সিপাহসালার হযরত সৈয়দ নাসির উদ্দিন রহঃ ইনস্টিটিউশন।

  • Home
  • Bangladesh
  • Habiganj Sadar
  • সিপাহসালার হযরত সৈয়দ নাসির উদ্দিন রহঃ ইনস্টিটিউশন।

সিপাহসালার হযরত সৈয়দ নাসির উদ্দিন রহঃ ইনস্টিটিউশন। আল কোরআন,আহলে বাইত (আঃ)-এর শান ও মর্যাদা সংক্রান্ত হাদীস,তাফসীর, আকায়েদ, ইতিহাস,প্রশংসা তুলে ধরা।

30/07/2025

আমার ঘরে মেসকাত, মোমবাতি- ইত্যাদি দেখে শিয়া মাযহাবে দাখিলকৃত এক ভাইয়ের গতরাতে এ বিষয়ে উৎকট ভাবে কিছু জিজ্ঞাসার প্রেক্ষিতে যে জবাব দিয়েছিলাম, আজ তারই কিছু রেফারেন্স সহ খুব সংক্ষেপে লিখছি।

মিসকাতে মিসবাহ প্রজ্বলন এবং সালাত, সালাওয়াত ও মোরাকাবা : ইমামিয়া ইরফানে আধ্যাত্মিক তাৎপর্য মন্ডিত একটি প্রক্রিয়া।

ইমামিয়া শিয়া আধ্যাত্মিকতায় মোরাক্বাবাহ্ (ধ্যান) খালওয়াহ্ (নির্জনতা) ও বাশিরাহ্ (অন্তর্দৃষ্টি অর্জন)কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই সাধন প্রক্রিয়ার অনেক অনুশীলনই প্রতীকময় হয়ে থাকে। এরমধ্যে বড় একটি অনুসঙ্গ হচ্ছে, মিশকাত (দীপাধার)এর উপর মিসবাহ (বাতি) প্রজ্বলন করা; যা আত্মার জাগরণ, অন্তজগতে নূর প্রবেশ এবং আল্লাহ ও নূরুল আলা নূর (আল্লাহর নির্বাচিত মাসুমিন গণ)কে উপলব্ধির মাধ্যম। আর এই প্রক্রিয়ার মধ্যে পুরোটা সময় জুড়েই সালিকগণ সালাত, সালাওয়াত ও মোরাকাবায় নিজেকে আবিষ্ট করে রাখেন।

যদিও এই রীতি সরাসরি কোনো ফিকহি ফরজ আমল নয়, তবে ইমামিয়া ইরফানি দর্শনে এর একটি গূঢ় ব্যাখ্যা ও ঐতিহাসিক ভিত্তি রয়েছে।

