18/10/2025
“অফুরন্ত ইচ্ছা”
আমি কোচিং থেকে ফিরছিলাম।বাড়ি ফেরার পথে সদর হাসপাতালের পাশ দিয়ে যেতাম।সেখানে প্রায়ই ৩-৫ জন অসহায় শিশু খাবার ও টাকার জন্য ভিক্ষা করত।পাশেই ছিলো একটি নামী হোটেল,যেখানে সুস্বাদু খাবার পাওয়া যেতো।শিশুদের চোখে সেই খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা দেখা যেত,আর তারা ভাবতো,কখন তারা একবেলা পেট ভরে খাবার খেতে পারবে।
একদিন আমি তাদের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে দেখি।তারা বললো,“ভাইয়া কিছু টাকা দেন, নয়তো খাবার কিনে দেন”
আমি শুধু চুপচাপ তাদের দিকে তাকালাম।চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি ।পাশে হোটেলে নিয়ে গিয়ে বললাম,“তোমরা কি খেতে চাও?”তারা শুধু বলল,“যেটিই আপনি কিনে দিবেন,তাই আমরা খাবো।”আমি তাদের ইচ্ছে মতো খাবার কিনে দিলাম এবং তাদের গল্প শুনতে শুরু করলাম।কেউ মা-বাবা ছাড়া,কেউ ঘর ছাড়া,কেউ রেল স্টেশন এ থাকে।
সেইদিন বুঝতে পারলাম,জীবনে এগিয়ে যেতে হলে অনেক যুদ্ধ লড়তে হয়।আমাদের চারপাশে অসহায় শিশু রাও বড় সপ্ন নিয়ে বাঁচে,কিন্তু বাস্তবতা তাদের শ্বাসরুদ্ধ করে দিয়েছে।বাসায় ফিরে তাদের হাসি এবং তাদের মুখগুলো বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল।ঠিক তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম,প্রতিদিন কিছু না কিছু করে তাদের সাহায্য করব।
দেবজিত রায়
শিশু গবেষক
~NCTF,DINAJPUR