10/01/2024
আমাদের জীবনে একে অপরের ভালোবাসা বিভিন্ন ভাবে জড়িয়ে আছে ।
সেটা সালাম, মুসাফা, মুয়ানাকার মাধ্যমেও হতে পারে ।
হতে পারে একে অপরকে হাদিয়ার
প্রদান করার মাধ্যমে ।
হাদিয়া আদান প্রদান এর মাধ্যমে এক অপরের মাঝে ভালোবাসা গভীর হয় ।
এবং হাদিয়ার দেওয়ার মাধ্যমে বুঝানো হয় সে আপনার কাছে খুবই ভালোবাসার ও কাছের একজন মানুৃষ ।
হাদিয়া বন্ধু-বান্ধবকে দেয়া হলে সেটা হয় মহব্বত-ভালোবাসা বৃদ্ধির মাধ্যম। অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিকে দেয়া হলে খেদমত করার মাধ্যমে তার মনতুষ্টি অর্জন হয়। আর কোনো বুজুর্গ আল্লাহওয়ালা সম্মানিত ব্যক্তিকে দেয়া হলে সেটা হবে তার সম্মানের জন্য।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হল, সমাজজীবনে পারস্পরিক একনিষ্ঠতাপূর্ণ লেন-দেনের প্রচলন খুবই কমে গেছে। কিছু কিছু বিশেষ মহলে বুজুর্গ, আলেম, পীরদেরকে হাদিয়া দেয়ার প্রচলন কিছুটা আছে। কিন্তু আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীদেরকে হাদিয়া পাঠানোর প্রচলন প্রায় শূন্যের কোঠায়।
হাদিয়ার ফজিলত সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন
‘যারা তাদের সম্পদ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করে, অতঃপর খোটা বা তুলনা দিয়ে এবং কষ্ট দিয়ে তার অনুগমন করে না। তাদের জন্য রবের কাছে রয়েছে তাদের বিনিময়, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।’
সূরা বাকারা, আয়াত : ২৬২
হাদিয়া ভালোবাসা বৃদ্ধির মাধ্যম
নবীজি (সা.) বলেন, ‘রাসূল (সা.) বলেন, ‘তোমরা পরস্পর হাদিয়া আদান-প্রদান কর, তাহলে মহব্বত বৃদ্ধি পাবে।’
আল আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৫৯৪
কারো হাদিয়াকে ছোট করে দেওতেও রাসুল সা. নিষেধ করেছেন
যেমন রাসুল সা. বলেছেন হে মুসলিম নারীগণ! কোন মহিলা প্রতিবেশিনী যেন অপর মহিলা প্রতিবেশিনীর হাদিয়া তুচ্ছ মনে না করে, এমনকি তা ছাগলের সামান্য গোশতযুক্ত হাড় হলেও।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৫৬৬
হিংসা দূর করার উপায় হাদিয়া
রাসূল (সা.) বলেন, ‘তোমরা পরস্পরে হাদিয়া বিনিময় কর এর দ্বারা অন্তরের সঙ্কীর্ণতা ও হিংসা দূর হয়ে যায়।’
মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৯২৫০
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা পরস্পর মুসাফাহা (কর মর্দন) কর, তা হলে তোমাদের মধ্যকার শত্রুতা দূর হয়ে যাবে। পরস্পর হাদিয়া তোহ্ফা আদান-প্রদান কর, তা হলে পরস্পর ভালবাসা সৃষ্টি হবে এবং বিদ্বেষ দূর হয়ে যাবে।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হাদিস নং ১৬২৭
হাদিয়া নিয়ে লিখা ইতি টানছি
এখানেই ।
আর হে, এই গুনাহগার এর পক্ষ্য থেকে এই লিখাটাও আপনাদের
জন্য হাদিয়া ।
-আমিরুল ইসলাম