জামালপুর মানবাধিকার পরিষদ

জামালপুর মানবাধিকার পরিষদ Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from জামালপুর মানবাধিকার পরিষদ, Non-Governmental Organization (NGO), jamalpur, Jamalpur Sadar Upazila.

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: লক্ষ্মীপুরের ডাঃ ফয়েজ আহমদকে গুলিকরে ছাদ থেকে ফেলে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ ...
16/01/2025

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: লক্ষ্মীপুরের ডাঃ ফয়েজ আহমদকে গুলিকরে ছাদ থেকে ফেলে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল।
ঘটনাস্থলঃ লক্ষ্মীপুর জেলার পৌরসভাধীন উত্তর তেমুহনীর ভিকটিমের বাসভবন কাউসার মঞ্জিল।
২০১৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে বারটার দিকে ডাঃ ফয়েজ আহমেদ এর নিজ বাসার ছাদে নিয়ে পিটিয়ে, গুলি করে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। ডাঃ ফয়েজ আহমেদ অত্যন্ত মানবিক ডাক্তার হিসেবে পরিচিত এবং লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ছিলেন। হত্যার ঘটনায় বাদী হয়ে তার সন্তান ডা: হাসানুল বান্না আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন।অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহি উদ্দিন খান আলমগীর, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা তারেক আহাম্মদ ছিদ্দিকী, সাবেক এ.ডি.জি র‍্যাব মেঃ জেঃ জিয়াউল আহসান, র‍্যাব-১১ এর সাবেক সি.ই.ও তারেক সাইদ মোহাম্মদসহ ৪১ জনকে আসামী করা হয়েছে।
আসামীগন ২০১৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর রাতে আসামীগন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সরকারী বিভিন্ন প্রকার আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে র‍্যাব এর স্টিকার যুক্ত একটি গাড়ীতে করে ঘটনাস্থলের বাসায় এসে লোহার গেট ভেঙ্গে ফেলে এবং ভিকটিম ডাঃ ফয়েজ আহমেদকে নিজের বাসার দ্বিতীয় তলার কক্ষ থেকে ধরে নিয়ে ধাক্কাইতে ধাক্কাইতে বিল্ডিংয়ের ছাদে নিয়া যায়। এই সময় আইন-শৃংখলা বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা (আসামীগন) বাদীর বিল্ডিং ঢোকে সকল কক্ষের দরজার তালা ভেংঙ্গে তল্লাশী ও ভাংচুর চালায়।
আসামীগন বাদীর পিতা ডাঃ ফয়েজ আহমেদ ছাদে নিয়া তাদের হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রের বাঁট দিয়া হত্যার উদ্দেশ্যে ভিকটিম ডাঃ ফয়েজ আহমেদ এর মাথার সম্মুখ ভাগ ও নাকে মুখে সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি পিটাইয়া গুরুতর জখম করে।
উধতন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তাদের নির্দেশে আসামী তারেক সাইদ মোহাম্মদ তাহার হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়া ভিকটিম ডাঃ ফয়েজ আহমেদ এর ডান হাঁটুর উপরে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে, তাতে ওই স্থানে গভীর ক্ষত হয়ে ব্যাপক রক্তপাত হয়। এই সময় আসামীগন গুরুতর আহত অবস্থায় মৃত্যু নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে ভিকটিম ডাঃ ফয়েজ আহমেদকে তৃতীয় তলার ছাদের ওপর থেকে উপুড় করিয়া (অর্থাৎ মাথা নিচের দিকে দিয়া) বিল্ডিং এর সামনের অংশের নিচে ফেলে দেয়। এই সময় ভিকটিম ডাঃ ফয়েজ আহমেদ এর ছোট ছেলে বেলাল আহমেদ বাসার ছাদের কার্নিশে লুকানো অবস্থায় এসব ঘটনা দেখতে পান।

ডাক্তার হাসানুল বান্না
ভিকটিমের বড় ছেলে ও বাদী

25/06/2024
04/02/2024

১২ বছর আগের কথা। ৪ ফেব্রুয়ারি। গভীর রাত। দিনে শীতের দেখা না পাওয়া গেলেও রাতে বেশ শীত জেঁকে বসে। ঢাকা থেকে ছাড়লো হানিফ পরিবহনের একটি বাস। বাসের নাম্বার ‘ঝিনাইদহ-৩৭৫০’। বাসের গন্তব্য কুষ্টিয়া। সেই বাসে উঠে বসে দুই বন্ধু। তাদের গন্তব্য কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। তারা সেখানেরই ছাত্র।

রাতের বাসের যাত্রীরা সাধারণত ঘুমিয়ে পড়ে। তবে ঘুমিয়ে পড়ার সময়টুকু তারা তখনো পায়নি। বাস ছেড়েছে বেশিক্ষণ হয়নি। বাসে যাত্রীরা কথা বলছেন নিজেদের মধ্যে। হালকা শব্দে গান ছেড়েছেন চালক। গাড়ির বাইরে মধ্যরাতে আশপাশের জনপদে নীরবতা নেমে এসেছে ততক্ষণে। হানিফ পরিবহনের বাসটিও ছুটে চলেছে কুষ্টিয়ার পথে।

