12/03/2026
আজ সন্ধ্যা থেকে ২৩তম রামাদান শুরু হয়েছে। আজ সম্ভাব্য কদরের রাত। আসুন, বেশি বেশি নেক আমলে মশগুল হই।
▬▬▬▬▬▬▬❖▬▬▬▬▬▬▬
সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনু উনাইস (রা.) রামাদানের ২৩তম রাতকে কদরের রাত মনে করতেন। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৬৫]
তিনি বলেন, একবার আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলি, ‘আমার একটি খামার আছে এবং আল্লাহর প্রশংসা যে, আমি সেখানেই নামাজ পড়ি। কাজেই আপনি আমাকে রাতটি সম্পর্কে বলে দিন, যাতে আমি এই মসজিদে আসতে পারি।’ তখন তিনি বলেন, ‘‘তুমি রামাদানের ২৩তম রাতে আসবে।’’
মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহিম (রাহ.) বলেন, ‘আমি (উপরের হাদিসের বর্ণনাকারী) আবদুল্লাহর পুত্রকে জিজ্ঞাসা করি, আপনার পিতা (তখন) কী করতেন?’ তিনি বলেন, ‘আমার পিতা রামাদানের (২২ তারিখে) আসরের নামাজ আদায়ের পর মসজিদে গমন করতেন এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত কোনো প্রয়োজনে সেখান থেকে বের হতেন না। অতঃপর তিনি ফজরের নামাজ আদায়ের পর মসজিদের পাশে থাকা তাঁর বাহনের উপর আরোহণ করে নিজ খামারে প্রত্যাবর্তন করতেন।’ [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৩৮০; হাদিসটি হাসান সহিহ]
তাহলে বুঝা গেলো, তিনি ২২ তারিখ বিকেলে মসজিদে চলে যেতেন। ২৩তম রাতে সেখানে ইবাদত করে সকালে চলে আসতেন।
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.) বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘‘তোমরা রামাদানের শেষ দশকে কদরের রাত অনুসন্ধান করো। তোমাদের কেউ যদি দুর্বল অথবা অক্ষম হয়ে পড়ে, তবে সে যেন অবশিষ্ট ৭টি রাতে অলসতা না করে।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৫৫]
আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কতিপয় সাহাবিকে স্বপ্ন দেখানো হলো যে, (রামাদানের) শেষ সাত দিনের (রাতের) মধ্যে কদরের রাত নিহিত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘‘আমি দেখতে পাচ্ছি, শেষের ৭ (রাত) সম্পর্কে তোমাদের সকলের স্বপ্ন পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতএব, যে ব্যক্তি তা (কদরের রাত) অন্বেষণ করবে, সে যেন রামাদানের শেষ ৭টি রাতে তা অন্বেষণ করে।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৫১]
রামাদান যদি ২৯ দিনে হয়, তাহলে শেষ ৭টি রাতের মধ্যে আজকের রাতটিও আছে।
সুতরাং, আজ থেকে বাকি রাতগুলো আমরা যেন কোনোভাবেই অবহেলায় না কাটাই। আজকের রাতসহ শেষ ৭টি রাত অত্যন্ত মূল্যবান। এই ৭ রাতের মধ্যে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই, আজকের রাতটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।