যখন ফেল করলেন, মাথার ওপর ছাদ ছিল না। ফের যে পড়া চালিয়ে যাবেন, পরিবারের সেই আর্থিক ক্ষমতাও ছিল না। অগত্যা তখনকার মতো বইপত্র শিকেয় তুলে, রুটিরুজির ধান্দা শুরু করেন।
কিন্তু, এই বাজারে টেন ফেল একটা ছেলেকে চাকরি দেবে কে! কার কাছেই বা সে গিয়ে চাকরি চাইবে? সংকোচ না-করে, একে তাকে ধরে বৃহন মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (BMC) একটা কাজ জুটে যায়। সাফাইকর্মী হিসেবে নিয়োগ হয়। বেতন আহামরি কিছু নয়। তবুও, নেই মামার থেকে কানা মামা ভালো। তাই চাকরিটা লুফে নেন।
পুনরায় শুরু করেন পড়াশোনাও। ছোট একটা ঘর ভাড়া নিয়ে, নতুন করে শুরু করেন। পৌররসভার খাটুনি, ঘরের কাজ সামলে, অবসরে পড়াশোনা। সেদিনের টেন ফেল ছেলেটা ছ-ছটা ডিগ্রিও অর্জন করে ফেলেন। বি. কম, জার্নালিমে বিএ শেষ করে DSDW, MSW করে ফেলেন। তার পর গ্লোবালাইজেশন ও লেবার বিষয়ে মাস্টার্স কমপ্লিট করে এ বার টাটা সোশ্যাল সায়েন্সেস থেকে M.Phil-ও করে ফেললেন সুনীল।
সুনীল এর পরবর্তী লক্ষ্য ডক্টরেট। আমেরিকা থেকে পিএইচডি করতে চান। যার জন্য নিজের স্বল্প রোজগার থেকে সামান্য করে সঞ্চয় শুরু করেছেন। পৌরসভার কাজের বাইরে পার্টটাইম কাজও করছেন। সংসার আর পড়ার খরচ চালাতে অবসরে অনুবাদকের কাজও করছেন।
উপসংহারঃ
এই কৃতীর একটাই আক্ষেপ, এত কিছুর পরেও BMC তাঁকে যোগ্য সম্মানটুকু দেয়নি। এখনও সেই সাফাইকর্মীই রয়ে গিয়েছেন। পদোন্নতি তো হয়ইনি, বাড়েনি এক কানাকড়ি বেতনও। তাই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াইটা আগের মতোই সমান তালে তাঁকে চালিয়ে যেতে হচ্ছে।