Jagannath Hall Literature Society

Jagannath Hall Literature Society আয় চলে আয়রে ধূমকেতু, আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিছনে দেখা যাচ্ছে জগন্নাথ হল। আজ থেকে ১০০ বছর আগে, ১৯২৬ সালের ১০ ডিসেম্বর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জগন্নাথ ...
08/05/2026

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিছনে দেখা যাচ্ছে জগন্নাথ হল। আজ থেকে ১০০ বছর আগে, ১৯২৬ সালের ১০ ডিসেম্বর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জগন্নাথ হলে এসেছিলেন।

আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে।তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে ॥শুভ জন্মতিথি বিশ্বকবি 🙏
07/05/2026

আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে।
তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে ॥

শুভ জন্মতিথি বিশ্বকবি 🙏

বুদ্ধ পূর্ণিমা ও কে ডাকে? ও কে ডাকে ঘরের বাইরে?ও কে ডাকে আমায়? এই আগুন জোৎস্নায়কে ডাকে আমায় বনের দিকে? মাঠের দিকে?কার এম...
01/05/2026

বুদ্ধ পূর্ণিমা

ও কে ডাকে? ও কে ডাকে ঘরের বাইরে?
ও কে ডাকে আমায়? এই আগুন জোৎস্নায়
কে ডাকে আমায় বনের দিকে? মাঠের দিকে?
কার এমন আকুল ডাক, এই বুদ্ধ পূর্ণিমায়?

আর পারি না, মলিন চাদরের বিছানা ছেড়ে উঠে যাই
দরজা খুলে উঠোনে আসি
চাদের আলো নারকেল পাতার ধার দিয়ে গলে গলে পড়ছে যেন
যেন সমস্ত আকাশে এক অদ্ভুত নীল
কি যেন এক উত্তেজনায় সমস্ত আকাশ সংসার
কিসের যেন এক মাহেন্দ্রক্ষণ আসন্ন, এই বুঝি আসবে এবার!

দূর হতে যেন শেয়াল ডাকে, এ যেন আগমন ধ্বনি কারো
যেন কোনো সন্ন্যাসী সহস্রের তপস্যা ভেঙে জাগবে এবার
যেন মায়া কায়ার বাঁধন ছিড়ে, উন্মুক্ত হবে স্বর্গদ্বার
আমি হেঁটে যাই বনের দিকে,
আমি হেঁটে যাই নরম ভেজা ঘাস গুলো পায়ের নিচে ফেলে
আকাশ তখন আরো উজ্জ্বল, হয়তো এমন কোনো পূর্ণিমা আসে নি আর
এমন কোনো পূর্ণিমা আসবে না আবার
যেন ব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত চাঁদের রঙ আজ আকাশের কাছে
আমি দেখি নক্ষত্ররা সব জড় হয় একসাথে
প্রশ্নবোধক চিহ্ন তোলে সপ্তর্ষি
আসছে কি সেই সময়? সময়ের বাধন ছিড়ে যে সময়
সময়ের এপার ওপার ছিড়ে যে সময়ের অপেক্ষায়

আমি বসে পড়ি অশ্বত্থের নিচে, হাটুদুটো ভাজ করে
হাত দুটো প্রসারিত করে রাখি পায়ের উপরে
যেন এক বিদ্যুৎ খেলে যায় শরীরে
যেন বাতাসের প্রতিটি কণা
যেন আলোর প্রতিটি কণা
দেখতে পাই, শুনতে পাই, ধরতে পাই
এই সময় যেন অরণ্য দেবী জেগে ওঠে অরণ্যের ভেতর থেকে
যেন প্রাচীন আদিম সব বৃক্ষেরা ধ্বনিত করে আগমন বেদী
দূর হতে কেপে ওঠে আকাশস্থল
যেন বাতাসে কেবল চিতার গন্ধ অবিকল!
যেন এক ভস্মভূমির মধ্যে লীন আমি।

এখনই কি সেই অযুত নিযুতের অবসান?
এখন হবে বুদ্ধত্বলাভ?
নাকি কেবল শ্মশান?

