15/06/2024
আরাফাতের দিন আল্লাহ তা'য়ালা এতো বেশি মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন, যা অন্য কোন দিন দেন না। মহান আল্লাহ এই দিনে বান্দার খুব নিকটবর্তী হন এবং ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করে বলেন, আমার এই বান্দারা আমার জন্যে এতো কষ্ট করেছে এর বিনিময়ে আমার কাছে কি চায়?
(সুনানে ইবনে মাজাহ:৩০১৪; মুসলিম:১৩৪৮)
আল্লাহ তা'য়ালা ফেরেশতাদের উদ্দেশ্য করে আরো বলেন,
‘আমার ঐ বান্দাগণ আলুথালু কেশে ধূলামলিন বেশে দূর-দূরান্তর পথ অতিক্রম করে আমার কাছে এসে আমার রহমতের আশা করে এবং আমার আযাবকে ভয় করে, অথচ তারা আমাকে দেখেনি। তাহলে তারা আমাকে দেখলে কি করত?
(হাদিস সম্ভার:১১৩৯; ত্বাবারানী ১৩৩৯০)
আরাফার দিনের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সিয়াম রাখা।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,
❝যে ব্যক্তি আরাফার দিনের ছিয়াম পালন করবে, আল্লাহ তাআলা তাঁর এক বছর আগের এবং এক বছর পরের ছগীরা গুনাহ মাফ করে দিবেন❞।
(সহীহ মুসলিম:১১৬২; মিশকাত:২০৪৪)
আরাফার দিনের একটি বিশেষ দুয়া আছে।
আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন,
সর্বশ্রেষ্ঠ দো‘আ হচ্ছে আরাফাত দিবসের দো‘আ। আর আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণ যা বলেছি, তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হচ্ছে:
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মূলক, ওয়া লাহুল হামদ, ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বদীর।
একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই; রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর; আর তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
(তিরমিযী:৩৫৮৫)
আরাফার দিনে কি-কি আমল করবো?________________________________
আসলে সব ধরনের ভালো কাজ, যা আল্লাহ পাক পছন্দ করেন, তা-ই আরাফার দিনের আমল।
আরাফার দিনে আমরা যা যা করতে পারি -
১- সিয়াম পালন। যা আগত ১ বছর এবং বিগত ১ বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবে ইন শা আল্লাহ ।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ❝যে ব্যক্তি আরাফার দিনের ছিয়াম পালন করবে, আল্লাহ তাআলা তাঁর এক বছর আগের এবং এক বছর পরের ছগীরা গুনাহ মাফ করে দিবেন❞। (ছহীহ মুসলিম, হা/১১৬২; মিশকাত, হা/২০৪৪)
২- আরাফার দিন ফজর থেকে ১৩ জিলহাজ্জ আসর পর্যন্ত প্রতি ওয়াক্ত ফরজ সালাতের পর নির্ধারিত তাকবীর পাঠ-
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ। (আহমদ: ১৩২)
৩-সূর্যদোয়ের ১৫-২০ মিনিট পর ইশরাকের সলাত অথবা সকাল ১০/১১ টার দিকে চাশত এর সালাত আদায় করা।
৪- নিজের জানা-অজানা, ছোট-বড় সব রকম গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া এবং তওবা করা (গুনাহ থেকে প্রত্যাবর্তন করা)।
৫- আরাফার দিনের দুয়াটা বেশি- বেশি করে পড়া।
৬- সাধ্য অনুযায়ী দান-সাদাকা করা, সম্ভব হলে রোজাদার মানুষকে ইফতার করানো।
৭- কুরআন তিলাওয়াত এবং দরুদ পাঠ ইত্যাদি।
বিঃদ্রঃ যারা এ দিন সিয়াম পালন করতে পারবেন না, তারাও এই আমল গুলি বেশিবেশি করে করবেন ইনশাআল্লাহ।
আসুন আমরা সিয়াম রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করি, বেশি বেশি দুয়া করি, তাসবীহ তাহলীল পাঠ করি। এসকল নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য প্রাপ্তির এবং জান্নাতুল ফেরদৌসের প্রত্যাশা করি। আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের তাওফিক দিন।