15/10/2025
১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর। এক দুর্যোগময় সন্ধা। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের ফলে রাজধানী ঢাকা মহানগরীর উপর দিয়ে ঘন্টায় ১০০ কিলোমিটার বেগে দমকা হওয়া বয়ে যায়। সেই সাথে হয় প্রচন্ড বৃষ্টিপাত। সকলের অগোচরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার শতবর্ষী পুরাতন ভবনগুলো আসন্ন দুর্যোগের আশঙ্কায় কেঁপে কেঁপে ওঠে। তখন বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিল টেলিভিশন। প্রতি মঙ্গলবারের মত সেদিনও বিটিভির রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর ধারাবাহিক নাটক শুকতারা প্রচারিত হওয়ার কথা। উদয়ন স্কুলের অধ্যক্ষ মমতাজ বেগমের লেখা শুকতারা দেখার জন্য সেদিন ছাত্র, কর্মচারী, অতিথীরা উপচে পড়েছিল টিভিরুমে। এই নাটকে অভিনয় করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারীর ছোট ভাই সংস্কৃত বিভাগের ছাত্র মনন অধিকারী। জগন্নাথ হলের ছেলে মনন অধিকারীর অভিনীত শুকতারা দেখার জন্য জগন্নাথ হলের অনুদ্বৈপায়ন ভবন কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
এই ভবনটিতে একসময় প্রাদেশিক পরিষদের অধিবেশন বসতো। তাই ভবনটিকে 'পরিষদ ভবন' বা এসেম্বলি হলও বলা হতো। ভবনটি ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ ভবনটিকে ছাত্রদের আবাসিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে জগন্নাথ হলের সাথে যুক্ত করেন। এরপর একাত্তরের শহীদ আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্যের নামে এ পরিষদ ভবন বা এসেম্বলি হলের নামকরণ করা হয় 'অনুদ্বৈপায়ন ভবন' ।
বাইরে মুষলধারায় বৃষ্টি হচ্ছে। সবাই গভীর মনোযোগে শুকতারা দেখছে। কেউ কেউ আচমকা খেয়াল করলো উপর থেকে গুড়ি গুড়ি চুন, সুরকি, বালি গায়ের উপর পড়ছে। ঘটনাটা ভালভাবে বুঝে ওঠার পূর্বেই দমকা হাওয়ায় হঠাৎ ভয়ংকর শব্দে টিভিরুমের ছাদ ধ্বসে পড়ে সকলের মাথার উপর। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়ে চারিদিকে অন্ধকার নেমে আসে। এরকম আকস্মিক ঘটনায় মুহূর্তেই সবাই হতভম্ব হয়ে যায়। চিৎকার-চেচামেচি, বাবাগো, মাগো, বাঁচাও, বাঁচাও ধ্বনিতে নিরেট অন্ধকারে এক নারকীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। চারিদিকে শুধু রক্ত আর রক্ত। থেতলে যাওয়া মাংসস্তূপ এবং ছিন্নভিন্ন দেহের মিছিল। এক নিমিষে শেষ হয়ে যায় ৩৯ টি তাজা প্রাণ। আহত হয় বহু ছাত্র। কেউ কেউ চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করে। দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই হলের অন্যান্য ভবনের ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক, ছাত্র, কর্মচারী ও সাধারণ মানুষ আর্তদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন ।
জগন্নাথ হলের সদ্য-সাবেক প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মিহিরলাল সাহা তখন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র ছিলেন। একটি কোর্সের মিডটার্ম পরীক্ষার প্রস্তুতিস্বরূপ রুমে বসে অধ্যয়ন করছিলেন । হঠাৎ একটা বিকট শব্দ শুনে বেরিয়ে পড়েন তিনি। বাইরে এসে জানতে পারেন এসেম্বলি ভবনের ছাদ ভেঙে পড়েছে। এক মুহূর্তও দেরি না করে আর্তদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। উদ্ধারকার্যের এক পর্যায়ে একটি মুখ দেখে তিনি থমকে যান । শিবনারায়ন। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অনুজ । প্রথম বর্ষের অনুসন্ধিৎসু এক তরুণ। সে প্রায়ই উদ্ভিদবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় শেখার জন্য তার রুমে আসতো। অথচ এখন সে মৃত। ইতিহাসের নির্মম এক দুর্ঘটনার শিকার।
