16/09/2024
‘আমপারা’-পড়া হাম-বড়া মোরা এখনো বেড়াই ভাত মেরে!” কাজী নজরুলের এই বিদ্রোহী লাইন দিয়ে শুরু করি। ব্যাপারটা এমন যেন, রাসুল (সঃ) এর উপর আমাদের দেশের কিছু মানুষের কপিরাইট রয়েছে! আমি রাছুলের জন্মদিন পালন করবো কিনা, বা কীভাবে করবো সেটা তারা বলে দিবে। বিদাআত বিদাআত বলে চিল্লায়। আরে ভাই!
আল্লাহ বলেছেন ”তোমরা আল্লাহর নিয়ামত ও রহমত প্রাপ্তিতে আনন্দ করো”। আর রাসুলের মতো এতবড় নিয়ামত প্রাপ্তিতে আমি আনন্দ করবো না?
জন্মদিন উপলক্ষে রাসুল (সঃ) নিজে রোজা রাখতেন, অন্য সাহাবীরা রোজা রেখেছেন। আমি রাখলে বিদাআত না?
এইদিনে আবু লাহাব জাহান্নামের মধ্যে কয়েক ফোটা পানি খেতে পায়। কারণ সে রাসুল (সঃ) এর জন্ম গ্রহণের খুশিতে, তার দাসী সুয়াইবাকে মুক্ত করে দিয়েছিল। আর আমি কিছু গরিবলোককে খাওয়ালে, বা দান করলে সেটা বিদাআত না?
রাসুলের কবরে ৭০ হাজার ফেরেস্তা আকাশ হতে জুলুছ (মিছিল) সহকারে দৈনিক ২ বার ফজরে ও আছরে আসে এবং সালাম পেশ করতে থাকে। কিয়ামত পর্যন্ত এ নিয়ম চলতে থাকবে। আর আমি একটা মিছিল করলে বিদাআত না?
রাসুলুল্লাহ (সঃ) হযরত আবু আমের (রাঃ)-এর ঘরে গমন করে দেখতে পেলেন যে, আবু আমের আনসারী (রাঃ) তাঁর নিজ সন্তানাদিসহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনকে একত্রিত করে রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর জন্মের ঘটনা বিবরণী শোনাচ্ছেন। তাঁর একাজে আল্লাহর রাসূল অত্যান্ত আনন্দিত হলেন এবং বললেন-হে আমের! নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তোমার জন্য তার রহমতের দ্বার উন্মুক্ত করেছেন এবং ফেরেস্তাকুল তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। যারা তোমার ন্যায় এরূপকর্ম করবে তারাও তোমার মত পরিত্রাণ পাবে। আর আমি রাছুলের জীবনী নিয়ে আলোচনার আয়োজন করলে বিদাআত না?
রাসুলের মৃত্যুর পরে অন্যান্ন দিনের পাশাপাশি এইদিনেও আরবের মক্তবগুলোতে রাসুলের বীরত্ব, মহিমা, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা শিক্ষার্থীদের শোনানো হতো। সেই শিক্ষা বা শোনা গল্পগুলোর অনেকটায় পরবর্তিতে হাদিস হিসাবে সংগৃহীত হয়েছে। তাহলে আমরা আলোচনা করতে পারব না কেন?
এগুলো হলো ধর্মীয় দিক। কিন্তু মিলাদুন নবীর একটি রাজনৈতিক দিকও আছে। সেটা আমাদের মূল্যায়ন করতে হবে। এবার বলি হ্যা,
ইসলামের প্রথম যুগে, সাহাবী, তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীদের মধ্যে ঘটা করে, রাসূলের জন্মদিন পালন বা উদযাপন করার প্রচলন ছিল না। কিন্তু ৪র্থ শতাব্দীর মাঝামাঝি শিয়ারা, ইয়াহুদিরা, রাসুলের নামে বিভ্রান্তি ছড়াতে লাগলো, রাসুলের বানীগুলোকে বিকৃত করতে লাগলো। পরতর্তিতে কুসেডাররা, তাতাররা ইসলামী রাষ্ট্রগুলো দখলে নিয়ে ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্রগুলো ধ্বংশ করলো, ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থাই বন্ধ করে দিল।
এই পরিস্থিতিতে জ্ঞানচর্চা, ধর্মীয় মূল্যবোধের বিকাশ ব্যহত হয়। অপরদিকে সমাজের মানুষের মধ্যে বিলাসিতা ও পাপাচারের প্রসার ঘটতে থাকে। সমাজের বিভিন্ন স্তরে ইসলাম বিরোধী আচার আচরণ, কুসংস্কার, ধর্মীয় বিকৃতি ছড়িয়ে পড়ে।
এমনই পরিস্থিতিতে রাসুল (সঃ) এর প্রকৃত জীবনীকে মুসলিমদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।
ভাইরে! সব বিদাআত হারাম নয়।