-
🖋️কবি 🖋️
অহর্নিশ রায়

ধোঁয়া ওঠা উষ্ণ চায়ের সাথে, মুড়ি চানাচুর মুঠো হাতে, কবি সাহিত্যিকদের কলরবে  সম্পন্ন হলো আমাদের আজকের সাহিত্য আড্ডা । উপস্...
12/04/2026

ধোঁয়া ওঠা উষ্ণ চায়ের সাথে, মুড়ি চানাচুর মুঠো হাতে, কবি সাহিত্যিকদের কলরবে সম্পন্ন হলো আমাদের আজকের সাহিত্য আড্ডা । উপস্থিত সকল সাহিত্যপ্রেমী বন্ধুদের আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের উপস্থিতি ও সরব অংশগ্রহণ আজকের আড্ডাটিকে করেছে অর্থবহ ও মাধুর্য মণ্ডিত।
আজকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পিএসসি কতৃক নির্ধারিত ১১ জন সাহিত্যিককে নিয়ে আমরা একটি করে পাঠচক্র করবো। আগামী ১৬ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার আমাদের পাঠচক্রের তৃতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।
পাঠচক্রের বিষয় ঃ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কর্ম ও জীবন।
জগন্নাথ হলের সাহিত্য প্রেমীদের প্রতি রইলো আন্তরিক আমন্ত্রণ।
স্থান ঃ "বুদ্ধদেব বসু স্মৃতি পাঠাগার (১০০১ নং কক্ষ,সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য ভবন)।

12/04/2026

বদ্ধ চিঠি
-----------------------
মোর এক শ্রাবণ ধারার বার্তা যে তুমি
এক পলক পরলে মনে
নিশার আকাশ শুনি ।
না দেওয়া সেই চিঠিটি
প্রান হারায় সেই ডায়েরির কোনায়
দৃষ্টি খুবই নিরব ছিল
চিঠিকে সেই গল্প শোনায়।
চিঠিটি তবু পরে থাকবে কি চিরকাল?
আকাশ পাতাল মিশবে না আর?
করেছিলাম সেই কল্পনা,সখা নও যে তুমি
মিশবে না আর বাসনা তার।
পাতা উল্টিয়ে দেখি সে কি
বৃথাই আমার শব্দ গুলি।
পরে থেকে নিরব ছায়ায়
ভুলে যাওয়ার ইচ্ছে সাজে
একা বসে ঘরের কোনায়।

_____________ নিলয় গুপ্ত
___________রচনা কালঃ১৩/০৪/২০২২

জগন্নাথ হল সাহিত্য সংসদ ও সাংস্কৃতিক সংসদের যৌথ আয়োজনে আমরা আজ শুক্রবার, সন্ধ্যা ৫টায় একটি বিশেষ জলসার আয়োজন করতে যাচ্ছি...
14/11/2025

জগন্নাথ হল সাহিত্য সংসদ ও সাংস্কৃতিক সংসদের যৌথ আয়োজনে আমরা আজ শুক্রবার, সন্ধ্যা ৫টায় একটি বিশেষ জলসার আয়োজন করতে যাচ্ছি
‎“সুরের জলসাঘর ”

‎ধ্রুপদী সঙ্গীত, শায়েরী ও গজলে ভরপুর এক আড্ডা। খুলনা থেকে থাকছেন আমাদের অতিথি শিল্পী দিব্যেন্দু পাল নীলাভ্র , সাথে জগন্নাথ হল ও ঢাবির বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গীতচর্চায় নিয়োজিত বন্ধুরাও পরিবেশন করবেন সুর ও শায়েরী ।

‎স্থান: সাহিত্য সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, জগন্নাথ হল। ( নিরামিষ মেসের উপরে দুই তলায়)
‎সময়: শুক্রবার, সন্ধ্যা ৫.৩০ টা

‎সুরের এই ছোট্ট সন্ধ্যায় আপনাদের আন্তরিক উপস্থিতি কামনা করছি।

02/11/2025

‎"dil na umeed to nahi, nakam hi to hai
‎lambi hai ghum ki shaam, magar shaam hi to hai"
‎-Faiz Ahmed Faiz
‎বড় ক্লান্ত এই হৃদয়, তবু হতাশ তো নয়
‎দুঃখের সন্ধ্যা বড় দীর্ঘ, তবু সন্ধ্যাই তো রয়।
‎.
‎বেদনা মিশ্রিত সন্ধ্যার বেদনাকে আরও তীব্র থেকে আরও তীব্রতর করে উপভোগ করার জন্য জগন্নাথ হল সাহিত্য সংসদ আয়োজন করছে এক কাব্য সন্ধ্যা। থাকবে আবৃত্তি, গজল, কবিতা ও মন ছুয়ে যাওয়া শায়েরীর আসর। (আসরে পানীয় হিসেবে চা এর ব্যবস্থা থাকবে।)

