05/08/2025
গত জুনে ইউটিউবে ৪০০ মিলিয়ন (৪০ কোটি) সাবস্ক্রাইবারের মাইলফলক স্পর্শ করেন মিস্টার বিস্ট ওরফে জিমি ডোনাল্ডসন।
তার সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা বাংলাদেশের জনসংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি!
অনেকের মনেই প্রশ্ন, মিস্টার বিস্ট তিনি এত জনপ্রিয়? এর পেছনে আসলে অনেকগুলো কারণ রয়েছে।
প্রথমত, তার ভিডিওতে অবিশ্বাস্য সব চ্যালেঞ্জ থাকে।
তার ভিডিও মানেই বিশাল আয়োজন আর টান টান উত্তেজনা।
জনপ্রিয় টিভি সিরিজ “স্কুইড গেম”-এর পুরো সেট বানিয়ে সাধারণ মানুষকে নিয়ে সেই খেলার আয়োজন করেছেন তিনি।
সেই ভিডিও এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ কোটি মানুষ দেখেছে।
টানা ৫০ ঘণ্টা জীবন্ত কবরের নিচে শুয়ে ছিলেন তিনি।
মিসরের পিরামিডগুলোর ভেতরে কাটিয়েছেন ১০০ ঘণ্টা।
দ্বিতীয়ত, মানুষের স্বপ্ন পূরণ করেন তিনি।
বিস্ট তার ভিডিওর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে গাড়ি, বাড়ি, এমনকি লাখ লাখ টাকা উপহার দেন।
একবার তো তিনি তার এক সাবস্ক্রাইবারকে একটি ব্যক্তিগত দ্বীপই উপহার দিয়ে দিয়েছিলেন!
মাত্র কিছুদিন আগে একজনকে দিয়েছেন একটি বিমান।
তৃতীয়ত, মানুষের জন্য কাজ করেন জিমি।
তিনি অনেক দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছেন, এখনো করছেন।
আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ১০০টি কুয়ো খনন করে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করেছেন।
এক হাজার দৃষ্টিহীন মানুষের চোখের ছানি অপারেশন করিয়ে তাদের দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়েছেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য লাখ লাখ ডলার দান করেছেন।
২০১৯ সালে ২০ মিলিয়ন গাছ লাগানোর একটা উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি।
৫৬ দিনের মধ্যে সেই লক্ষ্য পূরণ করে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৪.৮ মিলিয়নের বেশি গাছ লাগিয়েছেন তিনি।
সমুদ্র থেকে ৩০ মিলিয়নের বেশি প্লাস্টিক ও বর্জ্য পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন ২০২১ সালে।
এছাড়া বিভিন্নভাবে স্কুলে সহায়তা, দরিদ্রদের উপকার করা তো তার জন্য নিয়মিত ব্যাপার।
২০২৫ সালের মে মাসে এই ইউটিউবারের সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৩০-এর নিচে বয়সীদের মধ্যে তিনিই বিশ্বের কনিষ্ঠ স্ব-নির্মিত বিলিয়নিয়ার।
তার কোম্পানি বিস্ট ইন্ড্রাস্ট্রিজ ২০২৪ সালে আয় করেছে প্রায় ৪৭৩ মিলিয়ন ডলার, যা এ বছর দ্বিগুণ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।
ইউটিউব ছাড়াও তার রয়েছে বার্গার চেইন, স্ন্যাকস ব্র্যান্ড, টেক বিনিয়োগ ও দাতব্য প্রকল্প—সব মিলিয়ে তিনি এখন বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী অনলাইন উদ্যোক্তাদের একজন।
©Dhaka Tribune