11/07/2024
আশূরা কী?
মুহাররম মাসের দশম তারিখই আশূরার দিন। এটা আরবী শব্দ (عشر) আশারা হতে নির্গত, যার অর্থ হলো দশ। অতএব, মুহাররম মাসের দশম তারিখে ছিয়াম রাখার নামই হলো আশূরার ছিয়াম।
[মিরআতুল মাফাতীহ, ৭/৪৫।]
আশূরার ছিয়ামের প্রেক্ষাপট:
মহান আল্লাহর শুকরিয়াস্বরূপ এই দিনে ছিয়াম রাখা হয়। কারণ, মহান আল্লাহ এই দিনে তাঁর নবী মূসা আলাইহিস সালাম এবং তাঁর ক্বওমকে ফেরাউন ও তার দলবল থেকে রক্ষা করেছিলেন। হাদীছে এসেছে—
ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, মহানবী (ﷺ) মদীনায় এসে ইয়াহূদীদের দেখতে পেলেন যে, তারা আশূরার ছিয়াম পালন করছে। তিনি বললেন, এটা কী? তারা বলল, ‘এটা একটা ভালো দিন, এটা এমন একদিন, যেদিন আল্লাহ বানূ ইসরাঈলকে তাদের শত্রুদের হাত থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। সুতরাং মূসা আলাইহিস সালাম এই দিন ছিয়াম পালন করেছেন’।
তিনি বললেন, ‘আমি তোমাদের চেয়ে মূসা আলাইহিস সালাম-এর ব্যাপারে অধিক হক্বদার’। এরপর তিনি নিজে এই ছিয়াম পালন করেন এবং ছাহাবীদেরকেও ছিয়াম পালনের নির্দেশ দেন। [ছহীহ বুখারী, হা/২০০৪।]
মুসনাদে আহমাদের বর্ণনায় এ হাদীছটির বর্ধিত অংশে বলা হয়েছে,
আশূরা এমন একটি দিন, যেদিনে নূহ আলাইহিস সালাম-এর কিশতী জুদী পর্বতে অবতরণ করেছিল। ফলে তিনি শুকরিয়াস্বরূপ এ দিনটিতে ছিয়াম রাখেন।
অতএব, প্রমাণিত হয় যে, পূর্ববর্তী নবী ও উম্মতের মাঝেও আশূরায়ে মুহাররমে ছিয়াম রাখার ইবাদত চালু ছিল।
আশূরার ছিয়ামের ফযীলত :
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরও বলেছেন, صِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ ‘আশূরার দিনের ছওমের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে আমি আশাবাদী যে, তিনি এর দ্বারা আগের বছরের গুনাহ মোচন করে দিবেন’। [ছহীহ মুসলিম, হা/১১৬২]
আশূরার ছিয়ামের সংখ্যা:
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ইনশা-আল্লাহ আগামী বছর আমরা নবম তারিখেও ছিয়াম পালন করব। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আগামী বছর আসার আগেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মৃত্যু হয়ে যায়।
[ছহীহ মুসলিম, হা/১১৩৪]
অতএব, আশুরার সিয়াম আমরা ৯ ও ১০ই মহররম (১৬ ও ১৭ জুলাই, ২০২৪ইং মঙ্গল ও বুধবার) দুইটি সিয়াম পালন করবো ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ আমাদের সকলকে সকল ক্ষেত্রে বিশেষ করে আশূরায় মুহাররামে নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত অনুযায়ী ইবাদত করার তাওফীক্ব দিন এবং আশূরাকে কেন্দ্র করে বিদআত, কুসংস্কার ও জাহেলী কর্মকাণ্ড হতে হেফাযত করুন- আমীন!