06/08/2026
Dawah Circle, NUB
Northern University Bangladesh
বিবৃতি: ক্যাম্পাসের সাংস্কৃতিক পরিবেশ প্রসঙ্গে
তারিখ:৮ আগস্ট ২০২৬ ইং
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর, যিনি মানুষকে সম্মান দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং তার জন্য কল্যাণের পথ দেখিয়ে দিয়েছেন।
নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ক্যাম্পাসের সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিয়ে আজ অনেক সচেতন শিক্ষার্থী উদ্বিগ্ন। সাম্প্রতিক কিছু আয়োজনে এমন উপস্থাপনা ও প্রতীকী কার্যক্রম লক্ষ্য করা গেছে, যা বহু শিক্ষার্থীর ধর্মীয় ও নৈতিক অনুভূতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে প্রতীয়মান হয়েছে। একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; তা প্রতিষ্ঠানের মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক পরিচয়েরও প্রতিফলন। তাই এই পরিবর্তনশীল প্রবণতা নিয়ে দায়িত্বশীল আলোচনা সময়ের দাবি।
..................................................................
আমাদের অবস্থানের ভিত্তি
...................................................................
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন,
"মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র।"
(সূরা আন-নূর: ৩০)
এরপর আল্লাহ মুমিন নারীদেরও একই নির্দেশ প্রদান করেছেন।
অর্থাৎ শালীনতা কেবল নারীর দায়িত্ব নয়; এটি নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য আল্লাহর বিধান।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
"হে আদম সন্তান! আমি তোমাদের জন্য পোশাক অবতীর্ণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং সৌন্দর্য দান করে। আর তাকওয়ার পোশাকই সর্বোত্তম।"
(সূরা আল-আ'রাফ: ২৬)
এখানে আল্লাহ পোশাককে কেবল সৌন্দর্যের বিষয় হিসেবে নয়, বরং মর্যাদা ও তাকওয়ার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আল্লাহ আরও বলেন,
"তোমরা ব্যভিচারের নিকটেও যেও না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীলতা এবং নিকৃষ্ট পথ।"
(সূরা আল-ইসরা: ৩২)
আয়াতে শুধু ব্যভিচার নয়, বরং সেই পথে নিয়ে যায় এমন সকল উপায় থেকেও দূরে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
"লজ্জাশীলতা (হায়া) ঈমানের একটি শাখা।"
(সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
আরও বলেছেন,
"প্রত্যেক ধর্মের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে; ইসলামের বৈশিষ্ট্য হলো হায়া।"
(সুনানে ইবনে মাজাহ)
হায়া ইসলামে বাড়তি কোনো গুণ নয়। এটা ঈমানেরই অংশ।
.........................................................
আমাদের উদ্বেগ
...........................................................
বিশ্ববিদ্যালয় কেবল ডিগ্রি অর্জনের স্থান নয়; এটি চরিত্র, মূল্যবোধ ও নেতৃত্ব গঠনের কেন্দ্র।
যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক আয়োজনে এমন উপস্থাপনা স্থান পায়, যা শিক্ষার্থীদের একটি অংশের ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, তখন তা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আমরা কারও স্বাধীনতার বিরোধিতা করছি না; বরং চাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক আয়োজন এমন হোক যেখানে সকল শিক্ষার্থী নিজেদের মূল্যবোধ অক্ষুণ্ণ রেখে অংশগ্রহণ করতে পারেন।
.............................................................................................
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আমাদের আহ্বান
............................................................................................
আমরা সম্মানের সঙ্গে প্রশাসনের নিকট কয়েকটি বিষয় বিবেচনার অনুরোধ করছি।
১। ভবিষ্যতে যেকোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিকল্পনার আগে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয়, নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ বিবেচনায় নেওয়া।
২। অনুষ্ঠান নির্ধারণে শিক্ষক ও বিভিন্ন মতাদর্শের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি পরামর্শ কমিটি গঠন করা।
৩। এমন কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া, যা জ্ঞান, চরিত্র ও নেতৃত্ব বিকাশে সহায়ক। যেমন:
# বিতর্ক
# বিজ্ঞান মেলা
# গবেষণা প্রদর্শনী
# সাহিত্য উৎসব
# বইমেলা
# সমাজসেবামূলক কার্যক্রম
# কুরআন তিলাওয়াত ও ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা
৪। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আনুষ্ঠানিক আয়োজনে শালীনতা, পারস্পরিক সম্মান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা বজায় রাখা।
..............................................
| |
| সহপাঠীদের প্রতি |
| |.............................................
আমাদের এই বক্তব্য কোনো ব্যক্তি বা অংশগ্রহণকারীর বিরুদ্ধে নয়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
"প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।"
(সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
অতএব, এই বিবৃতিকে কেন্দ্র করে কাউকে অপমান, বিদ্রূপ বা ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকার জন্য আমরা সবাইকে আহ্বান জানাই।
...................................................
| |
| উপসংহার |
| |...................................................
একটি সমাজ একদিনে বদলে যায় না; বদলে যায় যখন ভুলকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া হয়। আজকের নীরবতা, আগামী দিনের সংস্কৃতি হয়ে উঠতে পারে। তাই আমরা বিশ্বাস করি, এখনই ভাবার সময়।
আমরা কাউকে দোষারোপ করতে নয়, বরং একটি প্রশ্ন রেখে যেতে চাই: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় কী হবে? শুধুই আয়োজনের, নাকি জ্ঞান, চরিত্র, শালীনতা ও মূল্যবোধেরও?
আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি আন্তরিকতার সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং ভবিষ্যতে এমন একটি ক্যাম্পাস গড়ে তুলবে, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ণ রেখেই গর্বের সঙ্গে অংশগ্রহণ করতে পারে।
وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ
Dawah Circle, NUB কেবল একটি সংগঠন নয়; এটি কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জ্ঞান, চরিত্র, শালীনতা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য কাজ করা শিক্ষার্থীদের একটি আদর্শিক প্ল্যাটফর্ম। আমাদের লক্ষ্য বিভেদ নয়, প্রজ্ঞা ও উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে কল্যাণের পথে আহ্বান।
"আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে। আর তারাই সফলকাম।"
— সূরা আলে ইমরান: ১০৪