নিশ্চয়ই শিরক একটি মস্ত বড় অন্যায়” (সুরা লোকমান: ১৩)
নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা তার সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা
করবেন না। এ ছাড়া অন্য সকল গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে
দিবেন” (সুরা নিসা: ৪৮)
নিশ্চয় যে আল্লাহ’র সাথে শিরক করবে আল্লাহ তার উপর জান্নাত হারাম করে দেবেন এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। জালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই।” (সূরা মায়িদাহ: ৭২)
শ
িরক সমস্ত আমলকে বিনষ্ট করে দেয়। আল্লাহ বলেন,“আর যদি তারা শিরক করে তাহলে তাদের সকল আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে।” (সুরা আনআম: ৮৮)
শিরকই হল সবচেয়ে বড় গুনাহ। নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
“আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় গুনাহ সম্পর্কে অবহিত করব না? আর তা হল, আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা।” (বুখারি-মুসলিম)
“রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“প্রত্যেক নতুন জিনিস (ইবাদতের নামে) বিদ‘আত, প্রত্যেক বিদ‘আত গুমরাহী,
প্রত্যেক গুমরাহী পথ-ভ্রষ্টতা, প্রত্যেক পথ-ভ্রষ্টতা জাহান্নামী।”
[মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী]
“রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন..."কিয়ামতের দিন আমি তোমাদের জন্যে হাউজে কাউছারের নিকট উপস্থিত থাকব। যে ব্যক্তি আমার কাছে আসবে, আমি তাকে তা থেকে পানি পান করাবো। যে আমার হাউজ থেকে একবার পানি পান করবে, তার আর কখনও পিপাসা হবে না। এমন সময় আমার কাছে একদল লোক আগমণ করবে। আমি তাদেরকে চিনতে পাবো। তারাও আমাকে চিনতে পাবে। অতঃপর আমার ও তাদের মাঝে প্রতিবন্ধক সৃষ্টি করা হবে। আমি বলব, তারা আমার উম্মত। তখন আমাকে বলা হবে, আপনি জানেন না, তারা আপনার পরে কত বিদআত তৈরী করেছিল। আমি বলব আমার রেখে আসা দ্বীনের মধ্যে যারা পরিবর্তন করেছো, তারা এখান থেকে সড়ে যাও। অতঃপর তাদেরকে সেখান থেকে বিতাড়িত করা হবে।” [বুখারী, মুসলিম শরীফ]
শিরক এবং তার ভয়াবহ পরিণাম:
শিরকের সংজ্ঞা : আল্লাহর ইবাদতে অংশীদার স্থাপন করাকে শিরক বলা হয়। ‘ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে শরিক করার অর্থ হল: আল্লাহকে ডাকার মত অন্যকে ডাকা, আল্লাহকে ভয় করার মত অন্যকে ভয় করা, তাঁর কাছে কামনা করা হয়, অন্যের কাছে তা কামনা করা। তাঁকে ভালোবাসার মত অন্যকেও ভালোবাসা।“মানুষের মধ্যে এমন একদল লোক আছে যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদেরকে শরীক বানিয়েছে এবং তাদেরকে এমনভাবে ভালবাসে যেমন আল্লাহকে ভালোবাসা উচিত, আর যারা ঈমান এনেছে তারা আল্লাহকেই সর্বাধিক ভালবাসে”। (সূরা আল বাকারা: ১৬৫) আল্লাহর জন্যে সম্পাদনযোগ্য ইবাদতসমূহের যে কোন একটি গাইরুল্লাহর উদ্দেশ্যে সম্পাদন করা।
শিরকের প্রকারভেদ: শিরক দুই প্রকার।
1-শিরকে আকবর বা বড় শিরক।
2-শিরকে আসগর বা ছোট শিরক।
শিরকে আকবর: যে সকল ‘ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য করা হয়, সেগুলোর কোন একটি গাইরুল্লাহর উদ্দেশ্যে সম্পাদন করাকে শিরকে আকবর বলে। যেমন, গাইরুল্লাহর নিকট প্রার্থনা করা, তার নামে
জবেহ করা, জিন ও শয়তান ইত্যাদির নামে মানত করা। মৃত ব্যক্তি,
জিন, শয়তান ইত্যাদিকে ক্ষতি করার বা সুস্থ অসুস্থ করার মালিক মনে
করা। বিভিন্ন মাজারে গমন করা আর তাদের কাছে এমনভাবে প্রার্থনা করা যেন তারাই সবকিছু করতে পারে। আর যে সকল কার্যাদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ সমাধান করতে পারে না তা অন্যের কাছে আশা করা।
শিরকে আসগর : যে সব কথা ও কাজের মাধ্যমে মানুষ শিরকের দিকে ধাবিত হয়, সেসব কথা ও কাজই শিরকে আসগর বা ছোট শিরক। এ
প্রকারের শিরক মুসলমানকে ঈমান হতে বের করে না বটে; তবে তাওহীদকে দুর্বল করে দেয় এবং শিরকে আকবরের পথকে সুগম করে। এর উদাহরণ গাইরুল্লাহর নামে কসম করা, রিয়া বা লোক দেখানো কাজ করা যেমন: কেউ নামায পড়ল কিন্তু লোক দেখানো নামায পড়ল ইত্যাদি।
প্রত্যেক বিদআত হল ভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।(মুসলিম-১৫৩৫;নাসায়ি-১৫৬০)