আলো বা নূর হচ্ছে ইরফানের কেন্দ্রীয় প্রতীক। নূর কেবল বাহ্যিক আলো নয়- এটি ইমামিয়া ইরফানে একটি আত্মিক সত্যের প্রকাশনা। আল্লাহ নিজেই বলেছেন, "আল্লাহ আসমান ও জমিনের আলো। ...আলো'র উপর আলো"। (সুরা নূর ৩৫)
এই আয়াতকে ইমামিয়া মুফাসসিরগণ আত্মিক নূর ও ইমামতের ব্যাখ্যায় ব্যবহার করেছেন, যেমন, আয়াতুল্লাহ তাবাতাবায়ী তাঁর তাফসীর আল মীযানে লিখেছেন, "এ নূর হলো আল্লাহর হেদায়াত, যা আহলুল বাইতের ইমামদের মাধ্যমে দুনিয়াতে প্রবাহিত হয়। আর খালওয়াত ও মোরাকাবা হচ্ছে আধ্যাত্মিক আলোকায়নের ভূমিকা।
এই সুরায় আল্লাহ আধ্যাত্নিক নূরের উপমা দিতে যে "মেশকাত" ও "মিসবাহ" দুটি শব্দ প্রয়োগ করেছেন- এদু'টু শব্দই কিন্তু বাহ্যিক অর্থ প্রকাশক। অর্থাৎ আল্লাহ নিজেই বাহ্যিক বস্তোর মাধ্যমে আমাদেরকে আধ্যাত্নিক সত্ত্বার উপলব্ধিতে প্রবেশ ঘটিয়েছেন।
ইমাম জাফর সাদিক আঃ বলেছেন, "আল্লাহর নৈকট্য লাভে বান্দার সবচেয়ে উত্তম উপায় হলো নির্জনে বসে আল্লাহর নিয়ামত নিয়ে গভীর চিন্তা করা"। (আল কাফি, খন্ড ২, কিতাব আল ইলম, হাদিস ৫৬)
এখানে 'খালওয়াহ' (নির্জনতা) গভীর ভাবে মনোনিবেশের আদর্শ পরিবেশ। ইরফানি রেওয়াজে এই নির্জনতা নূরের উপস্থিতির মাধ্যমে মৃদু আলোতে রূপ নেয়, যেন বাহ্যিক আলোর প্রতীক দ্বারা অন্তর আলোকপ্রাপ্ত হয়। তাই এই হাদিসের অনুপ্রেরনায় মিসকাতে মিসবাহ্ প্রজ্বলিত হতো।
মিসবাহ্ প্রজ্বলনের মাধ্যমে মোরাকাবা হচ্ছে আত্নায় আলোর প্রতিফলন ঘটানোর মাধ্যম। রসূলুল্লাহ সঃ বলেন, “যখন নূর অন্তরে প্রবেশ করে, তখন তা প্রসারিত হয় ও প্রশান্তি আনয়ন করে"। (আল কাফি, খন্ড ২, কিতাব আল ইমান ওয়াল কুফর)
এখানে ‘নূর’-এর অন্তপ্রবেশ মানসিক ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তির সূচনা করে। এই নূর, ইরফানি ধারায় মোরাকাবা বা ধ্যানে আত্মার উন্মোচনের প্রতীক। তাই শায়রে শুলুকের সালিকগণে মিসবাহ জ্বালিয়ে মোরাকাবায় বসেন, যাতে বাহ্যিক আলো অন্তরের আলোকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
ইমাম আলী আঃ বলেছেন, “আরিফদের হৃদয়ে এমন চোখ আছে, যার মাধ্যমে তারা নূর প্রত্যক্ষ করে"। (নাহজ আল বালাঘা, হিকমাহ্ ১৪৭)
এখানে হৃদয়ের “দৃষ্টিশক্তি” নূর দেখা বোঝায়। আরিফদের হৃদয়ে এই আলো জ্বলে ওঠে ধ্যান ও আত্মসংলাপের মাধ্যমে- যার বাহ্যিক অনুশীলনে সালিকগণ মিশকাতে মিসবাহ প্রজ্বলন করে এর আবহ নির্মান করেন।
মাজারে মিসবাহ্ প্রজ্বলন হচ্ছে শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিকতার প্রতিক। আল্লামা মজলিসি বর্ণনা করেন, "তারা (প্রাথমিক যুগের শিয়ারা) আয়েম্মাহ আঃএর কবরের চারপাশে বাতি জ্বালিয়ে রাখতেন সম্মান প্রদর্শণ ও আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে"। (বিহার আল আনওয়ার, খন্ড ১০১, পৃষ্ঠা ২৩১)
এই ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত প্রমাণ করে যে বাতি বা আলো শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিক আবেশ সৃষ্টি করে। ইরফানীগণ এই চর্চাকে একধরনের আত্মিক আলোকায়ন হিসেবে গ্রহণ করেন।

ইরফানে আলো দুইভাবে অনুধাবনীয়। বাহ্যিক আলো (মিসবাহ্): মনকে একাগ্র করতে ও অন্ধকার দূর করতে ব্যবহৃত হয়। নুরুল ক্বালব (আত্মিক আলো): ইমামতের নূর, হেদায়াত ও তাওহিদের উপলব্ধি- যা মোরাকাবার মাধ্যমে হৃদয়ে জাগরূক হয়; তাই বাতি জ্বালানো এই দুই আলোর সংযোগ রূপে প্রতিফলিত হয়- যেমন বাহ্যিক বাতি দ্বারা আধ্যাত্মিক নূর ধারণে অন্তর প্রস্তুত হয়।