ততক্ষণে সাভার পেরিয়ে বাসটি পৌঁছাল নবীনগর এলাকায়। চালক দেখলেন বাসটি থামানোর সংকেত দিচ্ছে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর একটি গাড়ি। গতি কমালেন চালক। বাসের গতিরোধ করে দাঁড়াল র‌্যাব-৪ এর একটি গাড়ি। র‌্যাবের পোশাকে ৮-১০ জন উঠলেন বাসটিতে। সবার হাতে অস্ত্র। ইউনিফর্ম ছাড়াও রয়েছেন ভিন্ন পোশাকের কয়েকজন। উপস্থিত যাত্রীদের ধারনা তারা গোয়েন্দা শাখার লোকজন এবং তাদের সোর্স। র‌্যাবের সদস্যদের দেখে যাত্রীদের সকলেই মনে করেন তল্লাশি চলবে হয়তো।

যাত্রীরা যখন তল্লাশির অপেক্ষায় তখন দেখা গেল নির্ধারিত দুটি সীটের পাশে গেলো র‌্যাবের সদস্যরা। বাসটির সিট নম্বর C1 ও C2 তে বসেছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বন্ধু। এই দুই সীট ঘিরেই র‌্যাবের যত তৎপরতা। এমন পরিস্থিতিতে বাসের ভেতর তখন ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় বসে থাকলেন অন্য যাত্রীরা। কেউই ভয়ে কথা বলছেন না। যাত্রীদের চোখের সামনে থেকেই সেই দুই ছাত্রকে তুলে নিলেন র‌্যাব-৪ এর সদস্যরা।

তাদের নিয়ে যাওয়ার সময় বলা হল-‘আমরা আইনের লোক। আমাদের সঙ্গে আসুন’। দ্রুতই এই অপারেশনের সমাপ্তি ঘটে বাসটিতে। এরপর থেকে আজ অবধি খোঁজ মিলেনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী সেই দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাসের। গল্প এখানেই শেষ। হারিয়ে গেল তারা। গুম করে ফেললো র‍্যাব তাদেরকে।

ওয়ালিউল্লাহ ছিলেন দাওয়া অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজের মাস্টার্সের ছাত্র। র‌্যাবের হাতে গুম হওয়া মুকাদ্দেস আল ফিকহ্ বিভাগের ছাত্র। লেখাপড়ার পাশাপাশি শতাধিক গান, গল্প আর নাটক লিখেছিলেন মুকাদ্দেস।

এই খবরটি যখন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে তখন ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের পরিবারেও দ্রুত পৌঁছে যায় খারাপ খবরটি। সন্তানের খোঁজে র‌্যাব, পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা দফতরে চষে বেড়িয়েছেন স্বজনরা। কিন্তু, নিজেদের অপকর্ম স্বীকার করেনি কোনো বাহিনী। হানিফ পরিবহনের যে বাসটি থেকে দুই ছাত্রকে তুলে নেয়া হয়েছিল তার চালক ও সুপারভাইজারও ঘটনার পর স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদেরকে বলেছিলেন যে, র‍্যাব-৪ এর সদস্যরাই তুলে নিয়েছে শিক্ষার্থীদেরকে। এমনকি বাসের কয়েকজন যাত্রীও সেই সময় একই তথ্য দিয়েছিলেন।

নিখোঁজ আল মুকাদ্দাস ও ওয়ালিউল্লাহকে কেন আদালতে সশরীরে হাজির করা হবে না, জানতে চেয়ে ২০১২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সরকারের প্রতি রুল জারি করেছিল হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিষয়টি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছিল। বিচারপতি আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি আকরাম হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এ রুল জারি করেছিল। হাইকোর্টের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল র‌্যাবের হাতে আটক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আল মুকাদ্দাস ও মো. ওয়ালিউল্লাহকে সশরীরে আদালতে হাজির করার জন্য। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক তাদের আটকের বিষয়টি কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয়। ওই দুই ছাত্রের আত্মীয়দের করা পৃথক দু’টি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট থেকে এই আদেশ দেওয়া হয়েছিল।

রুল জারির তিন সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের আইজি, র‍্যাবের ডিজিসহ ৯ জনকে জবাব দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু, এতটুকুতেই থেমে গেছে আওয়ামী হাইকোর্ট। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদি সরকারও আওয়ামী হাইকোর্টের এই নির্দেশনার কোন পাত্তাই দেয়নি। সে সময় বাদীর আইনজীবী তাজুল ইসলাম আদালতে বলেছিলেন, সুপ্রিমকোর্ট সংবিধানের রক্ষক। এভাবে একের পর এক মানুষ আটক করার পর নিখোঁজ হয়ে গেলে দেশে সাংবিধানিক ও আইনের শাসন ভেঙে পড়বে। মানুষ সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।