রাত বাড়ার সাথে সাথে ইতোমধ্যে সারা শহরের মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে জগন্নাথ হলের দুর্ঘটনার কথা। একে তো টিপটিপ বৃষ্টি, অন্যদিকে বিদ্যুৎহীন অবস্থা । এরকম প্রতিকূল পরিবেশে সারা রাতধরে চলে উদ্ধারকাজ। উদ্ধারকৃতদের এক হাসপাতালে স্থান দেওয়া সম্ভব না হলে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, পিজি, সোহরাওয়ার্দী, সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ, হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল, পঙ্গু ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া ব্যক্তি মালিকানাধীন ক্লিনিকেও ভর্তি হয় বহু আহত ছাত্র। মাইকে তখন রক্তদান করার জন্য করুণ আকুতি ঘোষিত হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এবং বহু সাধারণ মানুষ এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাসপাতালে চলে যায় রক্ত দিতে। রক্তদান করতে আগ্রহীদের এত ভিড় বাংলাদেশে স্মরণকালে আর দেখা যায়নি। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই ছুটে আসে সাহায্যের জন্য। তার পরও সব জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। নিহতদের লাশ শহীদ মিনারের পাদদেশে সারিবদ্ধ করে রাখা হয়। পরের দিন দেশের সংবাদপত্রগুলোর প্রধান খবর ছিল এটাই।
দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় শিরোনাম আসে : 'জগন্নাথ হল মিলনায়তন ধসে ৫০ জন ছাত্র নিহত, আহত দুই শতাধিক। রক্তদানের আবেদন।' বাংলার বাণী সংবাদ ছাপে এই শিরোনামে : 'জগন্নাথ হলের ছাদধসে ৫০ জন ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু আহত ৩ শতাধিক।' কোনো পত্রিকা একে লেখে 'জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডি' বলেও। তখনো আহত ও নিহতের সঠিক হিসাব না পাওয়ায় সংবাদ শিরোনামে ভিন্নতা দেখা যায়। পরে দেখা গেছে, মোট ৩৯ জন নিহত হয়েছে এবং আহতের সংখ্যা শতাধিক ।
পুরনো এই ভবনটিকে আগেই বসবাসের অযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। ব্রিটিশ আমলে চুন, সুরকি ও লোহার রডের বিম দিয়ে তৈরী এই ভবন ছিল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বৃষ্টি হলেই ছাদ বেয়ে জল পড়তো। কতৃপক্ষ ছাত্রদের বিনোদনের ব্যবস্থা হিসেবে এখানেই একটি বড় রঙিন টেলিভিশন স্থাপন করেছিল। কক্ষের সামনের নিচু জায়গায় রাখা ছিল টিভি। ছাত্ররা যেন বৃষ্টিতে না ভিজে যায় সেজন্য ছাদে টিন দেয়া ছিল। ১৫ অক্টোবর সকালে ভবনটি মেরামত করার উদ্দেশ্যে ছাদ থেকে টিন সরিয়ে নেয়া হয়েছিল । এতে সারাদিনের বৃষ্টিতে চুন-সুরকির ছাদ নরম হয়ে যায়। আর রাতে ধ্বসে গিয়ে সৃষ্টি করে ইতিহাসের এক ভয়াবহ ট্রাজেডির।
একটি দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে কতগুলো তরতাজা প্রাণ নিমিষেই ঝরে গেল। কত আশা আকাঙ্খা, সম্ভাবনা, স্বপ্ন এক নিমিষেই বৃষ্টিভেজা মাটিতে মিশে গেল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিভৎস মৃত্যু সেদিন পুরো জাতিকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। এমন দুর্ঘটনা কেন ঘটলো? কেন অকালে ঝরে গেল কতগুলো তরুণ তাজা প্রাণ?
