26/08/2025
সারাদিনের দৌড়ঝাঁপ আর ক্লান্তি শেষে একজন মুসলিমকে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য আল্লাহ তা'আলা রাতে ঘুমানোর নিয়ামত দিয়েছেন। রাতের প্রথমাংশে ঘুমানোর উপকারিতা সম্পর্কে অনেক আয়াত আর হাদিস আছে। সাহাবি মুআজ বিন জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ❝আমি তো আমার ঘুম থেকেও সওয়াবের আশা রাখি, যেমনটা আশা রাখি আমার সালাত, সাওম ও অন্যান্য ইবাদত থেকে।
সায়্যিদুনা উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কাউকে বিনা কারণে রাত জাগতে দেখলে রেগে গিয়ে বলতেন, ❝এই রাতে গল্প করবে আর শেষ রাতে ঘুমাবে!❞ [ফাতহুল বারি]
রাসুলুল্লাহ ﷺ ইশার পর গল্পগুজব অপছন্দ করতেন, তিনি যত দ্রুত সম্ভব ঘুমিয়ে পড়তেন। [বুখারি]
ঘুমকে তাই রাসুলের ﷺ সুন্নাহ অনুযায়ী ইবাদতে পরিণত করতে, ঘুমের পূর্বের জিকির আযকারগুলোর বিকল্প নেই। আমরা যেন প্রতিদিন রাতে এই আমলগুলো করতে পারি, সেজন্য এখানে একসাথে আমলগুলো দেওয়া হলো।
[১] অজু করা, বিছানা ঝাড়া : রাসুল ﷺ অযু করে বিছানায় যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বিছানা ঝেড়ে নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন। অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি ৩ বার বিছানা ঝেড়ে নেওয়ার কথা বলেছেন। [বুখারি, মুসলিম]
[২] সুরা ইখলাস, সুরা নাস এবং সুরা ফালাক : ১ বার করে পড়ে হাতের তালুতে ফুঁ দিবে। এরপর দেহের যতদূর হাত যায়, মাসেহ করবে। এভাবে ৩ বার করবে। [বুখারি]
[৩] আয়াতুল কুরসি : রাসুল ﷺ বলেন, ❝যে ব্যক্তি রাতে বিছানায় গিয়ে আয়াতুল কুরসি পড়বে, আল্লাহ সারারাত তার জন্য হিফাজতকারী নিয়োগ দিবেন, এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান তার কাছেও আসতে পারবে না।❞ [বুখারি]
[৪] সুরা বাকারাহ’র শেষ দুই আয়াত : রাসুল ﷺ বলেন, ❝যে ব্যক্তি রাতে এ দুই আয়াত পড়বে, তার জন্য তা যথেষ্ট হয়ে যাবে।❞ [ বুখারি, মুসলিম]
[৫] সুরা মুলক : রাসুল ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি রাতে সুরা মুলক তিলাওয়াত করবে, তার কবরের আজাব মাফ করে দেওয়া হবে। অন্য বর্ণনায় এসেছে, সুরা মুলক হাশরে আল্লাহ'র কাছে তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ করবে। এমনকি, রাসুল ﷺ সুরা মুলক তিলাওয়াত না করে ঘুমাতেন না মর্মে সহিহ হাদিস রয়েছে। [আবু দাউদ, তিরমিজি, ফায়জুল কাদির]
[৬] ঘুমানোর পূর্বের জিকির। যা ঘুমের দু'আ হিসেবেও পরিচিত।
بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ أَمُوتُ وَأَحْيَا
হে আল্লাহ! আপনার নাম নিয়েই আমি মরছি (ঘুমাচ্ছি) এবং আপনার নাম নিয়েই জীবিত (জাগ্রত) হবো।
বিসমিকা-ল্লাহুম্মা আমুতু ওয়া আহইয়া
বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ১১/১১৩, নং ৬৩২৪; মুসলিম ৪/২০৮৩, নং ২৭১১
[৭] ফাতিমা ও আলি রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে শিখিয়ে দেওয়া জিকির : রাসুল ﷺ উনাদের বলেন যেন তারা বিছানায় গিয়ে এই জিকিরগুলো করেন। সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার, আল্লাহু আকবর ৩৪ বার। এই জিকিরগুলো একজন খাদেম অপেক্ষা উত্তম বলে রাসুল ﷺ তাদের বলেছেন।