ধ্যানকক্ষে মিসবাহ প্রজ্বলনের ফায়েজ ইরানের গ্রান্ড বাহবার আয়াতুল্লাহ খোমেনি'র আদাবুস সালাত গ্রন্থে উল্লেখ আছে।
আল কাফামি র: তাঁর আল মিসবাহ্ গ্রন্থের শেষ অধ্যায়ে রাত্রিকালীন মোরাকাবায় মিসবাহ প্রজ্বলন করে দোয়ায়ে নূরুল মিসবাহ্ পাঠ করতে বলেছেন। এটা ইরফানি চর্চায় এক বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ অনুসঙ্গ বলে বিবেচিত, খালওয়াহ্‌ বা একাকী ধ্যানে বসে মিসবাহ প্রজ্বলন করে আত্মমুখী সচেতনতার অনুশীলনের একটি সূক্ষ্ম অনুষঙ্গ, ইমামিয়া শিয়া ইরফানের মোশাহাদা (অন্তর্জ্ঞানের দীপ্তি) অনুশীলনের অংশ।

মোটকথা মিসবাহ প্রজ্বলন করে মোরাকাবা করা হলো ইমামিয়া ইরফানের এক প্রতীকী আত্মিক চর্চা- যার মাধ্যমে সালিক তার অন্তরে নূরের প্রবেশ ঘটাতে চায়। এই রীতি সরাসরি ফিকহি মাসআলা না হলেও, একে পৃষ্ঠপোষকতা করে এমন বহু হাদিস, ঐতিহাসিক চর্চা ও ইরফানি ব্যাখ্যা রয়েছে।

মোটকথা, সালাত বা ইবাদতের জন্য মাটির উপরে মসজিদ থাকা সত্বেও আয়েম্মাহ আ:এর সার্দাব তৈরি হতো মাটির নিচে; সেথায় থাকতো আলোকবর্তীকা, তার উপরে দীপ্তি ছড়াতো মৃদু আলো।

শেষকথা, আহলে বাইতের পথ অনুসরণ করে যে সালিক নূরের পথে চলতে চায়, তার জন্য এই আলো কেবল ঘরের বাতি নয় বরং আত্মার জ্যোতি, যা আল্লাহর দিকে যাত্রায় সহায়ক।

07/07/2025

√√ স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব ও কর্তব্য :

১. ইমাম আলী আঃ বলেন
اَلرَّجُلُ عَلَيْهِ أَنْ يُوَسِّعَ عَلَى زَوْجَتِهِ وَأَوْلَادِهِ وَلا يُضَيِّقَ عَلَيْهِمْ
স্বামীর উচিত স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য জীবিকা ও জীবনের দিক দিয়ে প্রশস্ততা সৃষ্টি করা এবং কষ্ট না দেওয়া। (নাহজুল বালাগা, খুতবা- ২৩৪)

২. ইমাম জাফর সাদিক আঃ বলেন
مِنْ حُسْنِ مُعَاشَرَةِ الرَّجُلِ أَهْلَهُ أَنْ يُوَسِّعَ عَلَيْهِمْ فِي النَّفَقَةِ
স্বামীর পক্ষ থেকে পরিবারের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার হলো—ব্যয়ে উদারতা প্রদর্শন করা। (আল কাফি, খণ্ড- ৫, পৃষ্ঠা- ৫১১)

৩. ইমাম সাদিক আঃ বলেন
حَقُّ الْمَرْأَةِ عَلَى زَوْجِهَا أَنْ يَسُدَّ جُوعَتَهَا، وَيَسْتُرَ عَوْرَتَهَا، وَلا يُقَبِّحَ لَهَا وَجْهاً
স্ত্রীর উপর স্বামীর হক হচ্ছে তাকে খাদ্য প্রদান করা, পরিধেয় বস্ত্র দেওয়া এবং অপমান না করা। (আল কাফি, খণ্ড- ৫, পৃষ্ঠা- ৫১০)

৪. ইমাম আলী রেজা আঃ বলেন
لَا يَضْرِبُ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ، وَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَلَيْسَ مِنَّا
কোনো পুরুষ যেন তার স্ত্রীকে অত্যাচার না করে। যে তা করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। (ফিকহে রেযা আঃ, পৃষ্ঠা- ২৪৯)

