25/05/2026
আরাফার দিন হচ্ছে দু’আর দিন।
দুয়া কবুলের দিন।
গর্ভবতী মা কিংবা ছোট বাচ্চার মায়েদের তো দুয়ার প্রয়োজন আরও অনেক বেশি।
এমন একটা দুয়া কবুলের গোল্ডেন অপরচুনিটি কি মিস করা চলে?
কিন্তু একজন ক্লান্ত-শ্রান্ত গর্ভবতী মা কিংবা নবজাতকের মায়ের দিনলিপি আর দশজনের মতো নয়।
বিশেষ করে একজন গর্ভবতী মা…
অথবা ছোট বাচ্চার মা…
যার দিন কাটে ক্লান্তি, ভয়, অনিশ্চয়তা, দুশ্চিন্তা, নির্ঘুম রাত আর হাজারটা দায়িত্বের ভেতর দিয়ে— তার কিভাবে আল্লাহর সাথে সবচেয়ে গভীর কথোপকথনের সুযোগ হবে?
তার উপর অনেকেই ভাবেন—
“কি দুয়া করবো?”
“কিভাবে করবো?”
“কিছু তো মাথায় আসে না!”
আসলে এত ভেবে দুয়া করতে হয় না।
আপনার রব তো আপনার হৃদয়ের ভাষাও জানেন। 💗
আরাফার দিনের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দুয়াগুলোর একটি হলো—
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণঃ
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর।
অর্থঃ
“আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁরই। আর তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।”
এই দুয়াটি আরাফার দিনে বারবার পড়তে পারেন—
সকাল থেকে মাগরিব পর্যন্ত, বিশেষ করে নিরিবিলি সময়ে।
হাঁটতে হাঁটতে, বিশ্রাম নিতে নিতে, রান্না করতে করতে কিংবা শিশুকে ঘুম পাড়াতেও পড়তে পারেন।
কারণ দুয়া কবুলের জন্য নিখুঁত শব্দ নয়, সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন একটি আন্তরিক হৃদয়। 💗
এরপর মন খুলে নিজের ভাষায় চাইতে থাকুন… 🌿
আপনি কাঁদতে কাঁদতে এভাবেও বলতে পারেন—
“হে আল্লাহ, আমার গর্ভকাল সহজ করে দিন।”
“হে আল্লাহ, আমার সন্তানকে সুস্থভাবে দুনিয়ায় আনুন।”
“হে আল্লাহ, সন্তান জন্মদানের ভয় আমার হৃদয় থেকে দূর করে দিন।”
“হে আল্লাহ, আমার শিশুকে নেককার বানান, দ্বীনের পথে রাখুন।”
“হে আল্লাহ, আমি যেন সন্তানের উত্তম মা হতে পারি।”
“হে আল্লাহ, আমার রাগ, ক্লান্তি আর মানসিক চাপ সহজ করে দিন।”
“হে আল্লাহ, মাতৃত্বের এই কষ্টগুলোকে আমার গুনাহ মাফের মাধ্যম বানিয়ে দিন।”
“হে আল্লাহ, আমার সন্তানকে চোখের শীতলতা বানিয়ে দিন।”
“হে আল্লাহ, আমার ঘরে রহমত, বরকত আর শান্তি দিন।”
“হে আল্লাহ, আমি যে ভয় কাউকে বলতে পারি না— আপনি তা জানেন, আপনি তা সহজ করে দিন।”
আর ছোট বাচ্চার মায়েরা—
আপনারা শুধু সন্তানের জন্য না, নিজের জন্যও দুয়া করবেন।
কারণ অনেক মা আছেন যারা সন্তানকে সময় দিতে দিতে নিজেকেই ভুলে যান।
নিজের ক্লান্তি, নিজের মানসিক অবসাদ, নিজের ভাঙাচোরা হৃদয়— সব চেপে রাখেন।
এই আরাফার দিনে বলুন—
“হে আল্লাহ, আমাকে ধৈর্য দিন।”
“হে আল্লাহ, আমি যেন রাগের সময়ও সন্তানের সাথে কোমল থাকতে পারি।”
“হে আল্লাহ, আমাকে এমন মা বানান, যাকে দেখে আমার সন্তান আপনার দিকে আসতে শেখে।”
“হে আল্লাহ, আমার সন্তানদের অন্তরে ছোটবেলা থেকেই ঈমানের ভালোবাসা বসিয়ে দিন।”
আর একটা কথা—
দুয়া মানেই শুধু বড় বড় আরবি দুয়া না।
আপনি নিজের ভাষায় চাইবেন।
যে ভাষায় আপনার কান্না আসে।
যে ভাষায় আপনার ভয়গুলো বের হয়ে আসে।
যে ভাষায় আপনি সবচেয়ে সত্য।
মনে যা আসে তাই চাইবেন।
এক জিনিস বারবার চাইবেন।
আল্লাহ বিরক্ত হন না।
বরং বান্দার বারবার চাওয়াকেই ভালোবাসেন। 🤍
তাই এ দিনে মন খুলে বলুন—
“হে আল্লাহ, আপনি কবুল করে নিন…”
“হে আল্লাহ, আমাকে ফেলে দেবেন না…”
“হে আল্লাহ, আমার সন্তানদের হেফাজত করুন…”
“হে আল্লাহ, আমাকে আপনার প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন…”
নিরাপদ পৃথিবীর জন্য খুব করে দুয়া করবেন।
আর অবশ্যই—
নিজের এবং নিজের সন্তানের জন্য যেমন দুয়া করবেন, পৃথিবীর সব মায়েদের এবং সন্তানদের জন্যও দুয়া করবেন।