10/04/2026
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
"আল্লাহ যখন জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করলেন, তখন জিবরাঈল (আ.)-কে জান্নাতের দিকে পাঠিয়ে বললেন, 'যাও, জান্নাত এবং এর অধিবাসীদের জন্য আমি যা প্রস্তুত করে রেখেছি তা দেখে এসো।'
জিবরাঈল (আ.) গিয়ে জান্নাত এবং এর নেয়ামতসমূহ দেখলেন। এরপর ফিরে এসে বললেন, 'আপনার ইজ্জতের কসম! যে কেউ এর (সুখের) কথা শুনবে, সে অবশ্যই এতে প্রবেশ করতে চাইবে।'
তখন আল্লাহর নির্দেশে জান্নাতকে 'মাকারেহ' (কষ্টকর ও অপছন্দনীয় বিষয়) দিয়ে ঘিরে দেওয়া হলো। এরপর আল্লাহ বললেন, 'আবার যাও এবং দেখে এসো।'
জিবরাঈল (আ.) পুনরায় গিয়ে দেখলেন যে, জান্নাত কষ্টকর বিষয় দিয়ে ঘেরা। তিনি ফিরে এসে বললেন, 'আপনার ইজ্জতের কসম! আমার ভয় হচ্ছে যে, (এত বাধা পেরিয়ে) এখন হয়তো কেউই এতে প্রবেশ করতে পারবে না।'
এরপর আল্লাহ বললেন, 'এবার জাহান্নামের দিকে যাও এবং এর অধিবাসীদের জন্য যা প্রস্তুত রেখেছি তা দেখে এসো।'
তিনি গিয়ে দেখলেন জাহান্নামের আগুন একটির ওপর আরেকটি আছড়ে পড়ছে (ভয়াবহ উত্তাল)। ফিরে এসে তিনি বললেন, 'আপনার ইজ্জতের কসম! এর (ভয়াবহতার) কথা যে শুনবে, সে কখনোই এতে প্রবেশ করবে না।'
তখন আল্লাহর নির্দেশে জাহান্নামকে 'শাহওয়াত' (নফসের কামনা-বাসনা ও প্রলোভন) দিয়ে ঘিরে দেওয়া হলো। এরপর আল্লাহ বললেন, 'আবার যাও এবং দেখে এসো।'
তিনি পুনরায় গিয়ে দেখলেন যে, তা প্রলোভন দিয়ে ঘেরা। ফিরে এসে তিনি বললেন, 'আপনার ইজ্জতের কসম! আমার আশঙ্কা হচ্ছে যে, (প্রলোভনের কারণে) এখন আর কেউই তা থেকে রক্ষা পাবে না, বরং সবাই এতে প্রবেশ করবে।'"
(সূত্র: সুনানে আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ)
জান্নাত এমন সব জিনিস দিয়ে ঘেরা যা মানুষের মন সহজে করতে চায় না। যেমন: কনকনে শীতে ফজরের নামাজ, দান-সদকা, ধৈর্য ধারণ এবং হারাম থেকে বেঁচে থাকা। এধরণের "কষ্ট" সহ্য করলেই জান্নাতে পৌঁছানো সম্ভব।
জাহান্নাম এমন সব প্রলোভন দিয়ে ঘেরা যা মানুষের মন খুব দ্রুত গ্রহণ করে। যেমন: সুদ-ঘুষ, পরনিন্দা, বেহায়াপনা ও আলস্য। মানুষ এই সাময়িক আনন্দের মোহে পড়েই মূলত জাহান্নামের পথে পা বাড়ায়।
জিবরাঈল (আ.)-এর সেই 'আশঙ্কা' আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করে কষ্টকর হলেও আল্লাহর আনুগত্যের পথে চলাই হলো প্রকৃত সফলতা।
- সালমান ফারসি