28/01/2025
মেয়েটি শাড়ি পরে খুব সুন্দরভাবে সেজে ভার্সিটির ফাংশনে গেল। রিক্সা থেকে নামতেই একদল ছেলে যেন তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল! নাহ্ এরা কোনো ইভটিজার নয়! এরা বন্ধু! মেয়েটির ছেলে বন্ধু! তার দৃষ্টিতে তার শুভাকাঙ্খী। আর এই ঝাঁপিয়ে পড়াটাও ঐ ঝাঁপিয়ে পড়া নয়! এটা হলো মেয়েটির অতি প্রশংসায় মেতে ওঠা।
একজন বলল 'ওয়াও দোস্ত! শাড়িতে তো তোকে জোস লাগছে!' অন্যজন বলল 'পুরাই ক্রাশ!' একজন তো বলেই বসল 'উফ! আমার জিএফ না থাকলে তোর সাথে প্রেমই করতাম!'
এতসব প্রশংসায় মেয়েটি তো হেসে কুটিকুটি! তার উৎসাহ যেন দ্বিগুণ বেড়ে গেল! প্রজেক্টের প্রদর্শনীতে কিছু সুন্দরী মেয়ে ডাকা হলো। মেয়েটিও ছুঁটে গেল সেই প্রদর্শনীতে! প্রজেক্টের নামে হয়তো তারই প্রদর্শনী হবে! সে খবর কে রাখে!
তো ফাংশনে অনেক ফান হলো!ছেলেদের সাথে অনেক সেল্ফি তোলা হলো; এবার মেয়েটির বাড়ি ফেরার পালা! বাড়ি ফেরার পথে একদল বখাটের পাল্লায় পড়ল মেয়েটি। মেয়েটিকে দেখে তারা বলতে থাকল 'উফ! কী সুন্দর দেখতে! কী ফিগার! কী সুন্দর ঠোঁট ! প্রেম করবা?' ইত্যাদি ইত্যাদি..! এসব শুনে কিন্তু মেয়েটি রেগে আগুন! তার শরীর যেন জ্বলে উঠলো! রাগান্বিত কন্ঠে বলে উঠল' বেয়াদব যত্তসব!' কিন্তু এইতো সকালেই মেয়েটি একই ধরনের মন্তব্যে খুশিতে নেচে উঠেছিল! শয়তান কীভাবে মাইন্ড হ্যাক করে ধোঁকা দেয় এখানে সেটা উপলব্ধির বিষয়! আল্লাহ বলেন,
‘শয়তান তাদের বশীভূত করে নিয়েছে। অতঃপর আল্লাহর স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছে। তারা শয়তানের দল। সাবধান,শয়তানের দলই ক্ষতিগ্রস্ত।’ (১)
অবশেষে ছেলেদের সাথে তোলা সেল্ফিগুলো তারা আপলোড করল ফেসবুকে। শত শত লাইক কমেন্ট; সেখানেই সীমাবদ্ধ নয়। ইনবক্সে এসব ছেলেদের বন্ধুরা ওদের কাছে মেয়েটির খোঁজ খবর নিল 'দোস্ত, মেয়েটি কে রে! ওয়াও ফিগার দেখে তো ক্রাশ খেলাম! উফফ! কী হট!' ইত্যাদি ইত্যাদি..! মেয়েটির সেই শুভাবাঙ্খী ছেলে বন্ধুরাও তখন মেয়েটির বাহ্যিক রূপের বর্ণনায় শুরু করে দিল এক ঘৃণ্য আলোচনা!
