09/06/2026
"ছাত্রলীগ নেতার চিঠি হাতে পেয়েও ভয়ে উত্তর দিতে পারছে না যবিপ্রবি প্রশাসন।"
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের শিক্ষার মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য ও সকল অনুষদের ডিন বরাবর ডাকযোগে চিঠি পাঠিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা মোঃ মেহেদী হাসান তবে চিঠি পাঠানোর বেশ কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিজেদের অপরাধ ও ব্যর্থতা জনসম্মুখে ধরা খাওয়ার ভয়ে কোন উত্তর দিতে পারছে না। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় উপাচার্য ভয় পেয়ে দফায় দফায় ডিনদের সাথে মিটিং করে মিডিয়ায় কথা বলতে নিষেধ করেছেন।
চিঠি পাঠানো ওই শিক্ষার্থী যবিপ্রবির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা। তাঁর দাবি, তিনি গত ১৮ মে তিনি রেজিস্ট্রি ডাকযোগে (জিপি) উপাচার্য ও সকল ডিন বরাবর চিঠিটি পাঠান। ২০ মে ক্যাম্পাসের পোস্টমাস্টার চিঠিগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পৌঁছে দেন এবং চিঠির প্রাপ্তি স্বীকারের রশিদও (রিসিভ কপি) তাঁর হাতে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো উত্তর পাননি তিনি।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা চিঠির অনুলিপিতে দেখা যায়, ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসের মতো যবিপ্রবিতেও তৎকালীন উপাচার্যের সামনেই শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয়ের অজুহাতে শিক্ষার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। চিঠিতে
দাবি করা হয়, অবৈধ একাডেমিক বহিষ্কার,প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে মিডিয়া ট্রায়াল, মব ভায়োলেন্স এবং শারীরিক লাঞ্ছনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
সাবেক উপাচার্যের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে চিঠিতে বলা হয়েছে, সে সময়ের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তৎকালীন উপাচার্যের ভূমিকা শিক্ষার্থীদের কাছে 'মববাজদের চৌকিদার ও মদদদাতা' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করাকে একধরনের 'জীবন্ত হত্যা' হিসেবে উল্লেখ করে চিঠিতে দাবি করা হয়, অতীতে যবিপ্রবি ছাত্রলীগ রাজনৈতিক ক্ষমতাবলে অন্য কোনো মতাদর্শের শিক্ষার্থীর শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেয়নি।
বর্তমান প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমান উপাচার্য যেন সদ্য সাবেক উপাচার্যের মতো শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক মতাদর্শের মানদণ্ডে বিচার না করে 'শিক্ষার্থী' হিসেবে বিবেচনা করেন এবং শিক্ষার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেন।
অন্যথায়, শিক্ষা জীবন হারিয়ে হতাশাগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের নেওয়া যেকোনো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে বলে চিঠিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন কর্মকর্তা জানান, তাদের কথা যেন কোট না করা হয়, উপাচার্য ডিনদের সাথে এ বিষয়ে মিটিং করেছেন, মিটিং এ তিনি বলেছেন বিষয়টি নিয়ে কোন মন্তব্য করলে নিজেদের অপরাধ ও ব্যর্থতা সামনে আসবে এতে সকলেই চাপে পড়বে। তাই কোন প্রকার মন্তব্য না করে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যেতে বলেছেন।