HUMANE FOUNDATION
হিউমেন ফাউন্ডেশন
( একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান )
সুপ্রিয় ফেসবুক ইউজার ও হিউমেন ফাউন্ডেশনের দাতা সদস্যগণ,অামার অনুরোধ,দয়া করে লেখাটা শেষ পর্যন্ত পড়বেন !
এখন এই লেখাটি যারা পড়ছেন, অাজ থেকে শতবর্ষ পরে আমাদের প্রত্যেকের দেহ তখন মাটির নিচে পচে গলে নি:শেষ। অস্তিত্ব তখন রূহের জগতে। অামরা কেউ জান্নাতি কেউ জাহান্নামি।অথচ আমাদের রেখে যাওয়া অনেক কষ্টে গড়া সুন্দর বাড়িটা হয়তো
অন্য কারো দখলে। অামার পৈত্রিক ধন সম্পদ ভোগ করবে অন্য কেউ। এই বাড়ি অামার এই গাড়ি অামার বলে যে গর্ব করতাম সে সবই তখন অন্য কারো। আর আমরা ? আমাদেরকে কেউ চিনবেইনা। স্মরণ রাখা তো দূরের কথা। যাদের জন্য সবকিছু করতে নিজের জীবন শেষ করে দিয়েছিলাম,তারা কেউই অামাদের মনে রাখবে না অাজ থেকে শতবর্ষ পরে।পৃথিবীর বুকে আজকের এই জীবন যাপন বড়োই অাশ্চর্য্যজনক, যাদের জন্য এতো পেরেশান এতো টেনশান, এতো মায়া কান্না তারা কেউ অামাদের মনে রাখবে না। অামরা যেমন অসংখ্য প্রজন্মকে হারিয়ে এই জীবন লাভ করেছি। তেমনিভাবে আগামীতে অসংখ্য প্রজন্মের ভিড়ে অামরাও হারিয়ে যাবো।
প্রিয় ভাই ও বোন,বলুন তো অাপনার দাদা বা নানাকে অাপনি কতোবার স্মরণ করেন ? দাদার বাবাকে বা নানার বাবাকে কত বার স্মরণ করেন ? দাদীকে বা দাদীর দাদীর কথা অাপনার কতোবার মনে পড়ে ? দাদা দাদী তো দূরের কথা অামরা তো মা বাবাকেই স্বরণ করতে পারি না ব্যস্ততার কারণে। অথচ সন্তান যখন মা বাবার নামে কোন সাদাকায়ে জারিয়ার কাজ করে তখন সেই মা বাবার অামলনামায় অাবার নতুন করে সাওয়াব যোগ হতে থাকে। অামরা মা বাবার জন্য এটুকু পর্যন্ত করতে পারছি না।
অাজ থেকে শতবর্ষ পরে কবরে শুয়ে আমরা সবাই এই বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারবো যে, সত্যিই দুনিয়াটা কতই না তুচ্ছ ছিল! একে ঘিরে দেখা স্বপ্নগুলো কতই না নগণ্য ছিল! তখন আমরা সকলেই হয়তো চাইবো, ইশ যদি জীবনটা মহৎ কিছুতে উৎসর্গ করতে পারতাম! ইসলামের জন্যে! নেক আমল সংগ্রহের জন্য আরও কিছু করতে পারতাম! মৃত্যুর পরেও যা আমাদের উপকারে অাসতো, সেগুলোর পেছনে যদি আরও সময় উৎসর্গ করতে পারতাম ! ইস্! ইস্! বলে শুধু অাফসোস করবো।
আমরা হয়তো অনেকেই চিৎকার করে কথাটা বলবো, কিন্তু কোনো লাভ হবে না আমাদের এই অার্তচিৎকারে। হয়তো বলবো "হে অাল্লাহ আমাকে আবার ফেরত পাঠান। যাতে আমি সৎকাজ করতে পারি যা আমি আগে করিনি।" [সুরা-আল মুমিনুন, ৯৯]
তখন আমরা অনেকেই আফসোসে নিজেদের হাত কামড়াতে থাকবো এই বলে, "হায়! আমার এ জীবনের জন্য আমি যদি কিছু অগ্রিম পাঠাতাম ?” [সূরা আল-ফাজর, ২৪]
