29/04/2024
প্রায় প্রতিটি মাদরাসার গল্প এমনই
মাদরাসার মাসিক খোরাকি সবসহ ৪০০০ টাকা। ছেলেটি গরিব মেধাবী। এজন্য তিনহাজার টাকা কমিয়ে ১০০০ টাকা ধার্য করা হয়েছিল। তার পিতা পল্লী চিকিৎসক টাইপের কিছু একটা।
কিন্তু এতোটাই দুরাবস্থা যে, ছেলের জন্য সেই ১০০০ টাকা দিতে পারছিল না। সারা বছরই বোর্ডিং ম্যানেজারের সাথে ছেলেটার লুকোচুরি অবস্থা। এক মাসে দিতে পারে তো বাকি দুই মাস কর্তৃপক্ষের কাছে অনুনয় করে ছাড় নিয়ে নেয়।
এ বছর ভর্তি হওয়ার সময় বলা হলো, ১০০০ টাকা দিতে পারবে তো! না কি গত বছরের মতো এলোমেলো করবে?
যা বলল, শুনে কষ্ট পেতে হবে। বাবা টুকটাক ব্যবসা করতো। এরমধ্যে গত ইলেকশনের সময় বিএনপি সাপোর্ট করার কারণে কিছুদিন ঘরছাড়া ছিল। এজন্য অনেকদিন ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারেনি। ব্যবসা দাড় করানোর জন্য এর ওর কাছ থেকে বহুত ঋণ নিয়েছে। সেসবও পরিশোধ করতে পারছে না।
এরও আগের ঘটনা হলো, এই তালিবুল ইলমের মা, অর্থাৎ লোকটার প্রথম স্ত্রীকে বাবা ছেড়ে দিয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করেছে। এজন্য ঘরে এখন যে মা আছে, সৎমা। তাই ছাত্রটি বাসায় যেতে পারে না। এমনকি ঈদের সময়ও বাসায় যায়নি। সতমার আচরণ ভালো নয়। অর্থাভাবের কথা বলে খেতে দেয় না, খোটা দেয়।
বাবার সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে দপ্তর থেকে। বলেছে, ছেলেকে আপনাদের হাওয়ালা করে দিয়েছি। আপনারা যা পারেন করেন। অর্থাৎ তার পক্ষে মোটেও সম্ভব নয় সন্তানের কোনো খরচাপাতি দেওয়া।
এক হাজার টাকার কথা আর কি বলা যাবে! এখন তো মনে হচ্ছে, উল্টো ছাত্রটাকেই হাতখরচ দেওয়া উচিত। মাদরাসার সামর্থ্য থাকলে হয়তো দেওয়া যেত!
যা হোক, এই তো হলো কওমি মাদরাসা। এমন হাজারো কষ্টের গল্প নিয়ে অসংখ্য ছাত্র পড়াশোনা করতে আসে মাদরাসাগুলোতে। কর্তৃপক্ষের উদারতা, দরদ আর প্রচেষ্টায় পড়া শেষ করে তারা আলেম হয় এসব মাদরাসা থেকে। এরপর সমাজে দীনী অবদান রাখে।
মাদরাসাগুলোর মুহতামিমগণ এসব ছাত্রের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করেন, আর ওসিলা হিসেবে মানুষের কাছে ধরনা দেন। কারণ, এই ছেলেগুলোকে রাস্তায় ফেলে দেয়া যাবে না। তাদের পিতামাতার যে অবস্থাই হোক, তাদেরকে তো মানুষ বানাতে হবে।
আল্লাহ যেন সবকিছু সহজ করে দেন, এবং গায়বি খাজানা থেকে মাদরাসাগুলোর জরুরত পূরণ করে দেন।