আল মোকাদ্দাস ও ওয়ালিউল্লাহর গুমের ঘটনায় দেশে-বিদেশে অনেক প্রতিবাদ হয়েছে। ক্লাস বর্জন, আন্দোলন, বিক্ষোভও করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। কিন্তু ফ্যাসিস্ট মাফিয়া সরকার ফেরত দেয়নি এই দুই ছাত্রকে। শেখ হাসিনা তার বাবা শেখ মুজিবের রক্ষীবাহিনীর মতো র‍্যাবকে একটি গুণ্ডা মাফিয়া বাহিনীতে পরিণত করেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ‘ছাত্রনেতারা নির্যাতনের ঝুঁকিতে’ শীর্ষক শিরোনামে বিবৃতিও দিয়েছিল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দুই ছাত্রকে উঠিয়ে নেওয়ার সময় র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন মোখলেসুর রহমান। র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোখলেসুর রহমানের মেয়াদকালে এরকম অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে। এমনসব গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের জন্য র‌্যাবের মহাপরিচালক থাকাকালে ২০১২ সালে তাকে পুলিশের সর্বোচ্চ পদক "পুলিশ পদক (বিপিএম)" দেওয়া হয়েছিল হাসিনা মাফিয়া সরকারের পক্ষ থেকে।

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে এই সময় দায়িত্ব পালন করেন কর্নেল জিয়াউল আহসান। শেখ হাসিনার খুনি বাহিনীর অন্যতম সদস্য হিসাবে জিয়াউল আহসানই এই বাহিনীতে সবচেয়ে বেশি সময়কাল দায়িত্ব পালন করেন। তার নির্দেশ ও দিক নির্দেশনায় বিরোধী দলের অনেক নেতা-কর্মীকে তথাকথিত ক্রসফায়ারে হত্যা ও গুম করা হয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রের গুমেও তার প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ছিল বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের অনুসন্ধানে জানা গেছে।

১১ বছর হয়ে গেল। প্রিয় সন্তান আর ফেরেনি ঘরে। মায়ের কান্না আর বাবার আহাজারিও থামেনি। আর প্রিয় ভাইকে কাছ পেতে অপেক্ষায় আছে ছোট ভাই-বোনেরা। ক্যাম্পাসের বন্ধুরাও ক্যাম্পাস ছেড়ে গেছে বহুদিন আগে। হতাশা আর আক্ষেপ নিয়ে বেঁচে আছে তারা।

সরকারি গুণ্ডা র‍্যাব তো বিনা কারণে তাদের গুম করবে না। অবশ্যই তাদের অপরাধ আছে। অবশ্য এই অপরাধ আইনের দৃষ্টিতে নয়। তাই আইনের কাছে সোপর্দ করার হিম্মত হাসিনা ও তার গুণ্ডাদের হয়নি। তারা দুই বন্ধু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবিরের নেতা ছিলেন। এটাই তাদের জন্য কাল হয়েছে। ক্যাম্পাসের ছাত্রলীগের তালিকা অনুযায়ী ছাত্রশিবিরের মেধাবী ও যোগ্য সংগঠকদের র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাদের দিয়ে ধরে ধরে গুম, গ্রেফতার বা নির্যাতন করা হয়েছে তখন। এখনো এই ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান অনেকে।

আজ ৪ ফেব্রুয়ারি। ওয়ালি-মুকাদ্দাস ভাইকে হারানোর ১২ বছর। অথর্ব আমরা! বসে বসে দিন গুণি। আমাদের কেউ ক্ষমা করবে না। কেউ না।

পুরাতন লেখা
ব্যর্থ সৈনিকের দিনলিপি

04/02/2024

ধর্ষনের সাথে লীগ আমলের চক্রবৃদ্ধিহারের একটা সম্পর্ক আছে। এরা যখনই পাওয়ারে আসে, ধর্ষকের সংখ্যা কীভাবে যেন অনেক বেড়ে যায়

01/02/2024

নয়ন আহমেদ
১৫ অক্টোবর ১৯৭১

নয়ন আহমেদ ১৯৭১ সালের ১৫ অক্টোবর ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। বাবা মোহাম্মদ আবদুর রব ও মা আলেয়া বেগম এর চার সন্তানের মধ্য সবার বড় সন্তান। তিনি মাধ্যমিক পাস করেন গ্রামের স্কুল থেকে। এরপর বরিশাল কলেজ থেকে এইসএসসি। বাংলাভাষা ও সাহিত্যে অনার্সসহ এমএ করেন বিএম কলেজ থেকে। নয়ন আহমেদ নব্বই দশকে লেখালেখি শুরু করেন। প্রেম, প্রকৃতি, মানবতাবোধ, আধ্যত্মিকতা তার কবিতার প্রধান বিষয়। কবিতায় তিনি প্রাচ্য-প্রতীচ্য মিথ ও ইসলামি ঐতিহ্য ব্যবহার করেন। তার কবিতা বইসমূহ ‘আমার বিবাহিত শব্দরা; খনিঘুম; মারেফত সিরিজ; এককাপ গণযোগাযোগ; নাতিদীর্ঘ দুপুরের ধ্বনি; কিছু মেরুদন্ডী উচ্ছ্বাস অন্যতম। তার সৃজনশীল কার্যক্রমের জন্য বিভিন্ন সংগঠন থেকে সাহিত্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। লেখকের ১৯৯১ সালে শিরিন আক্তারকে কবুল বলে সংসার শুরু করেন। সংসার জীবনে তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা। পেশাগত জীবনে তিনি অধ্যাপনায় আছেন বরিশালের একটি ফাজিল মাদ্রাসায় বাংলা বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক।

