09/05/2026
ভারতে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ভারতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর মুসলমানদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বুলডোজার দিয়ে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। আজ (৯ মে ২০২৬) সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা বলেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে মুসলমানদের ওপর এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে, যা মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় মুসলমানদের বাড়িঘর ও দোকানপাট লক্ষ্য করে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। বিশেষ করে দার্জিলিং ও উলুবেরিয়ায় মসজিদে হামলা এবং সম্পদ লুটের ঘটনা চরম মুসলিমবিদ্বেষের প্রকাশ। তারা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
নেতারা আরও বলেন, ভারতে মুসলমানদের প্রতি বৈষম্য ও নির্যাতনের ইতিহাস অনেক পুরোনো। অথচ মুসলিম শাসনামলে শত শত বছর ধরে এ অঞ্চলে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পেরেছে। কিন্তু ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর থেকে মুসলমানরা নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে। ১৯৮৪ সালের শিখ দাঙ্গা, ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গা এবং পরে মুজাফফরনগর, পাটনা ও দিল্লির সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় বহু নিরীহ মুসলমান নিহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এছাড়া সিএএ, এনআরসি এবং বিতর্কিত ওয়াকফ সংশোধনী বিলের মতো আইন ও পদক্ষেপের মাধ্যমে মুসলমানদের অধিকার সংকুচিত করা এবং তাদের ধর্মীয় সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চলছে। শাসক বিজেপি সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন এবং প্রশাসনের নীরবতার কারণে এসব হামলা এখন প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়নের রূপ নিয়েছে।
তারা আরও বলেন, ভারতের ইতিহাস, স্থাপত্য এবং আধুনিক বিজ্ঞান ও রাষ্ট্র গঠনে মুসলমানদের অবদান অনেক বড়। তাজমহল, লাল কেল্লা ও কুতুব মিনারের মতো ঐতিহাসিক স্থাপনা থেকে শুরু করে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি গড়তেও মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু আজ সেই অবদান অস্বীকার করে তাদের ওপর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। যখন কোনো রাষ্ট্র নিজেই একটি বিশেষ জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এমন আচরণ করে, তখন মানবাধিকারের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়ে।
সবশেষে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ওপর চলমান হামলা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানায়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভারতের দমনমূলক নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয় এবং ভারত সরকারকে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।