৫. ইমাম আলী আঃ বলেন
صَبْرُ الرَّجُلِ عَلَى سُوءِ خُلُقِ زَوْجَتِهِ يُكَفِّرُ مِنْ ذُنُوبِهِ
স্ত্রীর বদ মেজাজে ধৈর্য ধারন স্বামীর জন্য পাপ মোচনের কারণ হয়। (গুরারুল হিকাম, হাদিস- ১০৪২৮)

৬. ইমাম সাদিক আঃ বলেন
حَقُّ الزَّوْجَةِ عَلَى زَوْجِهَا أَنْ لا يَغِيبَ عَنْهَا أَكْثَرَ مِنْ أَرْبَعَةِ أَشْهُرٍ
স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব হলো একটানা চার মাসের বেশি স্ত্রী থেকে দূরে না থাকা। (আল কাফি, খণ্ড- ৫, পৃষ্ঠা- ৫১০)

৭. ইমাম সাদিক আঃ বলেন
لَا يُؤْمِنُ الرَّجُلُ حَتَّى يُحِبَّ لِزَوْجَتِهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ
কোনো পুরুষ পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারে না, যতক্ষণ না সে তার নিজের জন্য যা পছন্দ করে তা তার স্ত্রীর জন্যও পছন্দ করে। (আল কাফি, খণ্ড- ২, পৃষ্ঠা- ১৪৬)

৮. ইমাম সাদিক আঃ বলেন
مِنْ حُسْنِ الْخُلُقِ أَنْ يَتَجَاوَزَ الرَّجُلُ عَنْ خَطَإِ زَوْجَتِهِ
স্ত্রীর ভুলচুকের প্রতি ক্ষমাশীল হওয়া উত্তম চরিত্রের নিদর্শন। (মাকারিমুল আখলাক)

৯. ইমাম আলী আঃ বলেন
أَدَاءُ الْحُقُوقِ إِلَى الزَّوْجَةِ مِنَ الْإِيمَانِ
স্ত্রীর হক আদায় করা ঈমানের অংশ। (গুরারুল হিকাম, হাদিস- ২৩৫০)

১০. ইমাম বাকির আঃ বলেন
الْكَرِيمُ مَنْ يُكْرِمُ زَوْجَتَهُ، وَاللَّئِيمُ مَنْ يُهِينُهَا
যে স্বামী তার স্ত্রীকে সম্মান করে, সে মহানুভব; আর যে অপমান করে, সে হীনচরিত্র। (ওয়াসায়েলুশ শিয়া, খণ্ড- ২০, পৃষ্ঠা- ১৭২)

১১. ইমাম সাদিক আঃ বলেন
إِنَّ الرَّجُلَ لَيُؤْجَرُ فِي رَفْعِ اللُّقْمَةِ إِلَى فِي امْرَأَتِهِ
স্বামী যখন স্ত্রীর মুখে খাবার তুলে দেয়, তখনও তার সওয়াব হয়। (আল কাফি, খণ্ড- ৫, পৃষ্ঠা- ৫১০)

১২. ইমাম আলী আঃ বলেন
إِنَّ النِّسَاءَ أَمَانَةُ اللهِ، فَلَا تُضَيِّعُوهُنَّ
নারীরা আল্লাহর আমানত, তাদের প্রতি অবহেলা করো না। (গুরারুল হিকাম, হাদিস- ৩৮৫১)

√√ স্ত্রীর কাছে স্বামীর মর্যাদা ও অধিকার :

১. স্বামীর প্রতি আনুগত্যই জান্নাত লাভের পথ : ইমাম বাকির আঃ বলেন,
"لَا تُؤَدِّي الْمَرْأَةُ حَقَّ رَبِّهَا حَتَّى تُؤَدِّيَ حَقَّ زَوْجِهَا."
স্ত্রী আল্লাহর হক আদায় করতে পারবে না, যতক্ষণ না স্বামীর হক আদায় করে। (আল কাফি, খণ্ড ৫, হাদিস ৫০৮)