প্রত্যুত্তর

কে তোমাকে নাম দিয়েছিলো- ‘পৃথিবী’?
কে ভালোবাসার ঘূর্ণাবর্ত ছড়িয়েছিলো শিরায় শিরায়?
সে কি কবি নয়!
অথচ, বুড়ো বিজ্ঞানীর দল বলছে- তুমি কমলালেবুর মতো গোল
কেউ কেউ বলছে–তুমি কিছুটা চ্যাপ্টা;
একটা হাঁসের ডিমের মতো
ওদের ধারালো শিং দিয়ে তোমাকে গুঁতো দিয়েছে কতবার!
অসংখ্যবার তোমার গায়ে চিমটি কেটেছে নির্বোধের মতো
বিরক্ত করেছে অতি প্রাজ্ঞ পণ্ডিত সম্প্রদায়; বুড়ো ভাম!
প্রত্যুত্তরে তুমি কিছুই বলো না
কেবল ফোটাও রক্তজবার মতো গভীর লাল নৈবেদ্য ও হৃদয়
কাঁটা ভেদ করে যত্রতত্র স্বাক্ষর করো গোলাপে গোলাপে
রজনীগন্ধার ডাঁটায় উঁচু করে রাখো সব ভোর
আর বারবার শোনাও চিরহরিৎ কুহু কুহু।

‘কাশ্মিরে স্বাধীনতাকামীদের সমর্থন করার অভিযোগে হুরিয়তকে নিষিদ্ধ করল ভারত...ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মিরে স্বাধীনতা সংগ্রামক...
04/01/2024

‘কাশ্মিরে স্বাধীনতাকামীদের সমর্থন করার অভিযোগে হুরিয়তকে নিষিদ্ধ করল ভারত...

ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মিরে স্বাধীনতা সংগ্রামকে সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার অভিযোগে উপত্যকাটির স্বাধীনতাকামী সংগঠন তেহরিক-ই-হুরিয়তকে বেআইনি সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে এই খবর জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজেই। কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামী নেতা সম্প্রতি মৃত্যুবরণ করা সৈয়দ শাহ গিলানি প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটিকে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে (ইউএপিএ) পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অমিত শাহ তার এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে লেখেন, ‘তেহরিক-ই-হুরিয়ত সংগঠনটি এক সময় জম্মু ও কাশ্মিরের বিচ্ছিন্নতাবাদে মদদ জুগিয়েছে এবং ইসলামিক শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে।’

গিলানি প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটির বিরুদ্ধে কাশ্মিরে ভারতবিরোধী প্রচারে মদদ জোগানোর অভিযোগও তুলেন অমিত শাহ। তার এ বার্তার পর তেহরিক-ই-হুরিয়তকে নিষিদ্ধ করার কথা জানিয়ে সরকারি গেজেট প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব প্রবীণ বশিষ্ঠ।

‘ভারতবিরোধী কার্যকলাপের’ অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই তেহরিক-ই-হুরিয়তের কার্যকলাপে নজর রেখেছিল কেন্দ্র। ২০০৪ সালে এ দলটি প্রতিষ্ঠা করেন মরহুম সৈয়দ শাহ গিলানি।

দেশে দেশে ইসলামপন্থী সংগঠনগুলো যে নির্মম ক্র্যাকডাউনের শিকার হচ্ছে তার সর্বশেষ ভিকটিম হলো তেহরিক-ই-হুরিয়ত।

রফিকুল ইসলাম দুলালের মুক্তি দাবি============================= পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের ( ডিইউজে)  ...
09/09/2023

রফিকুল ইসলাম দুলালের মুক্তি দাবি
=============================
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের ( ডিইউজে) সদস্য রফিকুল ইসলাম দুলালকে আজ সকালে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে দুলালের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তাঁর মুক্তি দাবি করছি।

খন্দকার আলমগীর হোসাইন
কোষাধ্যক্ষ
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)

ছবিতে যে ছেলেটিকে দেখতে পাচ্ছেন। ওর নাম শহীদ নুরুজ্জামান জনি। খিলগাঁও থানা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক ছিল। ছোট ভাইকে পুলিশ...
08/09/2023

ছবিতে যে ছেলেটিকে দেখতে পাচ্ছেন। ওর নাম শহীদ নুরুজ্জামান জনি।

খিলগাঁও থানা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক ছিল।

ছোট ভাইকে পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিল ও রাজনীতি করতো এই কারনে। ছোট ভাইকে দেখার জন্য কারাগারে গিয়েছিল। কারগারের সামনে থেকে মহান আওয়ামী বাহিনীর লাঠিয়াল বাহিনী তাকে তুলে নিয়ে যায়।

ঠিক তার একদিন অথবা দুদিন পর জনির লাশ পাওয়া যায়। জনির বুকে পিঠে বিশটার উপর গুলিতে ঝাঝরা করা ছিল।

মৃত্যুর সময় জনির স্ত্রী ৫ মাসে অন্তসত্তা ছিল।
জনি সন্তানের মুখখানা দেখার সুযোগ পায় নাই। আর সন্তান পায় নাই বাবার মুখ দেখার সুযোগ। এর চেয়ে হৃদয়বিদারক আর কি হতে পারে ?

শহীদ নুরুজ্জামান জনি তোর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি! মহান রাব্বুল আলামিন যেন তোকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন। আমিন

তার মৃত্যুর সাথে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় কঠোর বিচার এই বাংলার মাটিতে হিবে ইনশা'আল্লাহ্।

মিছিল মিটিং থেকে এভাবে গ্রেফতার করার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি জামালপুর মানবাধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে।
08/09/2023

মিছিল মিটিং থেকে এভাবে গ্রেফতার করার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি জামালপুর মানবাধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে।

জেলা৩৬ দিনে এক জামালপুর জেলায় বিএনপির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে ৩০ ‘গায়েবি মামলা’আব্দুল আজিজ জামালপুরআপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২...
07/09/2023

জেলা
৩৬ দিনে এক জামালপুর জেলায় বিএনপির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে ৩০ ‘গায়েবি মামলা’
আব্দুল আজিজ
জামালপুর
আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১২: ২৮

জামালপুরের বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ থেকে বিএনপির নেতা–কর্মীরা ‘গায়েবি মামলায়’ আগাম জামিন নিতে হাইকোর্টে এসেছিলেন। গত ৩১ আগস্ট আদালত চত্বরেছবি: সাজিদ হোসেন
গত ২৯ আগস্ট রাতে আটক হন জামালপুর শহর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মমিনুর রহমান। পরের দিন নাশকতার মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। ২ সেপ্টেম্বর অপর একটি মামলায় আসামি করা হয় মমিনুরকে। সেই মামলার এজাহার বলছে, ১ সেপ্টেম্বর রাতে নাশকতার উদ্দেশ্যে জামালপুর শহরের একটি মাঠে গিয়েছিলেন মমিনুর।
ডিবি পুলিশের করা মামলার এজাহার ঠিক থাকলে মমিনুর কারাগার থেকে বেরিয়ে গিয়ে নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। বাস্তবে মমিনুর তখনো কারাগারে ছিলেন, এখনো কারাগারেই আছেন।
জানতে চাইলে জামালপুর কারাগারের জেলার আবু ফাতাহ ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, চার দিন ধরে (৩০ আগস্ট থেকে) বিএনপির নেতা মমিনুর রহমান কারাগারেই আছেন।
কারাগারে থাকা মমিনুর কীভাবে নাশকতার চেষ্টা করলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে জামালপুর গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মুশফিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর (মমিনুর) নামে দুটি মামলা আছে। আগের মামলায় তাঁর বাবার নাম মৃত শাহ ফিরোজ মিয়া ও গ্রাম ফুলবাড়ীয়া (জিগাতলা) উল্লেখ করা হয়েছে। আর পরের মামলায় বাবার নাম মৃত ফিরোজ মিয়া, গ্রাম শুধু জিগাতলা উল্লেখ আছে। ফলে একই ব্যক্তির নাম কি না, বিষয়টি তাঁরা যাচাই-বাছাই করছেন।
সহিংসতা ও নাশকতার চেষ্টার অভিযোগ এনে মমিনুরের মতো জামালপুরে বিএনপির দুই হাজারের বেশি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে গত ৩৬ দিনে কমপক্ষে ৩০টি মামলা হয়েছে। বিএনপির নেতাদের দাবি, এর সবই ‘গায়েবি মামলা’। অর্থাৎ ঘটনা ঘটেনি, তারপরও মামলা দেওয়া হয়েছে। যার কারণে প্রায় সব মামলার বিবরণ ও ধারা প্রায় একই রকম। মূলত দলটির নেতা-কর্মীদের শায়েস্তা করতেই কথিত এসব মামলা দেওয়া হচ্ছে।
গত ২৯ জুলাই থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ বাদী হয়ে জামালপুর সদরসহ সাতটি উপজেলায় মামলাগুলো করেছে। এসব মামলায় আসামি হিসেবে বিএনপির ৬৫১ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আর অজ্ঞাতনামা আসামি ১ হাজার ৫৯১ জন।
মামলায় উল্লেখ করা ১০টি ঘটনাস্থল ১, ২ ও ৩ সেপ্টেম্বর ঘুরে দেখেছেন প্রথম আলোর দুই প্রতিনিধি। স্থানীয় লোকজন, প্রত্যক্ষদর্শী ও কয়েকজন সাক্ষীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনাস্থলে যানবাহন ভাঙচুর বা নাশকতার চেষ্টার মতো কোনো ঘটনাতো দূরে থাক, বিএনপির নেতা-কর্মী কিংবা লোকজনকে সেসব স্থানে জমায়েত হতেও দেখেননি তাঁরা।
