20/07/2026
আমি এক বিশ্বপরিব্রাজক
সৈয়দ শামছুল হুদা
আমি মালয়ের ‘পুত্রাজায়া জামে' দেখেছি
আমি চীনের প্রাচীরে হেঁটেছি
আমি দেখেছি সুরের তাজমহল।
আমি ঐতিহ্যের আয়া-সুফিয়া দেখেছি
আমি পাড়ি দিয়েছি কাশেমপাশার
ঐতিহাসিক গোল্ডেন হর্ন।
আমি দেখেছি ‘ফরবিডেন সিটি'র
অনিন্দ্য সুন্দর সুরম্য রাজমহল।
আমি দেখেছি সাঙ্গু লেক, গ্যাংটক
দেখেছি লাচুং এ- বরফের সৌন্দর্য।
দেখেছি রাতের ‘আর জে মার্গ’ শপিংমল
‘রাষ্ট্রের ভিতরে রাষ্ট্র’- সিকিম দেখেছি
দেখেছি সেভেনসিস্টার্স ওয়াটারফল।
আমি দেখেছি কলকাতার দুর্গন্ধ
হাওড়া ব্রীজের আশে-পাশে আবর্জনার স্তুপ
ঐতিহাসিক রাণী ভিক্টোরিয়া পার্ক
আর শিয়ালদহ রেল স্টেশন,
আমি দেখেছি ‘মুসলিম ইনস্টিটিউট’
দেখেছি- হিন্দুত্ববাদের নাক ছিটকানো।
আমি দেখেছি ত্রিপুরা, আগরতলা রেলস্টেশন
দেখেছি ডাউকি স্থলবন্দর।
আমি শিলং এর অসংখ্য ঝর্ণা দেখেছি
মেঘালয়ের বিখ্যাত খ্রীষ্টান গীর্জা দেখেছি
দেখেছি মডেল গ্রাম- ‘মাউলিনাং ক্লিন ভিলেজ’
আমি দেখেছি সিঙ্গাপুরের ‘সুলতান মস্ক’
দেখেছি বেইজিং এর টক্সিন বিমানবন্দর
আমি শুনেছি তুর্কিদের হৃদয়গ্রাহী আজান।
আমি ‘মেভলানা রুমি’র মাজার দেখেছি
মৃদু ছন্দে শুনেছি কাসিদায়ে রুমীর সূর
শামসুদ্দীন তিবরীযের শিয়রে দাঁড়িয়ে
করেছি মুনাজাত, হারিয়ে গিয়েছি বহুদূর।
আমি হেঁটেছি তায়েফের পাহাড়ে
আমি দেখেছি বদরের সেই মাঠ
আমি দেখেছি মদিনার অলিগলি
আমি দেখেছি বসফরাসের ঢেউ।
দেখেছি ওহুদের প্রান্তর, মীনা, মুজদালিফা
কেঁদেছি আরাফায়, মেরেছি পাথর জামারায়।
আমি দেখেছি সুনমার্গ, গুলমার্গ আর
বেতাবভ্যালির চোখ জুড়ানো দৃশ্য।
আমি ‘ঝিলামে’র উপর দিয়ে হেঁটেছি
আমি দেখেছি ঐতিহাসিক ডাল লেক
দেখেছি- শিকারায় উষ্ণ কফি'র ধোঁয়া ।
আমি দেখেছি চাঙ্গি, কুনমিং, সূবর্ণভূমি
দেখেছি জহরলাল নেহরু, নেতাজী সুভাষ,
দেখেছি লোকপ্রিয়া গোপীনাথ বিমানবন্দর,
দেখেছি ইস্তাম্বুল, জিদ্দাহ, মালয়, কোনিয়া
মাড়িয়েছি পথ আতাতুর্কের ইমিগ্রেশন।
দেখেছি ‘সামারপ্যালেসে’র নয়নাভিরাম দৃশ্য
দেখেছি লালকেল্লায় শাহজাহানের দরবার।
সিজদায় লুটেছি বহুবার কালো গিলাফের গায়
পড়েছি নামাজ ব্লু-মক্স, আয়া-সুফিয়ায়
নুইয়েছি হযরতবাল মসজিদের বারান্দায়।
আমি প্যানাং এর সমুদ্র তীরে দাঁড়িয়েছি
ভিজেছি ‘মারলিন স্ট্রেচু'র পানির ছুঁয়ায়।
দেখেছি ‘মেরিনা বে'র আকাশচুম্বী উন্নয়ন।
মাড়িয়েছি মেরিনা বে-গার্ডেন
দেখেছি চোখজুড়ানো লাইটিং শো।
