প্রিয়
সুহৃদবরেষু,
১৯৫২ সালের “ভাষা” আন্দোলনের স্রোত ঢাকা সহ সারাদেশের সকল বিভাগ এবং জেলা/ মহকুমা পর্যায়ের আপামর জনসাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিলো। ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শিল্পী, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, কবি সাহিত্যিক, ব্যাংকার, সংস্কৃতি কর্মী সহ নানা পেশার মানুষ আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে পড়ে। মায়ের মুখের ভাষা অন্য কেউ কেড়ে নেবে এটা তো হতে দেওয়া যায় না। পাকিস্তানের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভ
াষার মর্যাদা দিতে শাসকদের বাধ্য করে বাঙালি। এরই ধারাবাহিকতায় দানা বাঁধে স্বাধিকার-স্বাধীনতার চেতনা। একুশের চেতনার প্রসারিত প্রভাব থেকেই ৫৪’এর নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়, ৬২’এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’এর ছয় দফা, ৬৯’এর গণ অভ্যুত্থান, ১১ দফা, ৭০’এর নির্বাচন, ৭ মার্চ, মওলানা ভাসানীর ১৪ দফা। তার পরিণামে ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়।
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উৎযাপন করলাম আমরা। প্রতিবছর বাংলাদেশের প্রায় ২৬,০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়। আমরা সে সময় নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারিনা ! উত্তরাঞ্চল সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শীতের তীব্রতায় ঠাণ্ডাজনিত কারণে যখন মানুষ মারা যায় তখন আমরা চুপচাপ বসে থাকতে পারিনা! যখন বাংলা ভাষার প্রতি অবহেলা করে বিদেশি ভাষাকে জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয় প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাঁধে তখন আমরা চুপ থাকতে পারিনা কিছুতেই। আমাদের এতো অর্জন মূহুর্তে মলিন হতে দেয়া যায় না। আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি আর স্বাধীনতা রক্ষা করবো আমরাই। এই ব্রত নিয়ে সারাদেশের সকল বিভাগ এবং জেলা শহর থেকে ৫২’এর চেতনা নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে চলার প্রত্যয় নিয়েছে ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শিল্পী, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, কবি সাহিত্যিক, ব্যাংকার, সংস্কৃতি কর্মী সহ নানা পেশার তাজা কিছু প্রাণ!
ভাষার নামে একটি দেশ ও জাতির নাম বাঙালি। আমন্ত্রণ রইলো এই বিপ্লবে পাশে থাকার জন্য। আপনার সমর্থন এবং ভালোবাসা একান্ত কাম্য। ধ্যনবাদ।
মাহাবুবুর রহমান,
প্রতিষ্ঠাতা, ভাষা - VASA
(Voluntary Association for Social Advancement)
ঝিনাইদহ সদর-৭৩০০
ইমেইল- [email protected]