‎স্থান : নরেশ চন্দ্র সেন কনফারেন্স রুম
‎সময় : ৭ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার, সন্ধ্যা ৬ টা
‎আয়োজনে: জগন্নাথ হল সাহিত্য সংসদ।

‎সাহিত্যপ্রেমী সকলের প্রতি রইলো আন্তরিক আমন্ত্রণ ।

শরৎচন্দ্রের "দেবদাস" নিয়ে আমাদের সাপ্তাহিক পাঠচক্রের ১ম পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন হলো। উপস্থিত সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞ...
30/10/2025

শরৎচন্দ্রের "দেবদাস" নিয়ে আমাদের সাপ্তাহিক পাঠচক্রের ১ম পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন হলো। উপস্থিত সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। 🌸

দেবদাস ভাবিয়াছিলো তাহাকে ছাড়া পার্বতী মরিয়া যাইবে, অথচ তাহার জ্বরটুকু অবধি আসে নাই।"‎জগন্নাথ হল সাহিত্য সংসদের আয়োজনে...
28/10/2025

দেবদাস ভাবিয়াছিলো তাহাকে ছাড়া পার্বতী মরিয়া যাইবে, অথচ তাহার জ্বরটুকু অবধি আসে নাই।"
‎জগন্নাথ হল সাহিত্য সংসদের আয়োজনে পাঠচক্রের প্রথম পর্বে থাকছে শরৎচন্দ্রের বিখ্যাত ট্রাজেডি "দেবদাস"।
‎উপন্যাসটির বিষয়বস্তু কমবেশি সকলেই জানেন তবুও শরৎচন্দ্রের নিজের ভাষায় উপন্যাসের শেষে যা ব্যাক্ত করেছেন তা হুবহু তুলে দিলাম,
‎'শুধু দেবদাসের জন্য বড় কষ্ট হয়৷ তোমরা যে-কেহ এ কাহিনী পড়িবে, হয়ত আমাদেরই মত দুঃখ পাইবে৷ তবু যদি কখনও দেবদাসের মত এমন হতভাগ্য, অসংযমী পাপিষ্ঠের সহিত পরিচয় ঘটে, তাহার জন্য একটু প্রার্থনা করিও৷ প্রার্থনা করিও, আর যাহাই হউক, যেন তাহার মত এমন করিয়া কাহারও মৃত্যু না ঘটে৷ মরণে ক্ষতি নাই, কিন্তু সে সময়ে যেন একটি স্নেহকরস্পর্শ তাহার ললাটে পৌঁছে- যেন একটিও করুনার্দ্র স্নেহময় মুখ দেখিতে দেখিতে এ জীবনের অন্ত হয়৷ মরিবার সময় যেন কাহারও একফোঁটা চোখের জল দেখিয়া সে মরিতে পারে৷’
‎আলোচনার বিশেষ দিকসমূহ:
‎১.দেবদাসের প্রেমের সামাজিক বাধা- পরিবার, শ্রেণি ও মানমর্যাদার টানাপোড়েন।
‎২.হিন্দু সমাজের বর্ণ ও জাতব্যবস্থা - প্রেম ও বিবাহে তার অদৃশ্য প্রভাব।
‎৩.বিরহ, ভালোবাসা শরৎচন্দ্রের সময়ে যেমন ছিল, আজও কি তেমনই আছে?
‎স্থান : বুদ্ধদেব বসু স্মৃতি পাঠাগার ( ১০০১ নং কক্ষ, সন্তোষ চন্দ্র ভট্টাচার্য ভবন)
‎সময় : বৃহষ্পতিবার, রাত ১০ টা।

‎সাহিত্য প্রেমীদের প্রতি রইলো আন্তরিক আমন্ত্রণ।

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর অবশেষে জগন্নাথ হলের সাহিত্য অনুরাগীদের সাহিত্যচর্চার জন্য প্রস্তুত ‎"বুদ্ধদেব বসু স্মৃতি পাঠাগা...
27/10/2025

