10/09/2026
গৌরীনাথপুরে এবার কি আমরা একজনকেই নির্বাচিত করতে পারি?
গৌরীনাথপুর গ্রামে এখন যেন ঘরে ঘরে মেম্বার প্রার্থী!
অক্ষরজ্ঞানহীন থেকে শুরু করে ৬০ বছরের বৃদ্ধা—অনেকেই মেম্বার হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছেন।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী শুধু গৌরীনাথপুরে ১,৪৫২ জন এবং পার্শ্ববর্তী নওপাড়ায় ৪৮৮ জন ভোটার রয়েছেন। এত বড় একটি জনগোষ্ঠীর সামনে আমাদের প্রশ্ন—আমরা কি নিজেদের মধ্যে একজন যোগ্য মানুষকে বেছে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে পারি না?
আমাদের গ্রামের অনেকেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি, মাদ্রাসার সভাপতি, বাজার কমিটির সভাপতি, মসজিদ কমিটির সভাপতি—একই ব্যক্তি একাধিক জায়গায় বড় বড় পদ ধরে রাখেন।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—পদ দখল করাই কি নেতৃত্বের উদ্দেশ্য, নাকি গ্রামের মানুষের জন্য কাজ করাই নেতৃত্বের আসল পরিচয়?
আমরা জন্মের পর থেকে দেখে আসছি—অন্যান্য অনেক গ্রামের তুলনায় আমাদের গ্রামের রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন এখনও অনেক পিছিয়ে।
আমাদের হাফিজিয়া মাদ্রাসা বিভিন্ন সমস্যার কারণে বন্ধ।
আমাদের কবরস্থান দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত, এখনও যথাযথ সংস্কার হয়নি।
তাহলে এতদিন আমরা কী পেলাম?
গত মেম্বার নির্বাচনেও আমরা বারবার অনুরোধ করেছি, সতর্ক করেছি, বিনয়ের সঙ্গে বলেছি—
“আমরা একজনকে নির্বাচন করব, একজনকেই ভোট দেব। একাধিক ব্যক্তির নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রয়োজন নেই।”
কিন্তু আমাদের সেই আহ্বান অনেকেই শোনেননি। শেষ পর্যন্ত নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচন হয়েছে।
এবার আমরা আবারও অনুরোধ করছি—
এবার যেন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।
👉 একাধিক ব্যক্তি প্রার্থী হওয়ার প্রতিযোগিতায় না গিয়ে
👉 গ্রামের মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে
👉 যোগ্য, সৎ, দায়িত্বশীল ও কর্মঠ একজন মানুষকে বেছে নিই।
সময় নষ্ট করবেন না।
অযথা টাকা-পয়সা খরচ করবেন না।
নিজের আত্মসম্মান নষ্ট করবেন না।
একে অপরের বিরুদ্ধে বিভেদ তৈরি করবেন না।
মেম্বার হওয়া কোনো সম্মানের মুকুট নয়—এটি জনগণের সেবা করার দায়িত্ব।
আমরা চাই না মেম্বার পদ নিয়ে গ্রামের মধ্যে বিভেদ তৈরি হোক।
আমরা চাই ঐক্য, উন্নয়ন ও যোগ্য নেতৃত্ব।
আমাদের আহ্বান—
গৌরীনাথপুরের মানুষ একজন যোগ্য প্রার্থী বেছে নিক।
আমরা একজনকে মনোনীত করব, একজনকেই ভোট দেব।
“তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।”
— সহিহ বুখারি