27/08/2026
তিনজনের গল্প
এক গ্রামে হঠাৎ খবর ছড়িয়ে পড়ল—
“বাজারের পুরোনো সেতুটি নাকি ভেঙে পড়তে যাচ্ছে!”
খবরটা প্রথমে বলল একজন পথচারী।
সে বলল, “আমি শুনেছি, সেতুতে বড় ফাটল ধরেছে।”
দ্বিতীয়জন বলল,
“শুধু ফাটল নয়, নাকি যেকোনো সময় সেতুটা ধসে পড়বে!”
তৃতীয়জন তো আরও এক ধাপ এগিয়ে বলল,
“আমি নিজের চোখে দেখেছি—সেতুর নিচের মাটি পর্যন্ত নড়বড়ে হয়ে গেছে!”
কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে গেল।
দোকানদার দোকান বন্ধ করল।
স্কুলের ছাত্ররা অন্য রাস্তা দিয়ে যেতে শুরু করল।
কেউ বলল, “সেতু দিয়ে গেলে বিপদ!”
কেউ বলল, “সরকার কিছুই করছে না!”
এর মধ্যেই গ্রামের এক বৃদ্ধ ধীরে ধীরে সেতুর কাছে গেলেন।
তিনি দেখলেন—সেতুতে সত্যিই একটি ফাটল আছে।
কিন্তু সেটি পুরোনো।
আর সেতুর মূল কাঠামো সম্পূর্ণ নিরাপদ।
তিনি ইঞ্জিনিয়ারকে ডেকে পরীক্ষা করালেন।
ইঞ্জিনিয়ার বললেন—
“ফাটল আছে, মেরামত দরকার। কিন্তু সেতু ভেঙে পড়ার কোনো আশঙ্কা নেই।”
বৃদ্ধ তখন গ্রামের মানুষকে ডেকে বললেন—
“তোমরা জানো, খবর কীভাবে বড় হয়?
প্রথম ব্যক্তি যা দেখে, তা বলে।
দ্বিতীয় ব্যক্তি তার সঙ্গে নিজের ধারণা যোগ করে।
তৃতীয় ব্যক্তি সেই ধারণাকেই সত্য বলে ছড়িয়ে দেয়।
তারপর মানুষ সত্য যাচাই না করে আতঙ্ককে বিশ্বাস করে।”
সবাই চুপ করে রইল।
বৃদ্ধ আবার বললেন—
“একটি মিথ্যা খবরের পা নেই, কিন্তু মানুষের মুখ তাকে দৌড়ানোর শক্তি দেয়।”
সেদিন থেকে গ্রামের মানুষ একটি নিয়ম করল—
শুনলেই বিশ্বাস নয়।
দেখলেই সিদ্ধান্ত নয়।
আগে যাচাই, তারপর প্রতিক্রিয়া।
কারণ—
খবর দ্রুত ছড়ায়,
গুজব আরও দ্রুত ছড়ায়,
কিন্তু সত্যের পথটা একটু ধীর।
আর সেই ধীর পথেই হাঁটতে হয়—
যদি সত্যিই সত্যের কাছে পৌঁছাতে চান।