19/04/2025
"আমার স্কুল ভাবনা" জেসমিন আকতার ২০১৬ ব্যাচ
প্রিয় বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার ও অন্যান্য মান উন্নয়ন নিয়ে আমারও কিছু ভাবনা রয়েছে।তা আজকে উল্লখ করছি।১৩ ব্যাচ এর ভাইয়াদের দৃষ্ট আকর্ষন করছি যারা এ বিষয়টি নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।ইন শা আল্লাহ।
১/একটি উন্মুক্ত লাইব্রেরি স্থাপন।
২/মহিলাদের সালাতের ঘরের সংস্কার।
(প্রথম ভাবনা) উন্মুক্ত লাইব্রেরি কেন প্রয়োজন:
যদিও বিদ্যালয়ে লাইব্রেরি রয়েছে কিন্তু সেটি উন্মুক্ত লাইব্রেরি নয় এবং নির্দিষ্ট কিছু কার্ডধারী ছাত্র ছাত্রী ব্যতীত কেউ বই পড়ার সুযোগ পায়না।প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই উন্মুক্ত লাইব্রেরি থাকা প্রয়োজন।যেখানে শিক্ষার্থীরা যখন ইচ্ছা গিয়ে নিজেদের পছন্দমত বই পড়তে পারবে। বিদ্যালয়ে বর্তমানে যে লাইব্রেরি রয়েছে সেখানে কেবলমাত্র NCTB (National curriculum text book) থেকে সাজেস্টকৃত বইপত্র রয়েছে।যা আমার মতে যথেষ্ট নয়।একটি লাইব্রেরিতে কেবলমাত্র গল্প,উপন্যাস ও সাহিত্যের বই থাকলে তা শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর আলোকপাত করার মত।প্রক্ষান্তরে জ্ঞানের পরিসীমা আরো ব্যাপক।সবার পছন্দের সাবজেক্ট একইরকম হয়না।বরং আমি মনে করি বিদ্যালয়ে এমন একটি উন্মুক্ত লাইব্রেরি থাকা প্রয়োজন যেখানে থাকবে রাজনীতি,সমাজনীতি, দর্শন,ইতিহাস,গল্প, উপন্যাস ও ইসলামিক সাহিত্য, বিষয়ক বইসামগ্রি।যাতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দমতো বই নির্বাচন করে পড়তে পারে।এমন একটি লাইব্রেরি যেটিতে NCTB কর্তৃক সাজেস্টকৃত বই থাকবেনা।বরং সেখানে যে বইগুলো থাকবে তা নির্ধারণ করবে আমাদের পাঠকশ্রনীর এক্স স্টুডেন্ট ও শিক্ষক মহোদয়রা।NCTB থেকে সাজেস্টকৃত বইগুলোতে কখনোই ইসলামের ইতিহাস, বর্তমান সমসাময়িক বিষগুলো থাকেনা।তাই NCTB কর্তিক সাজেস্টকৃত বই এর বাইরে দেশের প্রসিদ্ধ লেখকদের বই লাইব্রেরিতে থাকবে।থাকবে ইসলামের ইতহাস, ইসলামিক সাহিত্য ও বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন বই।এমন একটি লাইব্রেরি যেখানে ৬ষ্ট,৭ম,৮ম,৯ম ও ১০ম শ্রেনীভেদে বিভিন্ন মানের আলাদা আলাদা সেকশন থাকবে।বর্তমানে মোবাইল আসক্তি, টিকটক,পাবজিসহ বিভিন্ন সোশাল সাইটগুলো শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা থেকে রেখেছে যোজন যোজন দুরে।যার কারনে আমরা বিগত বছরগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে আশা অনুরুপ ফলাফল পাইনি।এবং রেজাল্টে নেমে এসেছে বিশাল এক ধস।
আমরা যদি শিক্ষার্থীদের বই পড়ার আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারি। আমরা যদি আমাদের ছাত্র-ছাত্রী হাত থেকে মোবাইল এর পরিবর্তে বই ধরিয়ে দিতে পারি, তবে খুব শিগ্রই আমাদের স্কুলের রেজাল্ট এর মধ্যে আমরা একটি বিপ্লবীক পরিবর্তন দেখতে পাবো ইন শা আল্লাহ।
তাছাড়া আমরা যারা মধ্যম থেকে শেষ সারীর ছাত্রছাত্রী, অনেক সময় এমন হয় যে, পরীক্ষার হলে প্রশ্ন কমন আসার পরও আমরা এর উত্তর গুছিয়ে উপস্থাপন করে লিখতে পারি না।বই পড়ার মাধ্যমে আমাদের শব্দভাণ্ডার, বাক্যবিন্যাসের ক্ষমতা ও নিজের ভাষায় পাঠ্যবইয়ের পড়া পরীক্ষার হলে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের দক্ষতা বাড়বে।চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা বাড়বে।তাছাড়া আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি "বিদ্যা থাকে শ্রেনীকক্ষে কিন্তু শিক্ষা ও জ্ঞান থাকে লাইব্রেরিতে"।
