24/11/2025
জামায়াত: ধর্মের মুখোশে অপরাধের রাজনীতি
জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের পরিচয় দেয় “নৈতিক ও ইসলামী আদর্শনির্ভর দল” হিসেবে।
এই পরিচয় একেবারেই ভ্রান্ত এবং রাজনৈতিকভাবে প্রতারণামূলক।তারা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং মানবতার বিরুদ্ধে।
ক্ষমতালোভের রাজনীতি
২০২৫ সালের রাজনীতিতে জামায়াতের পুনরুত্থান প্রচেষ্টায় তাদের তথাকথিত “নৈতিক আদর্শ” বলে কিছু আছে মনে হওয়ার কোন অবকাশ নাই।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তা শুধু অপরাধ নয়—নৈতিক অধঃপতনের প্রমাণ।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, ‘প্রশাসনে যারা আছে, তাদেরকে (প্রশাসনকে) অবশ্যই আমাদের আন্ডারে নিয়ে আসতে হবে।
আমাদের কথায় উঠবে, আমাদের কথায় বসবে, আমাদের কথায় গ্রেপ্তার করবে, আমাদের কথায় মামলা করবে।
পুলিশকে আপনার পেছনে পেছনে হাঁটতে হবে। ওসি সাহেব আপনার কী প্রোগ্রাম সকাল বেলায় জেনে নেবে,আর আপনাকে প্রটোকল দেবে।’ (২৩ নভেম্বর ২০২৫-আজকের পত্রিকা)
সরকারের উপর তাদের এখনকার প্রভাবের ফলাফল এটা। ক্ষমতায় আসলে কী করবে??
এই বক্তব্য একজন ব্যক্তির নয়—এটি জামায়াতের রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন, যেখানে রাষ্ট্রযন্ত্রকে দখল করে ক্ষমতার প্রয়োগই রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য।
ধর্ষণ ও নারী-শিশু নিপীড়নে অভিযুক্ত
জামায়াত যেভাবে ইসলামী নৈতিকতার কথা বলে, বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো। দেশের বিভিন্ন জেলায় জামায়াতের নেতাদের বিরুদ্ধে নারী নিপীড়ন, ধর্ষণের অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে—
০৩ নভেম্বর ২০২৪ – প্রতিদিনের বাংলাদেশ
“পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে এক নারীকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দুদিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে জামায়াত নেতা নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী নারী মামলা করেছেন।”
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-মানবজমিন
“ঝিনাইদহে জামায়াত প্রচার সম্পাদক মোসলেম উদ্দিন ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণকালে ধরা পড়ে জনগণের হাতে গণপিটুনি খেয়ে গ্রেপ্তার।”
১৩ মে ২০২৫ – দৈনিক জনকণ্ঠ
“পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।
মামলাটি করেছেন মোছা. মিমি আক্তার, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে।”
৯ জুলাই ২০২৫- ইত্তেফাক
“পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর ইউনিয়নে জামায়াত নেতা আকরাম হোসেন পলাশের বিরুদ্ধে দুর্বল নারীদের কাছ থেকে উৎকোচ নেওয়া ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ।”
১২ জুলাই ২০২৫- যুগান্তর
“মাগুরায় জামায়াত কর্মী হারুন ফকির এক হোটেলকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার।”
১৩ জুলাই ২০২৫–টাইমস বাংলা
“চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থেকে এক শিশুকে (১০) অপহরণের পর হোটেলে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে জামায়াত নেতা ও মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।”
১৮ আগস্ট ২০২৫-মাতৃভূমির কথা
“লক্ষ্মীপুরে জামায়াত যুব নেতা নূর আলম ধর্ষণ মামলায় কারাগারে।”
২১ আগস্ট ২০২৫- সোনালী নিউজ
“রাজশাহীর পুঠিয়ায় জামায়াত সভাপতি শমসের আলী চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়।”
০২ অক্টোবর ২০২৫–প্রথম আলো
“ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার এক মাদ্রাসা অধ্যক্ষ ও জামায়াত নেতা মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক স্কুলছাত্রীর মা। সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।”
২০ অক্টোবর ২০২৫–সমকাল
“কুষ্টিয়ার খোকসায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠা জামায়াত কর্মীকে লঘুদণ্ড দিয়ে ‘মীমাংসা’ করেছেন দলীয় নেতারা।