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর অবশেষে জগন্নাথ হলের সাহিত্য অনুরাগীদের সাহিত্যচর্চার জন্য প্রস্তুত
‎"বুদ্ধদেব বসু স্মৃতি পাঠাগার "( ১০০১ নং কক্ষ, সন্তোষ চন্দ্র ভট্টাচার্য ভবন)।
‎এখানে থাকবে পাঠ, আলোচনাচক্র, কাব্য সন্ধ্যা, সাংস্কৃতিক আড্ডা,বই বিনিময় ও সাহিত্য নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা ।
‎আসুন বই পড়ি, সুন্দর মানসিকতা গড়ি।

১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর। এক দুর্যোগময় সন্ধা। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের ফলে রাজধানী ঢাকা মহানগরীর উপর দিয়ে ঘন্টায় ১০০ কিলোম...
15/10/2025

১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর। এক দুর্যোগময় সন্ধা। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের ফলে রাজধানী ঢাকা মহানগরীর উপর দিয়ে ঘন্টায় ১০০ কিলোমিটার বেগে দমকা হওয়া বয়ে যায়। সেই সাথে হয় প্রচন্ড বৃষ্টিপাত। সকলের অগোচরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার শতবর্ষী পুরাতন ভবনগুলো আসন্ন দুর্যোগের আশঙ্কায় কেঁপে কেঁপে ওঠে। তখন বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিল টেলিভিশন। প্রতি মঙ্গলবারের মত সেদিনও বিটিভির রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর ধারাবাহিক নাটক শুকতারা প্রচারিত হওয়ার কথা। উদয়ন স্কুলের অধ্যক্ষ মমতাজ বেগমের লেখা শুকতারা দেখার জন্য সেদিন ছাত্র, কর্মচারী, অতিথীরা উপচে পড়েছিল টিভিরুমে। এই নাটকে অভিনয় করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারীর ছোট ভাই সংস্কৃত বিভাগের ছাত্র মনন অধিকারী। জগন্নাথ হলের ছেলে মনন অধিকারীর অভিনীত শুকতারা দেখার জন্য জগন্নাথ হলের অনুদ্বৈপায়ন ভবন কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

এই ভবনটিতে একসময় প্রাদেশিক পরিষদের অধিবেশন বসতো। তাই ভবনটিকে 'পরিষদ ভবন' বা এসেম্বলি হলও বলা হতো। ভবনটি ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ ভবনটিকে ছাত্রদের আবাসিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে জগন্নাথ হলের সাথে যুক্ত করেন। এরপর একাত্তরের শহীদ আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্যের নামে এ পরিষদ ভবন বা এসেম্বলি হলের নামকরণ করা হয় 'অনুদ্বৈপায়ন ভবন' ।

বাইরে মুষলধারায় বৃষ্টি হচ্ছে। সবাই গভীর মনোযোগে শুকতারা দেখছে। কেউ কেউ আচমকা খেয়াল করলো উপর থেকে গুড়ি গুড়ি চুন, সুরকি, বালি গায়ের উপর পড়ছে। ঘটনাটা ভালভাবে বুঝে ওঠার পূর্বেই দমকা হাওয়ায় হঠাৎ ভয়ংকর শব্দে টিভিরুমের ছাদ ধ্বসে পড়ে সকলের মাথার উপর। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়ে চারিদিকে অন্ধকার নেমে আসে। এরকম আকস্মিক ঘটনায় মুহূর্তেই সবাই হতভম্ব হয়ে যায়। চিৎকার-চেচামেচি, বাবাগো, মাগো, বাঁচাও, বাঁচাও ধ্বনিতে নিরেট অন্ধকারে এক নারকীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। চারিদিকে শুধু রক্ত আর রক্ত। থেতলে যাওয়া মাংসস্তূপ এবং ছিন্নভিন্ন দেহের মিছিল। এক নিমিষে শেষ হয়ে যায় ৩৯ টি তাজা প্রাণ। আহত হয় বহু ছাত্র। কেউ কেউ চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করে। দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই হলের অন্যান্য ভবনের ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক, ছাত্র, কর্মচারী ও সাধারণ মানুষ আর্তদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন ।