দুঃখজনক হলেও সত্যি, এই ট্রাজেডির পিছনে রয়েছিল তৎকালীন সরকারের ঔপনিবেশিক মন-মানসিকতা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাম্প্রদায়িক, সংকীর্ণ মনোভাব ও অবহেলা । জগন্নাথ হলের এই দুর্ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর অনুষ্ঠিত হয় শারদীয় দুর্গাপূজা। কিন্তু সেবছর সারাদেশ শোক সন্তপ্ত ও আনন্দ উৎসববিহীন একটি দুর্গাপূজা দেখেছিল। সন্তানহীন মা-বাবা ও স্বজনহারাদের চোখের জলে সকল উৎসবই ম্লান হয়ে গিয়েছিল সেবছর। মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির উদ্যোগে ১৯৮৫ সালের ২১ অক্টোবর মহাষ্টমীর দিন ঢাকেশ্বরী প্রাঙ্গনে একটি শোকসভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেছিলেন মেজর জেনারেল (অবঃ) সি. আর. দত্ত। ঐ সভায় বাংলাদেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। প্রত্যেকেই তাঁদের বক্তৃতায় কঠোর ভাষায় সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ ও হল প্রাশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের চরম ঔদাসীন্যের নিন্দা করেন। প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সাহিত্যিক আবু জাফর শামসুদ্দীন তার বক্তৃতায় এ দুর্ঘটনাকে 'Criminal Negligence' - এর ফল বলে উল্লেখ করেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী বক্তা জনসভায় বলেন, শুধুমাত্র একটি নোটিশের অভাবে এতগুলো প্রাণ ঝরে পড়ে গেল" (দৈনিক সংবাদ: ২২/১০/৮৫)।
ঢাকেশ্বরী প্রাঙ্গনে সেদিনের শোকসভায় জগন্নাথ হলের প্রাক্তন প্রোভোস্ট অধ্যাপক রঙ্গলাল সেন বলেন, "সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন জগন্নাথ হল সম্পর্কে ছিলেন উদাসীন। পাকিস্তানী মন-মানসিকতা বাংলাদেশের স্বাধীনতা- উত্তর কালেও ছিল বিদ্যমান। ষাটের দশকের গোড়ার দিকে আমি আবাসিক ছাত্র থাকাকালে পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর আজম খানকে নিয়ে বিচারপতি হামুদুর রহমান একদিন জগন্নাথ হল পরিদর্শনে আসেন। সাথে ছিলেন সে সময়ের প্রাধ্যক্ষ ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব এবং তাঁর প্রশাসনের সহকর্মীরা। উত্তর বাড়ির (বর্তমান গোবিন্দ চন্দ্ৰ দেব ভবন) আট আসন বিশিষ্ট কয়েকটি কক্ষে এক সঙ্গে অনেক ছাত্রের বিছানাপত্র দেখে পরিদর্শনরত গভর্নর আজম খান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে লক্ষ করে বলেন, "Is it a bedroom for the students ?"
গভর্নরের প্রশ্নের উত্তরে উপাচার্য যা বলেছিলেন তার সারমর্ম ছিল এই যে, “জগন্নাথ হলের বেশির ভাগ ছাত্রই ভারতে চলে যাবে। আর তাই এদের বেশি সুযোগ সুবিধার দরকার নেই।”
সঙ্গত কারনেই হল প্রশাসনের কর্তাবৃন্দ সেদিন উপাচার্যের উক্ত আপত্তিকর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে পারেননি। তবে ওই সময়ের হলের উপস্থিত ছাত্ররা উপাচার্যের এরূপ মন্তব্যে ভীষণভাবে অসন্তুষ্ট হয় এবং তারা এ কথার কঠোর সমালোচনা করে। (রঙ্গলাল সেন ; জগন্নাথ হলের অক্টোবর দুর্ঘটনা ও তার প্রতিক্রিয়া)
অনেক সংগ্রাম করে, কাঠখড় পুড়িয়ে উদ্দাম স্বপ্ন বুকে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে ভবন ধ্বসে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জীবন বলি দেয়াটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তাই ১৫ অক্টোবরের তাৎপর্যটুকু আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ১৫ অক্টোবরের সেই মর্মান্তিক ঘটনার দিন সারা দেশ দেখেছিল এক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চিত্র। ধর্ম, বর্ণ, জাত-পাত ভুলে সকল মানুষ জগন্নাথ হলের অসহায় ছাত্রদের পাশে এসে দাড়িয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রদের আরগ্য কামনায় প্রতিটি ধর্মের উপাসনালয়ে বসেছিল প্রার্থনাসভা।
