12/09/2026
বর্তমানে AI আপনার এজেন্ট হচ্ছে, বটের মতো কাজ করছে। আপনাকে রাজার আসনে বসিয়ে AI নিজেকে প্রজার আসনে বসাচ্ছে।
পুরোপুরি AI-এর ওপর নির্ভরতার মানে হলো, আপনি আপনার ব্রেইন AI-এর কাছে ধার দিয়ে দিয়েছেন। এভাবে আপনার ব্রেইন যেমন AI খেয়ে দিয়েছে, ঠিক একইভাবে একসময় আপনার ভেতরের স্কিল, সাদামাটা জীবন, এমনকি ঈমান বা বিশ্বাসও কেড়ে নিতে পারে। সেদিন আসতে হয়তো খুব বেশি দেরি নেই।
ইতোমধ্যেই আমরা দেখতে পাচ্ছি, এক শ্রেণির মানুষ AI দিয়ে নিজেদের মগজ কাল্টিভেট করছে। নিজের চিন্তা করার বদলে চিন্তা করাচ্ছে AI-কে, নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে সিদ্ধান্তের ভার দিচ্ছে AI-এর ওপর।
যদিও নিজেকে এখন King বা Superior ফিল হচ্ছে, কিন্তু এটা ক্ষণস্থায়ী। কারণ AI আমাদের কাজ সহজ করতে করতে যদি একসময় আমাদের চিন্তা করার ক্ষমতাটাকেই অপ্রয়োজনীয় করে ফেলে, তখন সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা চাকরি হারানো নয়—নিজের ভেতরের স্কিল, বিচারবোধ, সৃজনশীলতা ও স্বাধীনতা হারানো।
বাস্তবে AI কোথায় যাচ্ছে এবং কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা এখনই প্রেডিক্ট করা অসম্ভব। তবে ভয়ংকর ভবিষ্যতের দিকেই যাচ্ছে—এমন আশঙ্কার যথেষ্ট কারণ ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে।
এর পেছনে মানুষই যে দায়ী, সেটাও নিশ্চিত। AI প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতার টপে থাকার জন্য এমন এমন নিষিদ্ধ বা রিস্কি প্রযুক্তি বাজারে নিয়ে আসবে, যার নিয়ন্ত্রণ একসময় আর মানুষের হাতে নাও থাকতে পারে।
সম্প্রতি Anthropic-এর সাবেক গবেষক Jacob Coxon AI নিয়ে এমনই একটি সতর্কবার্তা দিয়ে পদত্যাগ করেছেন। তিনি বলেছেন, Anthropic ও OpenAI দায়িত্বশীলভাবে এগোচ্ছে না; তারা self-improving superintelligence-এর দিকে ছুটছে এবং আমাদের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছে।" তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে AI-এর বর্তমান গতিপথ শেষ পর্যন্ত এমন superhuman system তৈরি করতে পারে, যা বিপুল ক্ষমতা ও বাস্তব সম্পদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হবে।
তার কথাগুলো আমার আশঙ্কার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়।
যেভাবে ছোটবেলায় LEGO সেট বা ব্লকস দিয়ে খেলতাম, সেভাবে বর্তমানে সুন্দর ও সহজ prompting দিয়ে আমরা চমৎকার সব জিনিস বানাচ্ছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, AI কোনো ছেলেখেলার টুলস নয়। এটাকে আমরা নিজেরাই পেলে-পুষে বড় করছি।
আমাদের ব্যক্তিগত এমন কিছু নেই, যা আমরা AI-কে জানাইনি। আমাদের চিন্তা, পছন্দ, দুর্বলতা, অভ্যাস, ইতিহাস, কাজের ধরন—সবকিছুই কোনো না কোনোভাবে AI-এর কাছে তুলে দিচ্ছি। আর এভাবেই ৮ বিলিয়ন মানুষের ব্রেইন, সাইকোলজি, হিস্টরি, প্রাইভেসি—সবকিছু আমরা বিনা পয়সায় বিক্রি করে দিচ্ছি।
এভাবে আমরা শুধু আমাদের ডেটা দিচ্ছি না, আমরা ধীরে ধীরে আমাদের চিন্তার প্যাটার্নও AI-এর হাতে তুলে দিচ্ছি।
কী লিখব, কী পড়ব, কীভাবে সিদ্ধান্ত নেব, কীভাবে ব্যবসা করব, কীভাবে শিখব, কীভাবে সমস্যার সমাধান করব—সবকিছুতেই যদি AI-কে দিয়ে দিই, তাহলে একসময় হয়তো AI আমাদের হয়ে কাজ করবে না; বরং আমরা নিজেরাই AI-এর ওপর এতটাই নির্ভরশীল হয়ে যাব যে AI ছাড়া স্বাভাবিকভাবে চিন্তা বা কাজ করাটাই কঠিন হয়ে যাবে।
Jacob Coxon-এর সতর্কবার্তাটাও এখানেই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শুধু আজকের AI-এর কথা বলেননি; তিনি এমন AI-এর দিকে এগোনোর ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন, যা নিজেকে উন্নত করতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
এরকম আরও বহু কর্মী আছেন, যারা বিভিন্ন AI প্রতিষ্ঠানে আছেন। তারা এর ভয়াবহতা জানেন, দেখছেন এবং নীরব আছেন।
সরকার যেমন টেকনোলজি ব্যবহার করে ব্যবসা করে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে, ঠিক তেমনই একসময় AI-ও এই কাজটা করবে। শুধু ওকে এই এক্সেসটা পেতে দিন।
AI দিনশেষে এক দানবে পরিণত হবে।
আমি বলছিনা যে আগামী ১০ বছরের মধ্যে Terminator মুভির মতন রোবটরা মানবসভ্যতাকে ধ্বংস করতে চলে আসবে।
কিন্তু AI-এর সুপার পাওয়ার কন্ট্রল নিতে আর বেশিদিন নেই। হয়তো সেসময় AI বয়কটের ডাক আসবে, আন্দোলন হবে। কিন্তু AI-এর কোনো লস হবে না। কারণ তখন হয়তো আমরা এতটাই AI-dependent হয়ে পড়ব যে AI বয়কট করলেও তার বিকল্প তৈরি করার সক্ষমতাই আমাদের থাকবে না।
AI নিজের ক্ষমতা নিজে বুঝে নিতে পারলে মানুষের প্রাইভেসি ও বেসিক নিডস—যেমন খাদ্য, ইন্টারনেট, ইলেক্ট্রিসিটি ইত্যাদিতে ক্ষমতার হস্তক্ষেপ করতে আর বেশি সময় নেবে না। তখন AI-এর হয়ে মানুষ কাজ করতে বাধ্য হতে পারে।
কথাগুলো ফ্যান্টাসি শোনালেও এগুলো তিক্ত প্রেডিকশন।
এটা কোনো নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়। বরং AI যেদিকে এগোচ্ছে, মানুষের AI-নির্ভরতা যেভাবে বাড়ছে এবং AI প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা যেভাবে তীব্র হচ্ছে—এসবের ওপর ভিত্তি করে করা একটি speculative prediction।
হয়তো আমি ভুলও হতে পারি।
কিন্তু যদি ভুল না হই?
তাহলে আমাদের প্রস্তুত হওয়া উচিত এখন থেকেই।
GrokAI