প্রিয় ভাই ও বোন ! মৃত্যুর ফেরেশতা আমাদেরকে নেককার হবার সময় দেবে না। সে এক মূহুর্ত অপেক্ষা করবে না আমাদের জন্য। তাই অাসুন সবাই মৃত্যুর ফেরেশতা আসার আগেই আমরা সংশোধন হয়ে যাই! পাপে ভরা জীবনটা পাল্টে ফেলি! অাসুন অামরা সবাই বেশি বেশি দান সাদাকা (সাদাকায়ে জারিয়া) করি, যাতে অামাদের মৃত্যুর পরও অামাদের অামলনামার খাতা বন্ধ না হয়,অার অামাদের মা বাবার অামলনামার খাতা যেন অাবার খোলা হয়। তাঁদের সাওয়াবের পাল্লা যাতে ক্রমশ ভারি হতে থাকে।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা, সত্যিই আমি নিজেকে নিয়েই ভাবছি,কত জীবন চলে যাচ্ছে,তাজা প্রাণ যাচ্ছে ! কবরের জন্য তো কিছুই গুছাতে পারিনি! মৃত্যুর পরে যদি অামলনামার খাতা বন্ধ হয়ে যায় কি জবাব দিবো মহান অাল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে !
”হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিত। নবী(সাঃ) বলেনঃ
প্রতিদিন সকালে দু’জন ফেরেশতা অবতরণ করেন।তাঁদের একজন বলেন,হে আল্লাহ!দাতাকে তার দানের উত্তম প্রতিদান দান করুন,আর অপরজন বলেন,হে আল্লাহ!কৃপনকে ধবংস করে দিন।”
(সহীহ বুখারী,পর্ব ২৪:যাকাত অধ্যায় ২৭,হাদীস ১৪৪২:সহীহ মুসলিম,পর্ব ১২:যাকাত অধ্যায় ১৭,হাদীস ১০১০)
”হারিসা ইবনে ওহাব (রাঃ)থেকে বর্ণিত।তিনি বলেন,আমি নবী (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি,তোমরা সদকা করো,কেননা তোমাদের ওপর এমন যুগ আসবে যখন মানুষ আপন সদকা নিয়ে ঘুরে বেড়াবে কিন্তু তা গ্রহণ করার মতো কাউকে পাবেনা।(যাকে দেয়ার ইচ্ছা করবে সে)লোকটি বলবে,গতকাল পর্যন্ত নিয়ে আসলে আমি গ্রহণ করতাম।আজ আমার আর কোন প্রয়োজন নাই।”
(সহীহ বুখারী,পর্ব ২৪:যাকাত অধ্যায় ৯,হাদীস ১৪১১:সহীহ মুসলিম,পর্ব ১২:যাকাত অধ্যায় ১৭,হাদীস ১০১১)
এমন দুঃসময় আসার আগেই আমাদের উচিত অসহায় ও অভাবগ্রস্থ মানুষকে অবিরত দান-সদকা করা।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা,আপনাদের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে ২০১৫ সালের অক্টোবর মাস থেকে আজ অবধি এই ফাউন্ডেশন সমাজের দরিদ্র অভাব গ্রস্থ ব্যক্তিদেরকে সাহায্য,গরীব এতিম ছেলে মেয়েদের লেখা পড়া বা চিকিৎসা,মসজিদ পাঠাগার, ফ্রি কোরআন ও সহীহ্ হাদীসের শিক্ষা প্রদান সহ আর ও অনেক সামাজিক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে ।
ইহকাল ও পরকাল এর লাভের জন্য আমরা আশা করব শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য আপনাদের কষ্টার্জিত অর্থ থেকে সর্বনিম্ন ৫ টাকা হলেও দান করবেন।
Rocket-01712-315 426 4 (Personal), Bkash-01712-315 426 (Personal)
”রাসূল (সাঃ)বলেছেনঃ যখন কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে,তার আমল তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়,কেবল তিনটি বিষয় ছাড়া, অবিরত সাদকা,অথবা এমন জ্ঞান যার দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়,অথবা সৎ কর্মশীল সন্তান-যে তার জন্য দোয়া করে।”