বই পড়ার অভ্যাসের কারনে, শিক্ষক যখন কোন একটি বিষয় নিয়ে শ্রেনীকক্ষে পড়াবেন,তখন ছাত্র -ছাত্রীরা একই বিষকে বিভিন্ন এঙ্গেলে কল্পনা করতে সক্ষম হবে।এক্সট্রা বই পড়ার কারনে তারা তাদের একাডেমিক বইয়ের পড়াগুলো আরো ভালোভাবে বুঝতে পারবে। এখন বলা যেতে পারে যে,তারাতো একাডেমিক বইগুলোও ঠিকভাবে পড়ে না।সেক্ষেত্রে আমার অভীব্যক্তি হলো,একাডেমিক বই আসলেও পড়ার জিনিস না।এগুলো দেখলে ভূত দেখার মত পালিয়ে যাওয়ার জিনিস।এটি একপ্রকার ডাক্তারের সাজেস্ট করা তিন বেলা ঔষধ এর মত।প্রেসকিপশনে আছে তাই বাধ্য হয়ে খেতে হচ্ছে। লাইব্রেরিতে যখন শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দমতো বই পড়ার সুযোগ পাবে, তখন তারা নিজে থেকে গিয়েই বই পড়বে ইন শা আল্লাহ। তাই বর্তমান সময়ে স্কুলে পড়ালেখার মান উন্নয়নে এবং স্কুলের রেজাল্টে একটি বিপ্লবীক পরিবর্তন আনার জন্য একটি উন্মুক্ত লাইব্রেরি থাকা সময়ের দাবি।
লাইব্রেরীর স্থাপনের রুপরেখা:লাইব্রেরী অবশ্যই বিদ্যালয়ের দোতলা অথবা নিচতলায় হতে হবে।
বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেনী পর্যন্ত সকল ছাত্রছাত্রীর লাইব্রেরি কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক হবে।এবং এ লাইব্রেরি কার্ড প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর রিনিউ করতে হবে।রিনিউ ফি বাবদ ৫০ বা ১০০ টাকা বাধ্যতামূলক জমা দিতে হবে প্রতিটি শিক্ষার্থীর।একটি উন্নত বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করতে হলে অবশ্যই এর একটি খরচ বহন করতে হবে।লাইব্রেরি উন্নয়ন এরই একটি অংশ।যখন তারা এর খরচ বহন করবে তখন অবশ্যই লাইব্রেরীতে যাবে বই পড়তে।বছরে ৪ বার লাইব্রেবী কার্ড রিনিউ করতে হবে।ধরা যাক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬০০। তাহলে প্রতিবার কার্ড রিনিউ বাবদ (৬০০×১০০) =৬০,০০০ বা ৫০ করে ধরলে ৩০,০০০ টাকা।এ টাকা দিয়ে তাদের নতুন কার্ড বিতরন এবং লাইব্রেরীতে নতুন বই সংযুক্ত করা হবে।লাইব্রেরীতে অন্তত হাজার খানেক বই থাকা চাই।বছরে ৪ বার লাইব্রেরীতে নতুন বই আসবে।এবং বছর শেষে সর্বোচ্চ বই পড়া ছাত্র-ছাত্রীরা পাবে লাইব্রেরী থেকে বই উপহার।এছাড়াও যেহেতু ছাত্রছাত্রীদের টাকায় লাইব্রেরীতে বই আনা হবে সেহেতু তারা যখন স্কুল থেকে বিদায় হবে তাদের বইগুলো স্কুলে থাকবে।আর এর পরবর্তীতে কেউ বই পড়ে উপকৃত হলে তারা পাবে সাদাকাতুল জারিয়ার সোয়ার।আর আল্লাহ প্রতিদান দিতে কার্পণ্য করেন না।সুবহানআল্লাহ।
(২য় ভাবনা) মহিলাদের নামাজের ঘরের সংস্কার:
নিচতলায় ছাত্রীদের নামাজের যে ঘরটি রয়েছে সেটি একটি পরিত্যাক্ত ঘরের মত।সেখানে সম্পূর্ন ঘরকে রং বরে নামাজের জন্য শান্তিদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা।লাইটিং ও জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজে সুষ্ঠু ব্যবস্হা করা।সেখানে অজু করার জন্য পানির ব্যবস্থা করা।
(জেনারেশন জেড রা স্কুলের মান উন্নয়নে কি করবে দেখবো এমন একটি বাক্য একদা এ গ্রুপে দেখতে পেয়েছিলাম।আমি বলতে চাই আমরা শুধু আমাদের পরিকল্পনাগুলো শেয়ার করতে পারি, এর বাস্তবায়ন আমাদের কাজ নয়।যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাহায্য ছড়া আমরা কিছুই করতে পারবো না।)
জেসমিন আক্তার
ব্যাচ:২০১৬