অভিযোগ: ভুক্তভোগী পরিবারকে টাকার প্রলোভন দিয়ে মামলা থেকে বিরত রাখা হয়।”
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫–বাংলা ট্রিবিউন
“পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ ও অপহরণের অভিযোগে জামায়াত কর্মী জামাল উদ্দিন (৪৫)-কে আটক করেছে পুলিশ এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
জামায়াতের চাঁদাবাজির কিছু নমুনা
১২ ডিসেম্বর ২০২৪ – নিউজবাংলা২৪.কম
“কক্সবাজারের টেকনাফে জামায়াত নেতা মো. ইসমাইলকে প্রধান আসামি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মামলা করেছে।
অভিযোগ: সরকারি কাজে বাধা, কর্মকর্তাদের মারধর ও অফিস ভাঙচুর।”
২৬ ডিসেম্বর ২০২৪–আমাদের সময়
“চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির শাহজাহান চৌধুরীর একান্ত সচিব আরমান উদ্দিনের বিরুদ্ধে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, দাবি করা সব টাকা ঠিকমতো না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা করা হয়েছে।”
০৬ মার্চ ২০২৫–সমকাল
“চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় নদী ও খাল থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, ইটভাটা, পাহাড় কাটাসহ নানা খাতে চাঁদাবাজি চলছে।
আগে এই নিয়ন্ত্রণ ছিল আওয়ামী লীগ নেতাদের হাতে, এখন তা নিয়েছেন জামায়াতের ‘ত্যাগী কর্মীরা’।
তারা নিজেদের চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেন।”
১১ মে ২০২৫–সকালের শিরোনাম
“গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলাধীন শ্রীপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর বাজার থেকে লক্ষীপুর বাজার পর্যন্ত সৌদি সহায়তায় রাস্তার কাজ চলছিল।
সেখানে ইউনিয়ন জামায়াত নেতা আলী হায়দার, আনিসুর মুশী ও দিপু বাবু চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে রাস্তার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি নষ্ট করার হুমকি দেন।”
১৪ জুন ২০২৫–আজকের পত্রিকা
“সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে ব্যবসায়ী শ্যামল কান্ত গোপ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি রেজাউল করিম রিপনের বিরুদ্ধে।”
১৭ জুলাই ২০২৫–প্রথম আলো
“কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উপজেলা সভাপতি আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা থেকে রক্ষা করতে বাবু মিয়া নামের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।”
২৫ জুলাই ২০২৫–মর্নিং পোস্ট
“লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে চাঁদার দাবিতে মেঘনা নদীর তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাহেবের হাট ইউনিয়ন সভাপতি মাস্টার লোকমান হোসেন ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াত সভাপতি আনোয়ার হোসেন।
তাঁরা বালু ও পাথর ভর্তি প্রতি বাল্কহেড লোড আনলোড থেকে ৮ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করেন।”
২৯ জুলাই ২০২৫–কালের কণ্ঠ
“নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াত সভাপতি ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ১০টি দোকানে জোরপূর্বক তালা লাগানো ও প্রতিটি দোকান থেকে মাসিক ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে।
সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করেছে।”
১৮ মার্চ ২০২৫ –দ্য ডেইলি স্টার
“জামালপুরের মেলান্দহে ব্যবসায়ী রেজাউল করিম চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় হামলার শিকার হয়েছেন।
তিনি জানান, জামায়াত নেতা সামিউল হক ফারুকীর ভাতিজা সাজ্জাদ হোসেন সাকিব দীর্ঘদিন ধরে টাকা দাবি করছিলেন। পুলিশ সাকিবকে গ্রেপ্তার করেছে।”
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫–বিডিনিউজ২৪.কম
“ফেনী সদর মডেল থানার ওসির নাম ভাঙিয়ে মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক শিক্ষকের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে জেলা জামায়াতে ইসলামীর রোকন ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ফেনী পৌর শাখার সহকারী সেক্রেটারি জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।”