জগন্নাথ হলের সদ্য-সাবেক প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মিহিরলাল সাহা তখন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র ছিলেন। একটি কোর্সের মিডটার্ম পরীক্ষার প্রস্তুতিস্বরূপ রুমে বসে অধ্যয়ন করছিলেন । হঠাৎ একটা বিকট শব্দ শুনে বেরিয়ে পড়েন তিনি। বাইরে এসে জানতে পারেন এসেম্বলি ভবনের ছাদ ভেঙে পড়েছে। এক মুহূর্তও দেরি না করে আর্তদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। উদ্ধারকার্যের এক পর্যায়ে একটি মুখ দেখে তিনি থমকে যান । শিবনারায়ন। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অনুজ । প্রথম বর্ষের অনুসন্ধিৎসু এক তরুণ। সে প্রায়ই উদ্ভিদবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় শেখার জন্য তার রুমে আসতো। অথচ এখন সে মৃত। ইতিহাসের নির্মম এক দুর্ঘটনার শিকার।

রাত বাড়ার সাথে সাথে ইতোমধ্যে সারা শহরের মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে জগন্নাথ হলের দুর্ঘটনার কথা। একে তো টিপটিপ বৃষ্টি, অন্যদিকে বিদ্যুৎহীন অবস্থা । এরকম প্রতিকূল পরিবেশে সারা রাতধরে চলে উদ্ধারকাজ। উদ্ধারকৃতদের এক হাসপাতালে স্থান দেওয়া সম্ভব না হলে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, পিজি, সোহরাওয়ার্দী, সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ, হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল, পঙ্গু ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া ব্যক্তি মালিকানাধীন ক্লিনিকেও ভর্তি হয় বহু আহত ছাত্র। মাইকে তখন রক্তদান করার জন্য করুণ আকুতি ঘোষিত হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এবং বহু সাধারণ মানুষ এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাসপাতালে চলে যায় রক্ত দিতে। রক্তদান করতে আগ্রহীদের এত ভিড় বাংলাদেশে স্মরণকালে আর দেখা যায়নি। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই ছুটে আসে সাহায্যের জন্য। তার পরও সব জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। নিহতদের লাশ শহীদ মিনারের পাদদেশে সারিবদ্ধ করে রাখা হয়। পরের দিন দেশের সংবাদপত্রগুলোর প্রধান খবর ছিল এটাই।

দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় শিরোনাম আসে : 'জগন্নাথ হল মিলনায়তন ধসে ৫০ জন ছাত্র নিহত, আহত দুই শতাধিক। রক্তদানের আবেদন।' বাংলার বাণী সংবাদ ছাপে এই শিরোনামে : 'জগন্নাথ হলের ছাদধসে ৫০ জন ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু আহত ৩ শতাধিক।' কোনো পত্রিকা একে লেখে 'জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডি' বলেও। তখনো আহত ও নিহতের সঠিক হিসাব না পাওয়ায় সংবাদ শিরোনামে ভিন্নতা দেখা যায়। পরে দেখা গেছে, মোট ৩৯ জন নিহত হয়েছে এবং আহতের সংখ্যা শতাধিক ।

পুরনো এই ভবনটিকে আগেই বসবাসের অযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। ব্রিটিশ আমলে চুন, সুরকি ও লোহার রডের বিম দিয়ে তৈরী এই ভবন ছিল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বৃষ্টি হলেই ছাদ বেয়ে জল পড়তো। কতৃপক্ষ ছাত্রদের বিনোদনের ব্যবস্থা হিসেবে এখানেই একটি বড় রঙিন টেলিভিশন স্থাপন করেছিল। কক্ষের সামনের নিচু জায়গায় রাখা ছিল টিভি। ছাত্ররা যেন বৃষ্টিতে না ভিজে যায় সেজন্য ছাদে টিন দেয়া ছিল। ১৫ অক্টোবর সকালে ভবনটি মেরামত করার উদ্দেশ্যে ছাদ থেকে টিন সরিয়ে নেয়া হয়েছিল । এতে সারাদিনের বৃষ্টিতে চুন-সুরকির ছাদ নরম হয়ে যায়। আর রাতে ধ্বসে গিয়ে সৃষ্টি করে ইতিহাসের এক ভয়াবহ ট্রাজেডির।

একটি দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে কতগুলো তরতাজা প্রাণ নিমিষেই ঝরে গেল। কত আশা আকাঙ্খা, সম্ভাবনা, স্বপ্ন এক নিমিষেই বৃষ্টিভেজা মাটিতে মিশে গেল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিভৎস মৃত্যু সেদিন পুরো জাতিকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। এমন দুর্ঘটনা কেন ঘটলো? কেন অকালে ঝরে গেল কতগুলো তরুণ তাজা প্রাণ?