আমি আকাশছোঁয়া দার্জিলিং দেখেছি
শিশির স্নাত ভোরে পিয়েছি তার বিখ্যাত চা
ঐতিহ্যের 'ঘুম' রেল স্টেশন হেঁটেছি
মেঘে’র কোলে হারিয়ে গিয়েছি
দেখেছি সেখানের বিখ্যাত চায়ের বাগান।
জগৎখ্যাত ‘তিয়ানমেন’ স্কয়ারে ঘুরেছি
রাজকীয় সাজে চাইনিজদের উৎসব দেখেছি
দেখেছি তোপকাপি প্যালেসের যাদুঘর
দেখেছি কৃষ্ণ সাগরের শূভ্র সফেদ ঢেউ
দাঁড়িয়েছি হুররম খা'র শান্ত কবরের গায়।
ষাট ফিট দীর্ঘ ইউশা আ. এর কবর দেখেছি
পড়েছি দুরূদ আইয়ুব আল আনসারীর মাজারে
দেখেছি বি’রে শিফা, করেছি পান যমযম
মসজিদে কুবা'র পাদদেশে দাঁড়িয়ে দুরূদ পড়েছি
পড়েছি নামাজ রওজাতুম মিন রিয়াজিল জান্নায়।
জান্নাতুল বাকী দেখেছি, দেখেছি মু’আল্লাকা
পড়েছি নামাজ- সবুজ গম্বুজের ছায়ায়।
আমি দিল্লির লালকেল্লা দেখেছি
দেখেছি মোগলদের আগ্রা পোর্ট,
দেখেছি- আকাবিরদের ‘দারুল উলূম দেওবন্দ’
কলকাতার বিখ্যাত ‘জামেয়া আলিয়া’
নিজাম উদ্দিন আউলিয়ার মাজার
আর দিল্লির শাহী মসজিদের পাশে
অসভ্যদের নোংরামিও দেখেছি।
আমি কাশ্মীরীদের আর্তনাদ দেখেছি
দেখেছি রোহিঙ্গাদের নীরব কান্না
আমি সিরিয়ার অসহায় শিশুদের
ভিক্ষার হাত বাড়াতেও দেখেছি,
দেখেছি তুর্কি শিশুদের চোখে-মুখে
উজ্জ্বল ভবিষ্যতের নতুন সম্ভাবনা।
চাইনিজ শিশুদের প্রাণচাঞ্চল্য দেখেছি
দেখেছি আরব শিশুদের আভিজাত্য।
দেখেছি আফগানিদের সহজ-সরল হাসি
দেখেছি তুর্কিদের বন্ধুসুলভ আচরণ, আর
অনেক ভারতীয়ের হিংসাকাতর চোখ।
দেখেছি ‘জহুরবারো’র সেতু বন্ধন
দেখেছি তুর্কিদের গর্ব- সুলতান ফাতেহ ব্রীজ
ইউরোশিয়ার সৌন্দর্যের চমক দেখেছি
দেখেছি ‘রেসালায়ে নূরে’র আলোর ঝলক।
ইস্তাম্বুলের গ্রান্ড মার্কেটে হেঁটেছি
দেখেছি ‘মোস্তফা সেন্টারে’র রওনক।
আমি শ্রীনগরের ‘শালিমার বাগ’ দেখেছি
দেখেছি চোখ জুড়ানো ‘টিউলিপে’র বিপুল সমাহার
আরবের তৃণলতাহীন শুষ্ক, কালো পাহাড় দেখেছি
দেখেছি ক্যাবলকারে গুলমার্গে
বরফে ঢাকা সাদা সাদা বরফের পাহাড়,
পেহেলগামের- অ্যারোভ্যালি, চন্দনওয়ারি দেখেছি
হেঁটেছি বেইজিং এর মাইনাস-১৭ তাপমাত্রায়।
আগামীর সফর- হবে মিশর ইনশাআল্লাহ, তারপর-
হয়তো নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, পাক, আফগান,
উজবেক, মালদ্বীপ, সিংহল কিংবা ইউরো-আফ্রিকা
হয়তো কোনোদিন সাতসমুদ্র ওপারের আমেরিকা।
শোকরগুজার করি হে আমার রব
প্রার্থনা করি, আরও শক্তি-সামর্থ দাও
অপরূপ সৌন্দর্যের আধার এই বসুন্ধরা তোমার
প্রাণভরে তারে- দেখিবার তৌফিক দাও।
২০.০৭.২০২৬