25/05/2026
ছোটবেলায় রূপকথার গল্পে আমরা কত শত অলৌকিক বা অবাস্তব জিনিসই না পড়েছি বা শুনেছি! কল্পনায় বুঁদ হয়ে থাকতাম ওসব জিনিস ভেবে ভেবে।
এমনই একটা দৃশ্যপট যদি আপনাকে ভাবতে বলি যে, একটা গাছ যার প্রতি ডালে ডালে ঝুলছে আম। কিন্ত একেকটা ভিন্ন ভিন্ন রকমের, কোনোটা দশেরি, কোনোটা চৌসা, বা কোনোটা ল্যাংড়া। আপনি বলতে পারেন ভালোই তো হতো এমন হলে, কিন্ত এতো শুধু কল্পনাতেই সম্ভব। কিন্ত এই কল্পনার মতো জিনিসটাকেই বাস্তবে করিয়ে দেখিয়েছেন এক জাদুকর, নাম তার কালীমুল্লাহ খান।
৮৪ বছর বয়সী কালীমুল্লাহ খান ১৯৫৭ সাল থেকে তার ভিন্নমাত্রিক উদ্ভাবনী চিন্তা নিয়ে কাজ শুরু করেন। অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাকে প্রথম ধাপে। কিন্ত এসব প্রতিকূলতাই বরং তার সাথে মাটির সখ্যতা আরো বাড়িয়ে তুলেছে।
পরবর্তিতে ১৯৮৭ সালে ২২ একর বিস্তৃত একটি বাগানে তিনি বিভিন্ন জাতের আম নিয়ে কাজ শুরু করেন। এখান থেকেই শুরু হয় তার দীর্ঘ উদ্ভাবনী যাত্রা।
তার এই কাজের মূলে ছিলো কলমকরন বা গ্রাফটিং প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া শুরু হয় একটি সুস্থ শিকড়যুক্ত গাছ (Rootstock) বাছাই দিয়ে। এজন্য একটি তরুণ আম গাছ খুঁজে বের করতে হবে, যার শিকড়ের গঠন শক্তিশালী। এরপর উদ্যানবিদ বিভিন্ন আমের জাত থেকে ডাল কেটে তা সেই মূল গাছের সঙ্গে জোড়া লাগান, যাদেরকে বলা হয় সায়ন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কলম করা অংশগুলো একত্রে মিশে যায় এবং বিভিন্ন জাত এক গাছেই একসঙ্গে বেড়ে ওঠে।
উদ্যানচর্চার প্রতি কালীমুল্লাহ খানের অদম্য নিষ্ঠা, যা জন্ম দিয়েছে এক বিস্ময়কর সৃষ্টির — একটি গাছে ৩০০-রও বেশি জাতের আম; যার প্রতিটিই স্বাদ, রঙ ও গন্ধে একটা আরেকটার থেকে ভিন্ন।
কালীমুল্লাহ খানের মতে, ‘কলমকরণ একধরনের শিল্প। এটা এক ধরনের ধাঁধা সমাধান করার মতো। সঠিক জাত বেছে নিতে হয়, সেগুলোকে সাবধানে সংযুক্ত করতে হয়, আর বছরের পর বছর যত্ন নিতে হয়—তবেই গিয়ে দেখা মেলে পরিশ্রমের ফল।‘
কালীমুল্লাহ খানের এই অভূতপূর্ব কাজের জন্য তিনি পরিচিত এখন “ ম্যাংগো ম্যান অব ইন্ডিয়া” হিসেবে, ভূষিত হয়েছেন সম্মানজনক পদ্মশ্রী পুরষ্কারে।
তার এই বাগানটি এখন যেন হয়ে উঠেছে উদ্যানচর্চার এক জীবন্ত পাঠশালা।
তথ্যসূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
ছবি: আনন্দবাজার