22/05/2026
কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের মর্যাদা রক্ষায় মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমূদুল হাসানের ৩টি যুগান্তকারী পরামর্শ
সম্প্রতি দেশের কওমি মাদরাসাসমূহের ঐতিহ্য রক্ষা এবং শিক্ষার্থী ও আলেম সমাজের আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধারে বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় কওমি মাদরাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ অথরিটি আল-হাইয়াতুল উলিয়ার চেয়ারম্যান, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সভাপতি, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়া যাত্রাবাড়ী বড় মাদ্রাসার মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস, আমীরে মজলিসে দাওয়াতুল হক মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমূদুল হাসান আসন্ন কুরবানির চামড়া সংগ্রহের ব্যাপারে কওমি মাদরাসাগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুগোপযোগী ৩টি পরামর্শ দিয়েছেন।
শায়খে যাত্রাবাড়ীর পরামর্শগুলো হলো:
১. তিনি বলেন, কোরবানির ঈদে মাদরাসার ছাত্রদের চামড়া সংগ্রহের কাজে কোনো জোরজবরদস্তি করা যাবে না; বরং সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে। কোনো ছাত্র যদি ঈদে বাড়ি যেতে চায়, তাহলে সে অনায়াসে বাড়ি যেতে পারবে। আর যদি কেউ স্বেচ্ছায় মাদরাসায় থেকে দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে সেবার নিয়তে কাজ করতে চায়, তবেই সে কাজ করবে।
২. দ্বিতীয় পরামর্শে তিনি বলেন, যে সকল শিক্ষার্থী ঈদে মাদরাসায় থেকে কাজ করবে, তারা বড়জোর মানুষের কোরবানির পশু জবেহ করার দায়িত্ব পালন করে ফিরে আসবে। রক্ত ও ময়লাযুক্ত পশুর চামড়া বহন বা কালেকশন করা ছাত্রদের কাজ নয়। কোনো দাতা যদি মাদরাসায় চামড়া দিতে চান, তাহলে তিনি নিজ দায়িত্বে তা মাদরাসায় পৌঁছে দেবেন।
এই প্রসঙ্গে তিনি তাঁর উস্তাদ শায়খুল ইসলাম আল্লামা ইউসুফ বিন্নুরী রহ. এর একটি ঐতিহাসিক ঘটনা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হন। আল্লামা ইউসুফ বিন্নুরী একবার মাদরাসার ছাত্রদের কাঁধে করে কোরবানির ময়লাযুক্ত পশুর চামড়া বহন করতে দেখে কেঁদে ফেলেছিলেন এবং ছাত্রদের মর্যাদার খাতিরে এই পদ্ধতি পরিবর্তনের তাগিদ দিয়ে বলেছিলেন, আভি বান্দ কারো।
৩. তৃতীয় ও শেষ পরামর্শে শায়খ বলেন, ঈদে যে সমস্ত ছাত্র নিজ বাড়িতে চলে যাবে, তাদের ওপর মাদরাসার পক্ষ থেকে কোরবানির তাহসিলের (আর্থিক অনুদান) কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।
মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমূদুল হাসানের এই দূরদর্শী ও সম্মানজনক পরামর্শ মাদরাসার ছাত্রদের মর্যাদা রক্ষা এবং কওমি মাদরাসার শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নে এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। দ্বীনি শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং ছাত্রদের যোগ্য আলেম হিসেবে গড়ে তুলতে এই নির্দেশনাগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।