জগন্নাথ হল ট্রাজেডির মত এরকম মর্মান্তিক দু্র্ঘটনা বাংলাদেশের মানুষ আর কোনদিন দেখতে চায় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কিছু ভবন বয়সের ভারে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। বিশেষ করে সত্তর সালের আগে যে ভবনগুলো নির্মিত হয়েছে সেগুলোই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। জগন্নাথ হলের জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা ভবন, গোবিন্দ চন্দ্র দেব ভবন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই গতবছর ভবন দুটি বন্ধ করা হয়েছে। জগন্নাথ হলে পূর্বে হল সংসদ হিসেবে ব্যবহৃত ভবনটিও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে, যেটি এখন তৃপ্তি আমিস এবং নিরামিস মেস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সলিমুল্লাহ হল, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, সূর্যসেন হল, জহুরুল হক হল, রোকেয়া হল, শহীদুল্লাহ হলসহ বেশ কয়েকটি অ্যাকাডেমিক ভবন এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিপজ্জনক ভবনগুলো চিহ্নিত করে নোটিশ টানিয়ে দিলে, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে শিক্ষার্থীদেরকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করলে হয়তো এরকম ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। পরিত্যক্ত ভবনগুলো সংস্কার কিংবা অপসারণ করে নতুন আবাসিক ভবন নির্মান করলে দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠের শিক্ষার্থীরা মাথায় ছাদ ভেঙে পড়ার উদ্বেগ না নিয়েই নির্বিঘ্নে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারবে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটু আলোকপাত করলে দেখতে পাই, ২০২৩ সালে সারা দেশব্যাপী এ পর্যন্ত ১১টি হালকা ও মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। সর্বশেষ ২ অক্টোবর ঢাকায় ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ছোটখাটো ভূমিকম্প বড় ভূমিকম্পের আভাস দেয়। সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাজধানী ঢাকা। এ নগরীতে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ধসে পড়বে লক্ষাধিক ভবন। শতবর্ষী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনগুলোর নিচে চাপা পড়বে শিক্ষার্থীরা এবং পুরান ঢাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালানোরই সুযোগ থাকবে না। এ অবস্থায় দুর্যোগের আগেই প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কারণ আমাদের দেশে দুর্যোগ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোয় অভাব রয়েছে দক্ষ জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের।
ভূমিকম্প বিষয়ক গবেষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার মনে করেন ভূমিকম্পের সম্ভাব্য দুটি উৎসই ঢাকার দেড়শ কিলোমিটারের মধ্যে এবং ঢাকার পাশ্ববর্তী কয়েকটি এলাকায় ভূমিকম্পের ইতিহাসও আছে। বিশেষ করে সিলেট এবং চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল- এসব এলাকায় বড় ধরণের ভূমিকম্প হলে সেটাই হবে ঢাকার জন্য বড় বিপর্যয়ের কারণ।
বিখ্যাত লেখক কাহলিল জিবরান বলেন, "দুর্ঘটনা প্রায় প্রতিটি মানুষের জন্যই এক অদৃষ্টপূর্ব ঘটনা যা নিমিষেই তাদের জীবনে বিপর্যয় নিয়ে আসে।" ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল ট্রাজেডির মত একটি অদৃষ্টপূর্ব ঘটনা সেদিন বহু পরিবারকে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। তবে সেই অতীত ট্রাজেডির আলোকে বর্তমান বাস্তবতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য দুর্ঘটনা মোকাবেলায় আমাদের নীতিনির্ধারকেরা কতটুকু প্রস্তুত ! এটি অনেক বড় প্রশ্ন।
সুশীল মালাকার
জগন্নাথ হল সাহিত্য সংসদের সাবেক সভাপতি