31/03/2025
হাত ফসকে পড়ে যাওয়া একটি আইসক্রিম এবং একটি পরিবারের করুণ কাহিনীঃ
ঘড়ির কাঁটা তখন রাত ১১ টা ছুঁইছুঁই। জনপদ তখন ব্যস্ত শেষ মুহূর্তে ঈদের কেনাকাটায়, বাচ্চারা হাতে মেহেদী দিতে ব্যস্ত, আতশ বাজি পটকা ফুটাচ্ছে, কেউবা সালামির প্ল্যান করছে।
হাসি উপহার টিমের একাংশ প্রতিদিনের মতো রুপদিয়া রেলস্টেশনের চায়ের দোকানে আড্ডায় মগ্ন, অন্য কিছু তে খেয়াল নেই। চায়ের দোকান থেকে ৭ বছর বয়সী ও ২ বছর বয়সী ২ জন শিশু, সম্পর্কে আপন ভাই ২ টা আইসক্রিম কিনল, এর মধ্যে ১ টা আইসক্রিম হাত ফসকে পড়ে গেল।
৭ বছর বয়সী বড় ভাই তখন দ্রুত আইসক্রিমটি তুলতে যাচ্ছে, এমতাবস্থায় হাসি উপহার টিমের মেম্বারের নজর এড়ায়নি। আইসক্রিমে ধূলাবালি লেগে যাওয়ায় টিমের মেম্বার তুলতে নিষেধ করে, কিন্তু বড় ভাই তুলে নিলো। বলল, "আরেকটি কেনার টাকা নেই, এটি ধুয়ে খাবে"
টিম মেম্বার একজন সেই আইসক্রিমটি হাত থেকে নিয়ে ফেলে দিলো এবং নতুন আরেকটি আইসক্রিম কিনে দিলো।
অপরদিকে, আড্ডা ছেড়ে একজন মেম্বার তার আত্মীয়দেরকে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ঘুরে ফিরে দেখাচ্ছে। খেয়াল করল একজন মহিলা রেল লাইনে কান্নারত অবস্থায় বসে আছে। কিছু মানুষ ঘিরে দাড়িয়ে আছে।
হয়তো মহিলা বসে আছে, কখন ট্রেন আসবে, নিজের জীবনকে ঠেলে দেবে ট্রেনের সামনে।
এই ২ টা ঘটনার একটা যোগসুত্র আছে। ঐ ২ টা বাচ্চার মা হলো এই কান্নারত মহিলা। যে হয়তো বাচ্চাদেরকে আইসক্রিম কিনতে পাঠিয়ে দিয়ে আত্ম-হ-ত্যার কথা ভাবছিল। কিন্তু কেন?
ঈদ সবার জন্য সব সময় আনন্দের হয় না। এই মহিলা গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা। নিজের বাড়ি ঘর নেই বলে গুচ্ছগ্রামে বাস করে। ২ টা বাচ্চার ঈদের নতুন জামাকাপড় কিনতে না পারায় হতাশ হয়ে এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছিল। পুরো ঘটনা যখন হাসি উপহার টিমের সামনে ঘটে যাচ্ছে তখন আড্ডা বাদ দিয়ে উপস্থিত টিম মেম্বার সবাই ঐ বাচ্চা ২ টার মুখে হাসি ফোঁটানোর জন্য প্রস্তত।
সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম ঐ ২ টি বাচ্চার ঈদের জামা কিনে দেবো এবং ঈদ বাজার করে দেবো। যেই কথা সেই কাজ। নিজেদের মধ্যে ফান্ড কালেক্ট করে, বড় ছেলের দর্জির কাছে বানাতে দেওয়া পাঞ্জাবীর মজুরী পরিশোধ করি, ছেলেটি হাফেজি মাদ্রাসায় পড়ে, তাই সে একটি টুপি, আঁতর, ঘড়ি, সানগ্লাসের আবদার পূরণ করি। ছোট বাচ্চাটির এক সেট নতুন কাপড় এবং মহিলার জন্য একটি থ্রিপিস কিনি। তাছাড়া রাত পোহালেই ঈদ তাই ঈদের বাজার করে দিয়ে হাসি উপহার টিম মেম্বার গাড়িতে করে তার বাড়ি তে পৌঁছে দিই। তখন বাজে রাত ১২ টা।
মহিলাটির কৃতজ্ঞতা ও বাচ্চাদের নতুন কাপড়ের আনন্দ আমাদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। হয়তো ৯ বছরের অন্যতম সেরা কাজ ছিল এটি। হাসি উপহার টিম আনন্দিত এমন অসহায় মানুষের সহযোগিতা করতে পেরে।