২. স্ত্রী যদি স্বামীর বিরক্তি সৃষ্টিকারী হয়: ইমাম সাদিক আঃ বলেন
"أَيُّمَا امْرَأَةٍ أَذَتْ زَوْجَهَا بِلِسَانِهَا، لَمْ يَقْبَلِ اللهُ مِنْهَا صَرْفاً وَلَا عَدْلاً."
যে নারী স্বামীকে তার জিহ্বা দ্বারা কষ্ট দেয়, আল্লাহ তার নফল ও ফরজ কোনও ইবাদতই গ্রহণ করেন না। (আল কাফি, খণ্ড- ৫, হাদিস- ৫১৩)

৩. স্বামী সন্তুষ্ট হলে জান্নাত অবশ্যম্ভাবী: রসুলুল্লাহ সঃ বলেন
"طُوبَى لِامْرَأَةٍ رَضِيَ عَنْهَا زَوْجُهَا."
ধন্য সেই নারী যার স্বামী তার উপর সন্তুষ্ট। (মিজানুল হিকমাহ, হাদিস ١٠٦٧٨)

৪. স্বামীর প্রতি অবাধ্য স্ত্রী জান্নাত হারাবে: ইমাম আলী আঃ বলেন
"المرأةُ التي تُؤْذِي زَوْجَهَا بِلِسَانِهَا، تُحْشَرُ يَوْمَ القِيَامَةِ وَوَجْهُهَا مُسْوَدٌّ."
যে নারী স্বামীকে তার কথায় কষ্ট দেয়, কিয়ামতের দিন তার মুখমন্ডল কালো করে তোলা হবে। (আল খিসাল, শেখ সাদূক, হাদিস- ৩৮০)

৫. স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকারের তুলনা: ইমাম সাদিক আঃ বলেন
"حقُّ الزَّوجِ على الزَّوجةِ أعظمُ مِن حقِّها عليه."
স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার স্বামীর প্রতি স্ত্রী অধিকারের চেয়ে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। (আল ফকীহ, খণ্ড- ৩, পৃ- ২৭৮)

৬. স্বামীর সন্তুষ্টির সময় ফেরেশতাগণ স্ত্রীর জন্য দোয়া করেন: ইমাম রেজা আঃ বলেন
"امرأة رضى عنها زوجها، استغفر لها الملائكة."
যেসব নারী তাদের স্বামীকে সন্তুষ্ট রাখে, ফেরেশতারা তাদের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করে। (আল তাহযীব, খণ্ড- ৭)

৭. স্ত্রী স্বামীকে রাত্রে শয্যাগত হতে বাধা দিলে: ইমাম বাকির আঃ বলেন
"مَن مَنَعَت زَوجَها فِراشَها، لَعَنَتها المَلائِكَةُ حَتّى تَرضى عَنهُ."
যে নারী স্বামীকে বিছানায় আসতে বাধা দেয়, ফেরেশতারা তার উপর অভিসম্পাত করেন যতক্ষণ না স্বামী সন্তুষ্ট হয়। (আল কাফি, খণ্ড- ৫, হাদিস- ৫১৫)

৮. স্ত্রীর জন্য সর্বোত্তম ইবাদত: ইমাম বাকির আঃ বলেন
"أفضلُ أعمالِ النساءِ حُسنُ التَّبَعُّلِ."
নারীর সর্বোত্তম আমল হলো তার স্বামীর সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করা। (আল খিসাল, হাদিস- ৪২৯)

৯. স্ত্রীর জিহাদ হলো স্বামীর প্রতি আনুগত্য: ইমাম সাদিক আঃ বলেন
"جِهَادُ الْمَرْأَةِ حُسْنُ التَّبَعُّلِ."
নারীর জন্য জিহাদ হলো স্বামীর প্রতি উত্তম আচরণ। (আল হুর আল আমিলী, ওসুলে কাফি)

১০. স্ত্রী স্বামীর অনুমতি ছাড়া রোজা রাখলে: ইমাম সাদিক আঃ বলেন
"إذا صامت المرأة تطوعاً بغير إذن زوجها، فهي عاصية."
স্ত্রী যদি স্বামীর অনুমতি ছাড়া নফল রোজা রাখে, সে গুনাহগার হবে। (আল ফকীহ, খণ্ড- ২, পৃ- ৭৯)