দুঃখজনক হলেও সত্যি, এই ট্রাজেডির পিছনে রয়েছিল তৎকালীন সরকারের ঔপনিবেশিক মন-মানসিকতা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাম্প্রদায়িক, সংকীর্ণ মনোভাব ও অবহেলা । জগন্নাথ হলের এই দুর্ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর অনুষ্ঠিত হয় শারদীয় দুর্গাপূজা। কিন্তু সেবছর সারাদেশ শোক সন্তপ্ত ও আনন্দ উৎসববিহীন একটি দুর্গাপূজা দেখেছিল। সন্তানহীন মা-বাবা ও স্বজনহারাদের চোখের জলে সকল উৎসবই ম্লান হয়ে গিয়েছিল সেবছর। মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির উদ্যোগে ১৯৮৫ সালের ২১ অক্টোবর মহাষ্টমীর দিন ঢাকেশ্বরী প্রাঙ্গনে একটি শোকসভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেছিলেন মেজর জেনারেল (অবঃ) সি. আর. দত্ত। ঐ সভায় বাংলাদেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। প্রত্যেকেই তাঁদের বক্তৃতায় কঠোর ভাষায় সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ ও হল প্রাশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের চরম ঔদাসীন্যের নিন্দা করেন। প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সাহিত্যিক আবু জাফর শামসুদ্দীন তার বক্তৃতায় এ দুর্ঘটনাকে 'Criminal Negligence' - এর ফল বলে উল্লেখ করেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী বক্তা জনসভায় বলেন, শুধুমাত্র একটি নোটিশের অভাবে এতগুলো প্রাণ ঝরে পড়ে গেল" (দৈনিক সংবাদ: ২২/১০/৮৫)।

ঢাকেশ্বরী প্রাঙ্গনে সেদিনের শোকসভায় জগন্নাথ হলের প্রাক্তন প্রোভোস্ট অধ্যাপক রঙ্গলাল সেন বলেন, "সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন জগন্নাথ হল সম্পর্কে ছিলেন উদাসীন। পাকিস্তানী মন-মানসিকতা বাংলাদেশের স্বাধীনতা- উত্তর কালেও ছিল বিদ্যমান। ষাটের দশকের গোড়ার দিকে আমি আবাসিক ছাত্র থাকাকালে পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর আজম খানকে নিয়ে বিচারপতি হামুদুর রহমান একদিন জগন্নাথ হল পরিদর্শনে আসেন। সাথে ছিলেন সে সময়ের প্রাধ্যক্ষ ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব এবং তাঁর প্রশাসনের সহকর্মীরা। উত্তর বাড়ির (বর্তমান গোবিন্দ চন্দ্ৰ দেব ভবন) আট আসন বিশিষ্ট কয়েকটি কক্ষে এক সঙ্গে অনেক ছাত্রের বিছানাপত্র দেখে পরিদর্শনরত গভর্নর আজম খান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে লক্ষ করে বলেন, "Is it a bedroom for the students ?"

গভর্নরের প্রশ্নের উত্তরে উপাচার্য যা বলেছিলেন তার সারমর্ম ছিল এই যে, “জগন্নাথ হলের বেশির ভাগ ছাত্রই ভারতে চলে যাবে। আর তাই এদের বেশি সুযোগ সুবিধার দরকার নেই।”

সঙ্গত কারনেই হল প্রশাসনের কর্তাবৃন্দ সেদিন উপাচার্যের উক্ত আপত্তিকর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে পারেননি। তবে ওই সময়ের হলের উপস্থিত ছাত্ররা উপাচার্যের এরূপ মন্তব্যে ভীষণভাবে অসন্তুষ্ট হয় এবং তারা এ কথার কঠোর সমালোচনা করে। (রঙ্গলাল সেন ; জগন্নাথ হলের অক্টোবর দুর্ঘটনা ও তার প্রতিক্রিয়া)

