11/10/2026
শিশুদের নিরাপত্তা কোথায়?—এই নীরবতা মেনে নেওয়া যায় না
বাংলাদেশে শিশুদের ধর্ষণ, হত্যা, নির্যাতন ও যৌন হয়রানির যে ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে, তা শুধু উদ্বেগজনক নয়—এটি আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ ও মানবিক বিবেকের জন্য এক গভীর সতর্কবার্তা।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দেশে ৩ হাজার ৪৮৭ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় ২ হাজার ৫৯৮ শিশু নিহত এবং ১১ হাজার ৪৫৮ শিশু আহত হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের যৌন হয়রানির ১ হাজার ২৫৫টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বছরভিত্তিক হিসাব আরও উদ্বেগজনক। ২০২১ সালে ১ হাজার ৪৭, ২০২২ সালে ৭৩২, ২০২৩ সালে ৫৫৮, ২০২৪ সালে ২৮৪, ২০২৫ সালে ৪৭৪ এবং ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৩৯২ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সবচেয়ে বেদনাদায়ক তথ্য হলো—এই সময়ে ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর ১৩১ শিশু হত্যার শিকার হয়েছে।
একটি শিশুর শৈশব নিরাপদ হওয়ার কথা। তার হাতে থাকার কথা বই, খেলনা ও স্বপ্ন—ভয়, আতঙ্ক কিংবা মৃত্যুর স্মৃতি নয়।
শিশুর প্রতি যৌন সহিংসতা কোনো ব্যক্তিগত অপরাধমাত্র নয়; এটি সমাজের নিরাপত্তা, নৈতিকতা ও রাষ্ট্রের সুরক্ষা ব্যবস্থার বড় ব্যর্থতার প্রতিফলন। প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে শিশু সুরক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
শিশুদের নিরাপত্তা কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়—এটি তাদের মৌলিক অধিকার।
আমরা শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিটি ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। নীরবতা নয়, এখনই প্রয়োজন প্রতিরোধ, জবাবদিহি ও কার্যকর ব্যবস্থা।
একটি শিশুও যেন আর নির্যাতনের শিকার না হয়—এটাই হোক আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।