21/09/2026
আমার খুব ইচ্ছা, আমার মা আর ভাইদের অন্তত কবরটুকু দিই। এখনও আমি রাতে ঘুমাতে পারি না।
আবদুল কাদির সাদাহ নামের এই কিশোর একা বেঁচে আছে।পরিবারের সবাই শহীদ।ইসরায়েলি এক হামলায় নানার বাড়িতে একত্রিত হওয়া ১০০ জনেরও বেশি আত্মীয় শহীদ হয়েছেন। আর তাঁর মা এবং তিন ভাই এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন।
আবদুল কাদির এক বছরেরও বেশি সময় আগে নিজের বাড়ি ছেড়ে আল-মাগরাবি এলাকায় অবস্থিত নানার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, যেখানে তাঁর আরও অনেক আত্মীয়স্বজন এসে এক হয়েছিলেন। হঠাৎ এক দিন ইসরায়েলি ট্যাংক বাড়ির কাছাকাছি চলে আসে, তারপর পিছিয়ে যায়। এর পরপরই যুদ্ধবিমান থেকে তাদের চারতলা বাড়িটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। দুর্ভিক্ষ কিছুটা কমায় শিশুদের জন্য তৈরি করা একটি কেক কাটার উদ্দেশ্যে সে সময় তাঁর নানা ও আত্মীয়স্বজনরা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন।
হামলার পর তিনতলা থেকে নিচে পড়ে গিয়ে আহত অবস্থায় নিজেকে মাটিতে আবিষ্কার করেন আবদুল কাদির। তাঁর চারপাশে তখন ওপর থেকে পাথর ঝরে পড়ছে, কাঁচের টুকরো উড়ে গিয়ে গায়ে বিঁধছে, আর ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে ভেতরে থাকা ১০০ জনেরও বেশি আত্মীয়ের করুণ চিৎকার ভেসে আসছে।
মা ডেকে উঠলে মাটিতে নিজের পাশেই তাঁকে দেখতে পান আবদুল কাদির। তিনি মায়ের হাত ধরে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু মা তাঁর হাত ছেড়ে দিয়ে নিজের স্বজন ও তিন সন্তানকে বাঁচানোর জন্য আবার ধ্বংসস্তূপের দিকে ছুটে যান। তখন ইসরায়েলি বাহিনী তাঁকে লক্ষ্য করে আবারও হামলা চালায় এবং তিনি সঙ্গে সঙ্গে শহীদ হন।
এরপর আবদুল কাদির এক বুক গভীর যন্ত্রণা নিয়ে সেখান থেকে সরে আসেন—এক মুহূর্তেই তিনি তাঁর ১০০ জন আত্মীয়কে হারিয়েছেন, যাদের কাউকেই এখনও বের করে দাফন করা সম্ভব হয়নি।
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
_নাঈমা তামান্না আপু
~ST05