07/10/2025
বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ভাবনা:
আমাদের প্রত্যাশা ও বাস্তবতা
মু. কামরুল ইসলাম
ব্যাচ: ২০০৩
বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়, যা ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, আজ একটি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে চলেছে। আমি নিজে এই বিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে ২০০৩ সালে এসএসসি পাস করেছি এবং আজও এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমার গভীর মমত্ববোধ রয়ে গেছে।
এই দীর্ঘ যাত্রায় অবকাঠামোগত দিক দিয়ে বিদ্যালয়টি অসাধারণ উন্নতি করেছে, যা নিঃসন্দেহে সাবেক সভাপতি বাবু শুনেন চন্দ্র শীলের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও অবদানের ফসল। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, একাডেমিক মান বা শিক্ষার গুণগত দিক থেকে এখনো তেমন দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। অবকাঠামো বড় হয়েছে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের ভিত কতটা মজবুত হয়েছে, সেই প্রশ্ন আজও আমাদের ভাবিয়ে তোলে।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিকে কলেজে রূপান্তরের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে, যা প্রশংসনীয় একটি উদ্যোগ—তবে প্রশ্ন থেকে যায়, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য কি শুধু উচ্চ ধাপে উন্নীত হওয়া, নাকি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার দিকে মনোযোগ দেওয়া?
আমাদের মতে, বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান এমন এক পর্যায়ে উন্নীত করা, যাতে এখান থেকে পাশ করে যাওয়া শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে, শুধু সনদ নয়, অর্জন করতে পারে বাস্তব দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস। এক্ষেত্রে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পাঠদানের পদ্ধতি, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বিত কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।
আমাদের আরেকটি সুপারিশ—বর্তমান সময়ে যখন প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, তখন কেবল সাধারণ শিক্ষা নয়, কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা চালু করাটা হবে সময়োপযোগী একটি পদক্ষেপ। এসএসসি পরীক্ষার পর অনেক শিক্ষার্থী আর উচ্চশিক্ষায় অগ্রসর হয় না। অনেকে কর্মসংস্থানের জন্য দেশ-বিদেশে পাড়ি জমায়। এই বাস্তবতায়, হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থাকলে তারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।
সুতরাং, আমরা মনে করি—
১। কলেজ করার আগে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে পরিকল্পিত ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি
২। শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক মহলে সচেতনতা সৃষ্টি করে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে
৩। কারিগরি শিক্ষার অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জনের পথ উন্মুক্ত করা যেতে পারে
শুধু ভবনের উচ্চতা বাড়িয়ে কিংবা প্রতিষ্ঠানকে কলেজে উন্নীত করলেই শিক্ষার অগ্রগতি হয় না। যদি নেতৃত্বস্থানীয় কেউ কেবল নিজের জনপ্রিয়তা বা লোকদেখানো কাজের অংশ হিসেবে কলেজ প্রতিষ্ঠার চিন্তা করেন, তবে তা ক্ষণিকের বাহবা পেলেও শিক্ষার্থীদের জীবন গড়তে ব্যর্থ হবে।
আমরা আশাবাদী, বর্তমান কমিটি বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে সময়োপযোগী ও জনমুখী সিদ্ধান্ত নেবে এবং বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় হয়ে উঠবে একটি মডেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—যেখানে শিক্ষার মান, দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা একত্রে বিকশিত হবে।