অনেক সংগ্রাম করে, কাঠখড় পুড়িয়ে উদ্দাম স্বপ্ন বুকে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে ভবন ধ্বসে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জীবন বলি দেয়াটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তাই ১৫ অক্টোবরের তাৎপর্যটুকু আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ১৫ অক্টোবরের সেই মর্মান্তিক ঘটনার দিন সারা দেশ দেখেছিল এক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চিত্র। ধর্ম, বর্ণ, জাত-পাত ভুলে সকল মানুষ জগন্নাথ হলের অসহায় ছাত্রদের পাশে এসে দাড়িয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রদের আরগ্য কামনায় প্রতিটি ধর্মের উপাসনালয়ে বসেছিল প্রার্থনাসভা।

জগন্নাথ হল ট্রাজেডির মত এরকম মর্মান্তিক দু্র্ঘটনা বাংলাদেশের মানুষ আর কোনদিন দেখতে চায় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কিছু ভবন বয়সের ভারে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। বিশেষ করে সত্তর সালের আগে যে ভবনগুলো নির্মিত হয়েছে সেগুলোই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। জগন্নাথ হলের জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা ভবন, গোবিন্দ চন্দ্র দেব ভবন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই গতবছর ভবন দুটি বন্ধ করা হয়েছে। জগন্নাথ হলে পূর্বে হল সংসদ হিসেবে ব্যবহৃত ভবনটিও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে, যেটি এখন তৃপ্তি আমিস এবং নিরামিস মেস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সলিমুল্লাহ হল, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, সূর্যসেন হল, জহুরুল হক হল, রোকেয়া হল, শহীদুল্লাহ হলসহ বেশ কয়েকটি অ্যাকাডেমিক ভবন এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিপজ্জনক ভবনগুলো চিহ্নিত করে নোটিশ টানিয়ে দিলে, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে শিক্ষার্থীদেরকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করলে হয়তো এরকম ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। পরিত্যক্ত ভবনগুলো সংস্কার কিংবা অপসারণ করে নতুন আবাসিক ভবন নির্মান করলে দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠের শিক্ষার্থীরা মাথায় ছাদ ভেঙে পড়ার উদ্বেগ না নিয়েই নির্বিঘ্নে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারবে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটু আলোকপাত করলে দেখতে পাই, ২০২৩ সালে সারা দেশব্যাপী এ পর্যন্ত ১১টি হালকা ও মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। সর্বশেষ ২ অক্টোবর ঢাকায় ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ছোটখাটো ভূমিকম্প বড় ভূমিকম্পের আভাস দেয়। সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাজধানী ঢাকা। এ নগরীতে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ধসে পড়বে লক্ষাধিক ভবন। শতবর্ষী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনগুলোর নিচে চাপা পড়বে শিক্ষার্থীরা এবং পুরান ঢাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালানোরই সুযোগ থাকবে না। এ অবস্থায় দুর্যোগের আগেই প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কারণ আমাদের দেশে দুর্যোগ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোয় অভাব রয়েছে দক্ষ জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের।

ভূমিকম্প বিষয়ক গবেষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার মনে করেন ভূমিকম্পের সম্ভাব্য দুটি উৎসই ঢাকার দেড়শ কিলোমিটারের মধ্যে এবং ঢাকার পাশ্ববর্তী কয়েকটি এলাকায় ভূমিকম্পের ইতিহাসও আছে। বিশেষ করে সিলেট এবং চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল- এসব এলাকায় বড় ধরণের ভূমিকম্প হলে সেটাই হবে ঢাকার জন্য বড় বিপর্যয়ের কারণ।

বিখ্যাত লেখক কাহলিল জিবরান বলেন, "দুর্ঘটনা প্রায় প্রতিটি মানুষের জন্যই এক অদৃষ্টপূর্ব ঘটনা যা নিমিষেই তাদের জীবনে বিপর্যয় নিয়ে আসে।" ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল ট্রাজেডির মত একটি অদৃষ্টপূর্ব ঘটনা সেদিন বহু পরিবারকে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। তবে সেই অতীত ট্রাজেডির আলোকে বর্তমান বাস্তবতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য দুর্ঘটনা মোকাবেলায় আমাদের নীতিনির্ধারকেরা কতটুকু প্রস্তুত ! এটি অনেক বড় প্রশ্ন।

সুশীল মালাকার
জগন্নাথ হল সাহিত্য সংসদের সাবেক সভাপতি

Address

Fulbaria

Telephone

+8801744492183

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Jagannath Hall Literature Society posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Jagannath Hall Literature Society:

Share