13/09/2024
মিনিমালিজম ও নববি জীবনাদর্শ
জীবন দর্শন হলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাপারগুলো নিয়ে আমাদের চিন্তা চেতনার সম্মেলন।মিনিমালিজম হলো একটি হাল আমলের নব্য জীবনদর্শন যা আমাদেরকে শেখায় সবকিছুতে ‘কমই শ্রেয়’ দর্শনের অনুসারী হওয়া।প্রায় সাড়ে চৌদ্দশ বছর পূর্বে নববী জীবনাদর্শ ও আমাদের কে শেখায় অল্পে তুষ্টি থাকা। সেটা কি হবে কোন একসাথে খুঁজে বের করি।
মিনিমালিজম এর ধারণা প্রথমে শুরু হয় ১৮০০ থেকে ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে এবং ২০০০ সালের পরে এটা ব্যাপক সাড়া জাগে জীবনধারা হিসাবে, যেটা তারা এখনো বহল। মিনিমালিজম এর সঙ্গে উদ্দেশ্য জীবনটাকে সহজ করা , আপনাকে জীবনের মূল্য সম্পর্কে দ্বিধান্বিত হতে শেখানো। যা করছেন, সেটি কি আপনার জন্য সত্যিই দরকারি? যেভাবে যাপন করছেন আপনার প্রতিদিনকার জীবন, তা ঠিক কতটা সঙ্গত? যেসব বস্তু আপনার মালিকানাধীন, সেসবের কতটা প্রয়োজন আছে আপনার দৈনন্দিন জীবনে? কতজন মানুষের সাথে আপনার অর্থবহ ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে আপনার? আপনার জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে কতটা সচেতন আপনি? আপনি যা অর্জন করতে চান জীবনে, তার সাথে কি আপনার দৈনন্দিন কাজকর্মের মেলবন্ধন আছে, এবং থাকলে কতটা? প্রতিদিন যে কাজগুলো করেন, সেগুলোর কয়টি অর্থবহ আর কয়টি অর্থহীন?আশা করছি মিনিমালিজম কি এবং আমাদের জীবনকে কিভাবে প্রভাবিত করছে সেটা উপলব্ধি করতে পেরেছেন।
পর্যালোচনার এ পর্যায়ে জানবো নবী সাঃ এর জীবন কেমন ছিল।একই সাথে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করব সুন্নাহ মাফিক জীবন কি আমাদেরকে মিনিমালিস্টিক হতে উৎসাহিত করে যা এই আমলের ট্রেন্ডিং জীবনধারা।
কেমন ছিল নবী সাঃ এর ঘরঃ
ঘরের দেয়ালে কোন প্রকার জীবের ছবি ছিল না।কারণ অপ্রয়োজনীয় কোন আসবাবপত্র নবীর ঘরে শোভা পায়নি। নবীর ঘরের আসবাবপত্র ছিল হাতে গোনা কয়েকটি।নবীর পানপাত্র ছিল লোহার পাত দিয়ে বাঁধাই করা কাঠের তৈরি এক পাত্র । ঘরের ছিল একটি লৌহ-বর্ম। ঘরের পিছনে একটা ছিল খেজুরের পাতার যেখানে ঘুমালে নবীজি সঃ এর পিঠে দাগ পড়তো।এই অল্প সংখ্যক কিছু জিনিসই ছিল নবীজির ঘরে।
মিনিমালিজম জীবন দর্শন ও আমাদের এই একই কথাই বলে ঘরে ততটুকু জিনিসই থাকবে যা প্রয়োজনীয়।
খাওয়া দাওয়া ব্যাপারে নবীজিঃ
রাসুল সা খাওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থী। তিনি কখনো পেট সম্পূর্ণ ভরে খাবার খেতেন না তিনি পেটের একাংশ খাবার দাবা পূর্ণ করতেন এক অংশ পানি দ্বারা এবং এক অংশ খালি রাখতেন। এভাবেই খাওয়া দাওয়া ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অল্পতে তুষ্ট।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ হাদিসটি অনুধাবন করুন। তিনি বলেন,
“সৌভাগ্য তো ইসলামের পথে হিদায়েত প্রাপ্তদের জন্য, এমতাবস্থায় তার জীবনোপকরণও যথেষ্ট ও তুষ্টি পূর্ণ”
সংক্ষিপ্ত এই আলোচনা পরিশেষে আমরা দেখতে পাই যে সুন্নাহ মাফিক জীবন ব্যবস্থার বর্তমান নামই মিনিমা্লিস্টিক জীবনধারা যেটা পৃথিবীর মানুষ ২০০০ সালের পরে এসব উপলব্ধি করেছে সেটা আমাদের প্রিয় নবী প্রায় সাড়ে চোদ্দশ বছর আগে নিজের জীবনে প্রতিফলন ঘটিয়ে আমাদের জন্য আদর্শ হিসেবে রেখে গিয়েছেন। তাই আসুন আমরা সুন্নাহকে নিজের জীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেই।