14/05/2026
অনেক অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুর ক্ষেত্রেই ঘুমের সমস্যা একটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেন—শিশু রাতে দেরিতে ঘুমায়, মাঝরাতে বারবার জেগে যায়, খুব ভোরে উঠে পড়ে কিংবা ঘুমের সময় অস্থির আচরণ করে। দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা চলতে থাকলে তা শিশুর আচরণ, শেখার ক্ষমতা, মনোযোগ, ভাষা বিকাশ এবং পরিবারের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলে।
অটিজমে ঘুমের সমস্যা হওয়ার পেছনে কয়েকটি বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, অনেক শিশুর শরীরের “স্লিপ-ওয়েক সাইকেল” বা ঘুমের জৈবিক ছন্দ স্বাভাবিকভাবে কাজ করে না। মেলাটোনিন নামের যে হরমোন ঘুম নিয়ন্ত্রণ করে, তার নিঃসরণে অসামঞ্জস্য থাকতে পারে। দ্বিতীয়ত, সেন্সরি প্রসেসিং সমস্যার কারণে অনেক শিশু আলো, শব্দ, কাপড়ের স্পর্শ বা ঘরের পরিবেশে অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়, যা তাদের আরাম করে ঘুমাতে বাধা দেয়। এছাড়া উদ্বেগ, রুটিন পরিবর্তন, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম, খাদ্যাভ্যাস কিংবা দিনের কম শারীরিক কার্যক্রমও ঘুমের সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে।
ভালো বিষয় হলো—সঠিক রুটিন ও কিছু কার্যকর কৌশল অনুসরণ করলে বাসা থেকেই অনেক ক্ষেত্রে শিশুর ঘুমের উন্নতি সম্ভব।
প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একটি নির্দিষ্ট “বেডটাইম রুটিন” তৈরি করা। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শিশুর মস্তিষ্ককে ঘুমের জন্য প্রস্তুত হতে সাহায্য করে। ঘুমানোর আগে ২০–৩০ মিনিট শান্ত পরিবেশে কিছু নির্দিষ্ট কাজ নিয়মিত করা যেতে পারে—যেমন হালকা গল্প শোনা, লাইট কমিয়ে দেওয়া, নরম সুরের গান, কিংবা হালকা ম্যাসাজ। প্রতিদিন একই ধরণের রুটিন অনুসরণ করলে শিশুর শরীর ধীরে ধীরে বুঝতে শেখে যে এখন ঘুমের সময়।
স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক অভিভাবক ঘুম পাড়ানোর জন্য মোবাইল বা ট্যাব ব্যবহার করেন, কিন্তু স্ক্রিনের নীল আলো মস্তিষ্ককে জাগ্রত রাখে এবং ঘুমের হরমোন নিঃসরণে বাধা দেয়। তাই ঘুমের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে সব ধরনের স্ক্রিন বন্ধ রাখা উচিত।
অনেক অটিজম শিশু গভীর চাপ (deep pressure) বা নির্দিষ্ট সেন্সরি ইনপুটে স্বস্তি পায়। কিছু শিশুর ক্ষেত্রে ভারী কম্বল, শক্তভাবে জড়িয়ে ধরা, বা সেন্সরি-ফ্রেন্ডলি বিছানা ঘুমে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি শিশুর সেন্সরি প্রোফাইল অনুযায়ী ব্যবহার করা জরুরি। সব শিশুর জন্য একই কৌশল কাজ করবে না।
দিনের বেলা পর্যাপ্ত শারীরিক কার্যক্রমও ঘুম উন্নত করতে সাহায্য করে। দীর্ঘ সময় ঘরে বসে থাকা বা কম শারীরিক নড়াচড়া অনেক শিশুর ঘুমের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রতিদিন খেলাধুলা, বাইরে হাঁটা বা শারীরিক এক্টিভিটি রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
খাবারের দিকেও নজর দিতে হবে। ঘুমের আগে অতিরিক্ত চিনি, চকলেট, কোমল পানীয় বা ক্যাফেইন জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। একই সাথে খুব বেশি ক্ষুধার্ত বা অতিরিক্ত ভরা পেট নিয়েও শিশুকে ঘুমাতে পাঠানো উচিত নয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—শিশুর ঘুমের সমস্যা কখন শুধুই আচরণগত নয়, বরং চিকিৎসাগত কারণেও হতে পারে। অনেক সময় এসিডিটি, কোষ্ঠকাঠিন্য, স্লিপ অ্যাপনিয়া, অ্যালার্জি বা উদ্বেগজনিত সমস্যার কারণেও ঘুম ব্যাহত হয়। যদি শিশু দীর্ঘদিন তীব্র ঘুমের সমস্যায় ভোগে, ঘুমের মধ্যে শ্বাস আটকে যায়, অতিরিক্ত নাক ডাকে বা দিনে খুব ক্লান্ত থাকে, তাহলে অবশ্যই শিশু বিশেষজ্ঞ, নিউরোডেভেলপমেন্টাল বিশেষজ্ঞ বা স্লিপ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
অটিজমে ঘুমের সমস্যা “খারাপ অভ্যাস” নয়। এটি অনেক সময় শিশুর নিউরোডেভেলপমেন্টাল বৈশিষ্ট্যের অংশ। তাই শিশুকে জোর করা বা বকাঝকা না করে ধৈর্য, পর্যবেক্ষণ এবং ধারাবাহিক রুটিনের মাধ্যমে কাজ করতে হয়। ছোট ছোট পরিবর্তনও ধীরে ধীরে বড় উন্নতি এনে দিতে পারে—যা শুধু শিশুর নয়, পুরো পরিবারের জীবনমানকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।
📍 Speech Aid Bangladesh Ltd.
শিশুর ভাষা ও বিকাশে আপনার বিশ্বস্ত সহযোগী।
📞 Azimpur: +8801886-085264, +88015680-85265
📞 Badda: +8801849-984518, +8801849-974458
📞 Wari: +8801804-214421, +8801850-114327
📞 Lalbag: +8801815-843853, +8801317-212719
👉 আপনার শিশুর ভাষা বিকাশ নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।