উপরের সংবাদগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে, গত এক বছরে জামায়াতে ইসলামী ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, চাঁদাবাজি, প্রশাসনে প্রভাব খাটানো, ও মাদক–সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে মামলা ও গ্রেপ্তার ঘটেছে।
এসব অপরাধের স্থানিক বিস্তারও লক্ষণীয়—পিরোজপুর থেকে কুড়িগ্রাম, চট্টগ্রাম থেকে কুষ্টিয়া, ফেনী থেকে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত—দেশের প্রায় সব অঞ্চলে তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে একই ধরনের অপরাধের অভিযোগ উঠেছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, অভিযোগগুলো বিচ্ছিন্ন নয়; এটি একটি সংগঠিত নৈতিক ও আদর্শিক পতনের জাতীয় প্যাটার্ন, যা জামায়াতের কথিত “ইসলামী ন্যায় ও শুদ্ধ রাজনীতি”র দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণ করে।
সহিংস রাজনীতির প্রকাশ: মোটরসাইকেল শোডাউন ও মৃত্যুর মিছিল
নির্বাচনের আগমুহূর্তে জামায়াতের সহিংস রাজনৈতিক কৌশল প্রকাশ পেয়েছে তাদের মোটরসাইকেল শোডাউন কর্মসূচিতেও।
১৩ নভেম্বর ২০২৫ – বিডিনিউজ২৪.কম
“সিরাজগঞ্জ-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শাহিনুর আলমের নির্বাচনি প্রচারের সময় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।”
১৫ নভেম্বর ২০২৫–দৈনিক যুগান্তর
“জামায়াতের মোটরসাইকেল শোডাউনে দুর্ঘটনায় এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও তিনজন।”
২২ নভেম্বর ২০২৫ –দেশ রূপান্তর
“ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ৭ হাজার মোটরসাইকেল নিয়ে জামায়াত প্রার্থীর শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়।”
২৩ নভেম্বর ২০২৫ – দৈনিক ইত্তেফাক
“সাতক্ষীরায় জামায়াত নেতার শোডাউনে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ৭৩ বছরের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।”
এমনকি মানিকগঞ্জে বাউল ফকিরদের ওপর হামলার ঘটনাও জামায়াত-সমর্থিত গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বাউলদের “ধইরা ধইরা জবাই কর” ধরনের উগ্র স্লোগান মুক্তচিন্তার ওপর সরাসরি আঘাত।
৭১-এর পরাজয়ের প্রতিশোধের রাজনীতি
জামায়াতের বর্তমান রাজনৈতিক আচরণ এক অর্থে ১৯৭১ সালের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়ার উন্মত্ত প্রচেষ্টা।
তাদের নেতারা প্রকাশ্যে “৭১ নামে বস্তাপচা জিনিস” বলে মুক্তিযুদ্ধের অবমূল্যায়ন করছে—এটি শুধু ইতিহাস অস্বীকার নয়, রাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানের প্রকাশ।
ইতিহাসবিদ হাসান আসকারি রিজভি তাঁর The Military and Politics in Pakistan (2000) গ্রন্থে লিখেছেন,“The Jamaat-e-Islami’s political behavior was always conditioned by its lust for ideological control and power, not by democratic morality.”
যেখানে ইসলামের নামে রাজনীতি হচ্ছে, কিন্তু ইসলামি ন্যায়ের কোনও ছাপ নেই।
আদর্শের মুখোশ উন্মোচন
জামায়াতের ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধ থেকে শুরু করে ছাত্রশিবিরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ইতিহাস প্রায় চার দশকজুড়ে বিস্তৃত—এর শুরু ১৯৭৭ সালে, এবং ২০১০-এর দশক পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে বিস্তার লাভ করে।
বর্তমানের ধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও সহিংস রাজনীতি—সব মিলিয়ে জামায়াতে ইসলামী এক ধারাবাহিক নৈতিক ও আদর্শিক পতনের প্রতীক।
যখন কিছু মানুষ তাদের পক্ষে অন্ধভাবে কথা বলে, তখন প্রশ্ন জাগে—“কোন আদর্শ, কোন ইতিহাস, কোন নৈতিকতার ভিত্তিতে এই সমর্থন?”
জামায়াতের ইতিহাস ও বর্তমান একটিমাত্রই সত্যের সাক্ষ্য দেয়—জামায়াত একটি রাজনৈতিক সংগঠন যারা ক্ষমতার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করে, ইতিহাসকে বিকৃত করে, এবং সমাজের ন্যায়ের বোধকে ধ্বংস করে।