১১. স্ত্রী স্বামীর ইচ্ছার বিপরীতে গেলে: ইমাম সাদিক আঃ বলেন
"لا يجوز للمرأة أن تخرج من بيت زوجها إلّا بإذنه."
স্ত্রীর জন্য স্বামীর অনুমতি ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়াও জায়েয নয়। (আল হাদায়েক, খণ্ড- ২৩, পৃ- ৫৫)

১২. স্বামীর নাম ধরে ডাকা অনুচিত: ইমাম বাকির আঃ বলেন
"من أدبِ المرأةِ أن لا تُسمّي زوجها باسمه."
নারীর শালীনতার অংশ হলো স্বামীকে তার নাম ধরে না ডাকা। (মাকারিমুল আখলাক, ইবনে ফজল তাবরাসী)

১৩. স্বামীর সন্তুষ্টির মাধ্যমে জান্নাত: ইমাম সাদিক আঃ বলেন
"مَن طَلَبَ رِضَى زَوْجِهِ كَانَتْ لَهَا دَرَجَةُ الصِّدِّيقِينَ."
যে নারী স্বামীর সন্তুষ্টির জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে সে সিদ্দিকদের মর্যাদা অর্জন করে। (আল তাহযীব, খণ্ড- ৭)

১৪. স্বামীকে তুচ্ছ জ্ঞান করাকে ভয়াবহ অপরাধ: ইমাম আলী আঃ বলেন
"امرأة تَسْتَخِفُّ بِزَوجِهَا، فَقَدْ نَقَضَتْ عَقْدَ نِكَاحِهَا."
যে নারী স্বামীকে তুচ্ছ জ্ঞান করে, সে নিজ বিবাহের অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে। (নাহজুল বালাগাহ : বিচার ও নৈতিকতা)

১৫. স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রীর কান্না ও বিলাপ:
📖 ইমাম সাদিক (আ.) বলেন:
"المرأة إذا صبرت على فَقْدِ زوجها وأولادها، جعلها الله من أهل الجنة."
যে নারী স্বামী ও সন্তান হারিয়ে ধৈর্য ধারণ করে, আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী বানান। (আল:কাফি, খণ্ড- ৩)

১৬. স্বামীকে ঘৃণা করলে আমল গ্রহণযোগ্য হয় না: রসূলুল্লাহ সঃ বলেন
"مَن أَبْغَضَ زَوْجَهَا فِي الْحَقِّ، حَبِطَ عَمَلُهَا."
যে নারী অন্যায় নয় বরং ন্যায়ের ভিত্তিতেই স্বামীকে ঘৃণা করে, তার নেক আমলও বরবাদ হয়ে যায়। (আদ দাওয়াত, শেখ তূসী)

১৭. স্ত্রীর জন্য অতীব গুরুত্বপুর্ণ ব্যাক্তি তার স্বামী: রসূলুল্লাহ সঃ বলেন
"لو كنت آمراً أحداً أن يسجد لأحد، لأمرت المرأة أن تسجد لزوجها."
যদি কাউকে সিজদা করতে বলা হয়, আমি স্ত্রীদেরকে তাদের স্বামীর প্রতি সিজদা করতে বলবো। (আল কাফি, খণ্ড- ৫, হাদিস- ৫০৯)

১৮. স্বামীর খেদমত জান্নাতের পথ: ইমাম সাদিক আঃ বলেন
"خير النساء مَن خَدَمت زوجها."
উত্তম নারী হলো সে, যে স্বামীর খেদমত করে। (মাকরিমুল আখলাক)

১৯. স্বামীকে হাসিখুশি রাখাও ইবাদত: ইমাম আলী আঃ বলেন
"ضَحِكُ الزَّوجِ مِنِ امرأتِه صَدَقَةٌ لَها."
স্বামীর মুখে হাসি ফোটানো স্ত্রীর জন্য সদকা স্বরূপ। (বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড- ১০৩)

২০. স্বামীর অধিকার কিভাবে মানবে: ইমাম আলী রেজা আঃ বলেন
"المرأةُ لا تَصِلُ إلى كَمالِ الإيمانِ حتّى تُطيعَ زوجَها."
নারী পূর্ণ ঈমানদার হতে পারে না, যতক্ষণ না সে স্বামীকে যথাযথ মান্য করে। (তুহফাতুল উকূল)