এক প্রশ্নের জবাবে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, পুরো জেলায় বর্তমানে প্রায় ৪০ নেতা-কর্মী কারাগারে আছেন।
ভয় দেখিয়ে মামলার সাক্ষী
জামালপুর পৌর শহরের ব্যস্ততম সর্দারপাড়ার আকাবা আলিয়া মাদ্রাসার দক্ষিণ পাশে একটি মাঠ। মাঠের আশপাশে ওই মাদ্রাসা ছাড়াও বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আছে। এই মাঠে ৩০ জুলাই রাত ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের কিছু দুষ্কৃতকারী নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য গোপন বৈঠকে জমায়েত হন। ওই বৈঠকের খবর পেয়ে সদর থানার ছয়জন উপপরিদর্শক (এসআই) ও আটজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রাত ১১টা ৪৫ মিনেটে ওই মাঠে পৌঁছান। তাঁদের উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় তাঁরা জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. এমরান হোসেনসহ বিএনপির ১২ নেতা-কর্মীকে আটক করেন।
পরের দিন ৩১ জুলাই জামালপুর সদর থানার এসআই মো. নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। ওপরের ঘটনার বর্ণনাটি মামলার এজাহার থেকে নেওয়া। ওই মামলায় দুজন সাক্ষীর সই নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ ভয় দেখিয়ে ওই দুই ব্যক্তির স্বাক্ষর নিয়েছে। যে দুজনের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে, তাঁদের একজন মো. রুহুল আমীন। তিনি মামলার ১ নম্বর সাক্ষী। আর মো. আজিজুল ইসলাম ২ নম্বর সাক্ষী। তাঁরা দুজনই ১৬ আগস্ট জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হলফনামা দিয়েছেন।
গত এক মাসে হওয়া ৩০টি মামলার মধ্যে জামালপুর সদরে ৬টি, সরিষাবাড়ীতে ৭টি, দেওয়ানগঞ্জে ৪টি, মাদারগঞ্জে ৩টি, ইসলামপুরে ৩টি, মেলান্দহে ৪টি ও বকশীগঞ্জ থানায় ৩টি মামলা রয়েছে।
হলফনামায় ১ নম্বর সাক্ষী লিখেছেন, ‘আমি ওই মামলার জব্দ তালিকার ১ নম্বর সাক্ষী। গত ৩০ জুলাই রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে আকাবা আলিয়া মাদ্রাসার দক্ষিণের খালি জায়গা থেকে দেশীয় তৈরি অবিস্ফোরিত ককটেলসদৃশ ৮টি বস্তু, ২৫টি ইটের টুকরা ও ২৫টি বাঁশের লাঠি উল্লিখিত ঘটনার স্থান থেকে আমার উপস্থিতিতে উদ্ধার হয়নি। ঘটনাস্থলের দক্ষিণ পাশে আমার বাড়ি। ওই রাতে খালি জায়গাটিতে কোনো লোক জমায়েত হয়নি। আটক আসামিদের আমার জানামতে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আসামিদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে জব্দ তালিকায় আমার স্বাক্ষর নেন। প্রকৃতপক্ষে মামলায় উল্লিখিত জায়গায় কোনো লোক জমায়েত হয়নি। আমি জানিয়া, শুনিয়া, বুঝিয়া ও স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে আদালতে অ্যাফিডেভিট দাখিল করিলাম।’ ২ নম্বর সাক্ষী মো. আজিজুল ইসলামও প্রায় একই ধরনের হলফনামা দিয়েছেন আদালতে।
জানতে চাইলে মো. রুহুল আমীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘মামলাটির বাদী এসআই নজরুল ইসলাম আমার পরিচিত। তিনি মোবাইলে ফোন দিয়ে আমাকে বাসা থেকে বের করেন। পরে ওই মামলায় সাক্ষী হতে বলেন। প্রথমদিকে আমি না করেছি। বলেছি, এখানে তো কিছুই হয়নি। তাহলে সমস্যা হবে না? তখন তিনি (এসআই) বলেন, “কোনো সমস্যা হলে আমি তো আছিই।” তারপর সাক্ষী হই। কিন্তু সত্যি কথা, ওই সময় সেখানে কেউ ছিলও না। মামলার কাউকে আমি চিনিও না। পরে আমি ব্যক্তিগতভাবে আদালতে অ্যাফিডেভিট দিয়েছি।’
একই মামলার ২ নম্বর সাক্ষী মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘ওই দিন রাত তিনটার দিকে পুলিশ এসে একটি কাগজের মধ্যে স্বাক্ষর দিতে বলে এবং তারা (পুলিশ) বলে, “কিছুই হবে না, আপনি স্বাক্ষর দেন।” পরে আমার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। কিন্তু ওই ঘটনা সর্ম্পকে আমি কিছুই জানি না।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে এসআই নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই দুই সাক্ষী নিছক মিথ্যা কথা বলছেন। আমরা ঘটনা যেটা পেয়েছি, ওনারা তো স্বেচ্ছায় ঘটনাস্থলে সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন।’

জামালপুর শহরের শাহাপুর সিকদার পাওয়ার প্লান্টের বিপরীতে মিফতাহুল জান্নাত মহিলা মাদ্রাসা সংলগ্ন ফাঁকা মাঠটিকে একটি মামলার ঘটনাস্থল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ৩ সেপ্টেম্বর তোলা ছবিপ্রথম আলো
ঘটনাস্থলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান
গত এক মাসে হওয়া ৩০টি মামলার মধ্যে জামালপুর সদরে ৬টি, সরিষাবাড়ীতে ৭টি, দেওয়ানগঞ্জে ৪টি, মাদারগঞ্জে ৩টি, ইসলামপুরে ৩টি, মেলান্দহে ৪টি ও বকশীগঞ্জ থানায় ৩টি মামলা রয়েছে।
বেশির ভাগ মামলায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিদ্যুৎ কার্যালয়ে নাশকতা, সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ, নৈরাজ্য করার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠক করতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা মাঠে জমায়েত হন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ঘটনাস্থল থেকে আসামিদের আটক করা হয়।
১০টি মামলার এজাহার ধরে ঘটনাস্থলে যান প্রথম আলোর দুই প্রতিনিধি। স্থানীয় লোকজন ও এজাহারে উল্লেখ করা সময়ে ঘটনাস্থলে ছিলেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয় তাঁদের। বিএনপির জমায়েত কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো তৎপরতার কথা তাঁরা বলতে পারেননি।
৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে জামালপুর শহরের শাহাপুর এলাকার সিকদার পাওয়ার প্ল্যান্টের বিপরীতে মিফতাহুল জান্নাত মহিলা মাদ্রাসা–সংলগ্ন মাঠে গিয়ে কথা হয় স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে। এই মাঠ থেকেই ১ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া নয়টার দিকে হৃদয় মিয়া নামের একজনকে দুটি অবিস্ফোরিত ককটেলসহ আটক করা হয়েছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পালিয়ে যাওয়া বিএনপির ২৫ জন নেতা-কর্মীর নাম পাওয়া যায়। নাশকতার উদ্দেশ্যে তাঁরা গোপন বৈঠক করতে এসেছিলেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করে পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে, অজ্ঞত ৪০ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করেন।
মিফতাহুল জান্নাত মহিলা মাদ্রাসা–সংলগ্ন ঘটনাস্থলে ও আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে ১ সেপ্টেম্বর রাতে মাঠে লোকজন জড়ো হওয়া বা নাশকতার চেষ্টার কিছু পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলের দক্ষিণ পাশেই ওই মাদ্রাসা। মাদ্রাসার সুপার মো. হেলাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ১ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ওই মাঠে কোনো জমায়েত বা লোকজন ছিল না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজনকে আসতে দেখেননি তিনি। এই প্রতিবেদকের কাছ থেকেই এ ঘটনা প্রথম শুনলেন তিনি।
৩১ জুলাই দায়ের করা অপর একটি মামলার ঘটনাস্থল ছিল জামালপুর পৌর শহরের সর্দারপাড়ার আকাবা আলিয়া মাদ্রাসার দক্ষিণ পাশের একটি মাঠ। এ মামলার এজাহারেও উল্লেখ করা হয় প্রায় একই কথা, দুষ্কৃতকারীরা নাশকতার উদ্দেশ্যে জমায়েত হয়েছিলেন। জামালপুর সদর থানার এসআই মো. নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে, অজ্ঞাতনামা ৫০ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করেন।
২ সেপ্টেম্বর সকালে ওই মাঠে গিয়ে আশপাশের লোকজনকে ওই রাতের ঘটনা সর্ম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়। কেউ এমন ঘটনা দেখেছেন বা শুনেছেন, বলতে পারেননি। ওই মাঠের প্রবেশপথেই খাদ্যপণ্যের এক দোকানি প্রথম আলোকে বলেন, ৩০ জুলাই সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত তিনি ওই মাঠে কোনো লোকজনের জমায়েত হতে দেখেননি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অভিযানও দেখেননি।
৩০ আগস্ট করা একটি মামলার ঘটনাস্থল ছিল জামালপুর শহরের জগবন্ধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে পুরাতন ঈদগাহ মাঠ। জেলা ডিবির এসআই মো. আবু রায়হান বাদী হয়ে ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে, অজ্ঞাতনামা ৫০ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করেন।
২ সেপ্টেম্বর দুপুরে ওই মাঠ–সংলগ্ন একটি মুদিদোকানির মালিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই রাতে এখানে কেউ জমায়েত হয়নি বা পুলিশের কোনো দলকে আসতে দেখিনি।’ ওই এলাকায় আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করেও এজাহারে বর্ণিত ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি।
২৩ আগস্ট হওয়া একটি মামলার ঘটনাস্থল ছিল সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের বিলুপ্ত অনন্ত সিনেমা হলের পরিত্যক্ত ফাঁকা মাঠ। জামালপুর সদর থানার এসআই মো. আনোয়ারুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৩০ জনকে আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন।
২ সেপ্টেম্বর দুপুরে ওই মাঠের আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার বিবরণ অনুযায়ী কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ওই মাঠের পূর্ব পাশে অটোরিকশার খুচরা যন্ত্রাংশ বিক্রি করেন এমন একটি দোকানের মালিক বললেন, ‘ওই দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এখানে কোনো জমায়েত বা পুলিশের অভিযান দেখি নাই, শুনিও নাই।’

জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর এলাকার বিলুপ্ত অনন্ত সিনেমা হলের পরিত্যক্ত ফাঁকা মাঠ। ২ সেপ্টেম্বর তোলা ছবিপ্রথম আলো
২৯ আগস্ট জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার ছাতারিয়া ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার উচ্চবিদ্যালয় মাঠে রাতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা জমায়েত হয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। ওই ঘটনায় সরিষাবাড়ী থানার এসআই আবদুল হান্নান বাদী হয়ে এজাহারনামীয় ১৫ ও অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে থানায় মামলা করেন। ২ সেপ্টেম্বর ওই বিদ্যালয়ের পাশের বাসিন্দা ফজল আলী (৫৫) বললেন, ‘আমরা এখানেই থাকি। গত এক মাসেও স্কুলের মাঠে কোনো দলের মিটিং হয়নি।’
১৭ আগস্ট সরিষাবাড়ীর সাইঞ্চারপাড় জোড় ব্রিজের সামনে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা জমায়েত হয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। সরিষাবাড়ী থানার এসআই শিব্বির আহমেদ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে, অজ্ঞাতনামা ৬০ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন। ২ সেপ্টেম্বর ব্রিজের পাশের দোকানদার আমির হোসেন জানান, ওই রাতে এখানে কোনো ঘটনা ঘটেনি। অনেক দিন ধরে এখানে কোনো দলের বৈঠক হয়নি।
যা বলল পুলিশ
এক মাসে বিএনপির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে ৩০টি মামলা হওয়ার বিষয়ে জামালপুরের পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মামলার সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। ওই সব মামলায় বলা আছে, সহিংসতা বা নাশকতার চেষ্টা অথবা সন্ত্রাসবিরোধী মামলা। যাঁদের নিয়ে মামলাগুলো করা হয়েছে, তাঁদের অবশ্যই পূর্বপরিকল্পনা ছিল। জামালপুর শহরটাকে একটু বিশৃঙ্খল করা যায় কীভাবে। ফলে জনগণের জানমাল রক্ষার জন্য আমাদের কাছে মনে হয়েছিল, এই জিনিসগুলো তাঁরা ঠিক করছেন না। এর পরিপ্রেক্ষিতেই মামলা নেওয়া হয়।’
মমিনুর রহমান নামের বিএনপির এক নেতা কারগারে থাকা অবস্থায় অপর এক মামলায় আসামি করা প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি আমাদের তদন্ত করে দেখতে হবে।’
ভয় দেখিয়ে সাক্ষীদের স্বাক্ষর নেওয়া প্রসঙ্গে মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘আপনি অনেক কিছুই পেয়েছেন। আমি কিন্তু একটি পরিবারের কাছ থেকেও ফোন পাইনি যে তাঁদের কাছ থেকে জোরপূর্বক সাক্ষী নেওয়া হচ্ছে বা হয়রানি করা হচ্ছে।’
৩০ আগস্টের মামলায় আমাকে আসামি করা হয়েছে। ওই দিন আমি ঢাকায় ছিলাম। তারপরও আমাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। গত এক মাসে সদর উপজেলায় ছয়টি মামলা হয়েছে। সব মামলাই মিথ্যা।
শফিকুল ইসলাম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা বিএনপি, জামালপুর
বিএনপি নেতাদের বক্তব্য
জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে আমাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা হয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান পুলিশ সুপার যোগ দেওয়ার এক দিন পরই হঠাৎ ১২ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধেও গায়েবি মামলা করা হয়। গত এক মাসে জেলায় ৩০টির বেশি মামলা হয়েছে। প্রত্যেকটি মামলার ধরন একই।’
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘৩০ আগস্টের মামলায় আমাকে আসামি করা হয়েছে। ওই দিন আমি ঢাকায় ছিলাম। তারপরও আমাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। গত এক মাসে সদর উপজেলায় ছয়টি মামলা হয়েছে। সব মামলাই মিথ্যা।’
বিরোধী পক্ষকে এভাবে মামলা দিয়ে হয়রানি করা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন উল্লেখ করে জামালপুরের এক মানবাধিকারকর্মী গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের দমনে পুলিশ গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করছেন। এটি গণতন্ত্রের ভাষা নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
[প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন শফিকুল ইসলাম, সরিষাবাড়ী, জামালপুর]

Address

Jamalpur
Jamalpur Sadar Upazila
2050

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when জামালপুর মানবাধিকার পরিষদ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share