নাহ্! এটা কোনো অবান্তর গল্প নয়! এটা আমাদের সমাজের বাস্তব চিত্র! কিছু ধীর এবং শান্ত চক্রান্তে মেয়েরা প্রতিনিয়ত নিজের অজান্তেই নিজেদের সেল্ফ-রেসপেক্ট নষ্ট করছে। অজ্ঞতার অন্ধকারে ডুবে থেকে তারা তা বুঝতে পারছে না। নিষিদ্ধ পল্লীর মেয়েরা না হয় সৌন্দর্য প্রদর্শন করে কিছু টাকা উপার্জন করে; সুশীল সমাজের মেয়েরা কীসের আশায় নিজেকে প্রদর্শন করে! আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন,
"ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না...।" (২)
মেয়েদের সৌন্দর্য উপভোগ করার অধিকার যেমন রাস্তার বখাটেদের নেই! তেমনি কোনো বন্ধুরূপী ছেলেদেরও নেই। কারণ ঐসব বন্ধুরূপী ছেলে তাদের আশেপাশে ঘেঁষে এসে তাদের অগোচরে কী মন্তব্য করে তা আমাদের অর্থাৎ ছেলেদেরই জানা আছে! ওহ! সবাই বাজে হয় না? হুম! যারা বাজে হয় না, তারা আশেপাশে ঘেঁষতেও যায় না।
অনেক মেয়ে এই অভিযোগটা করে যে , কোনো লোক যদি তাদের দিকে খারাপ দৃষ্টি দেয়, তাহলে সে লজ্জা সেই লোকের! তার ভাগ তারা কেন নিবে! হ্যাঁ, সে লজ্জা সেই লোকের। কারণ আল্লাহ পুরুষকে তার দৃষ্টি সংযত রাখতে বলেছেন। আল্লাহ বলেন,
"হে নবী (ﷺ)! মুমিন পুরুষদের বলে দিন, তারা যেন নিজেদের দৃষ্টি সংযত করে রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে।" (৩)
তাই কেউ যদি তার দৃষ্টিকে সংযত না রাখে তাহলে সেটা অবশ্যই তার জন্য লজ্জার বিষয়! কিন্তু কু-দৃষ্টিটা তো আপনার দিকেই দিচ্ছে! সেটা কি আপনার জন্য লজ্জার নয়? আপনাকে চোখ দিয়ে গিলে নিচ্ছে, আপনার বডি স্ট্যাক্চার গিলছে, আপনাকে নিয়ে মনে মনে কু-বাসনা পোষণ করছে ; আপনাকে নিয়েই! তাহলে সেটা প্রিভেন্ট করাটা কী আপনার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না? আপনি কেন নিজেকে প্রদর্শন করে তাদেরকে সেই সুযোগটি তৈরি করে দিচ্ছেন? কীসের আশায় প্রদর্শন করছেন? এতটা সস্তা কি আপনি? নাকি আপনার ভালো লাগে, অন্যের মানসিক লালসা পূরণের উপকরণ হতে ?
নিশ্চয় আমাদের বোনরা এতটা সস্তা নন। তাই যারা অজ্ঞতাবশত পর্দা থেকে দূরে আছেন, তারা আজ থেকে শপথ নিন। কিছু সস্তা প্রশংসার লোভে নিজেকে সস্তাভাবে বিলিয়ে দেওয়ার কোনো মানেই হয় না। আমাদের স্রষ্টার থেকে ভালো কেউ জানেন না যে আমাদের ভালো মন্দ কিসে! আর পর্দার বিধান তিনিই দিয়েছেন। সুতরাং এর থেকে ভালো কোনো পন্থা মেয়েদের জন্য থাকতে পারে না, যা তাদেরকে সুরক্ষিত রাখবে। তাই বোনেরা পর্দা করুক আর ভাইয়েরা করুক দৃষ্টিকে সংযত!
"আর যদি ভাবেন পর্দা করা জরুরি! করব তোহ্! কিছু দিন পর থেকে করব! তাহলে মনে রাখবে সেই 'কিছুদিন পর'টা কখনোই আসে না। কিন্তু দিনগুলো ফুরিয়ে যায়...।"
📝 লেখক: SF Hossain
Reference:
(১) সুরা মুজাদালা :১৯
(২) সূরা আন-নূর:৩১
(৩) সুরা আন-নূর: ৩০