২১. ইমাম সাদিক আঃ বলেন
"مَا مِنْ امْرَأَةٍ تَطَيَّبَتْ لِغَيْرِ زَوْجِهَا إِلَّا لَمْ يُقْبَلْ مِنْهَا صَلَاةٌ حَتَّى تَغْتَسِلَ."
যে স্ত্রী তার স্বামী ছাড়া অন্যের জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করে, তার নামাজ কবুল হয় না যতক্ষণ না সে গোসল করে। (আল কাফি, খণ্ড- ৫, হাদিস- ৫২৪)

২২. স্বামীর সন্তোষ্টিতে মাগফেরাত: ইমাম রেজা আঃ বলেন
"امرأة رضى عنها زوجها، استغفر لها الملائكة."
যে নারী স্বামীকে সন্তুষ্ট রাখে, ফেরেশতারা তার জন্য মাগফিরাতের প্রার্থনা করে। (আল তাহযীব, খণ্ড- ৭)

২৩. স্বামীর অসন্তুষ্টিই স্ত্রীর জন্য অভিশাপ: ইমাম বাকির আঃ বলেন
"مَن مَنَعَت زَوجَها فِراشَها، لَعَنَتها المَلائِكَةُ حَتّى تَرضى عَنهُ."
যে স্ত্রী স্বামীকে শারীরিকভাবে দূরে সরিয়ে দেয়, ফেরেশতারা তাকে অভিশাপ দিতে থাকেন যতক্ষণ না স্বামী সন্তুষ্ট হয়। (আল কাফি, খণ্ড- ৫, হাদিস- ৫১৫)

২৪. স্বামীর আনুগত্য ইমানের মানদন্ড: ইমাম সাদিক আঃ বলেন
"المرأةُ لا تَصِلُ إلى كَمالِ الإيمانِ حتّى تُطيعَ زوجَها."
নারী পূর্ণ ঈমানদার হতে পারে না, যতক্ষণ না সে স্বামীকে মান্য করে। (তুহাফুল উকূল)

২৫. জান্নাতের তিন শর্ত: রসূলুল্লাহ সঃ বলেন
"إذا صلّت المرأة خمسها وصامت شهرها وأطاعت زوجها دخلت الجنة."
যে নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, রমজানে রোজা রাখে এবং স্বামীকে যথাযথ মান্য করে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (আল:কাফি, খণ্ড- ৫)

২৬. স্বামীর দৃষ্টি শীতলতা আল্লাহর দয়া: ইমাম বাকির আঃ বলেন
"المرأة إذا زينت نفسها لزوجها، نَظَرَ اللهُ إليها بنظرِ الرحمة."
স্ত্রী যদি স্বামীর জন্য নিজেকে সাজায়, আল্লাহ তার প্রতি দয়ার দৃষ্টিতে তাকান। (আল তাহযীব, খণ্ড- ৭)

২৭. স্বামীর প্রতি আনুগত্যের প্রতিদান: ইমাম আলী আঃ বলেন
"ثواب المرأة في طاعة زوجها كالمجاهد في سبيل الله."
স্বামীর আনুগত্যের প্রতিদান আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের সমান। (আল খিসাল)

২৮. ফরজ নামাজের সোয়াব বাতিল: ইমাম সাদিক আঃ বলেন
"المرأةُ لا تُعطى أجرَ صلاتها إذا آذت زوجها."
স্ত্রী যদি স্বামীকে কষ্ট দেয়, তার নামাজের সওয়াব বাতিল হয়। (আল কাফি, খণ্ড- ৫)

২৯. আল্লাহর সন্তোষ্টি: ইমাম আলী আঃ বলেন
"إذا رضِيَ الزوجُ عن زوجته، رضِيَ اللهُ عنها."
স্বামী যদি স্ত্রীর উপর সন্তুষ্ট থাকে, আল্লাহও তার উপর সন্তুষ্ট থাকেন। (মাকরিমুল আখলাক)

Address

Habiganj Sadar

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when সিপাহসালার হযরত সৈয়দ নাসির উদ্দিন রহঃ ইনস্টিটিউশন। posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to সিপাহসালার হযরত সৈয়দ নাসির উদ্দিন রহঃ ইনস্টিটিউশন।:

Share