30/11/2025
আব্বু,
তোমার চলে যাওয়ার আজ আট বছর হলো। এত বছর পরেও তোমার শহরের মানুষ, এই দেশের মানুষ—সবাই কোনো না কোনোভাবে তোমাকে খোঁজে। তাদের সুখে–দুঃখে, ছোট-বড় মুহূর্তে—একটু হলেও তারা তোমাকে মনে করে।
চলার পথে যখন দেখে তোমার বানানো ফুটপাতগুলো ভেঙে যাচ্ছে, সুন্দর রাস্তাগুলো আবার কেটে একাকার হয়ে যাচ্ছে—তখন তারা তোমাকে খোঁজে।
যখন দেখে সাত রাস্তায় আবার ট্রাকের ভিড়, পুরোনো ভাঙাচোরা বাসগুলো এখনও রাস্তায় চলাচল করছে, আর ভাবে—কেমন করে কিছুই বদলালো না—তখনও তারা তোমাকে খোঁজে।
তোমার বানানো পার্কে গাছের নিচে বসে মানুষ যখন একটু শান্তির নিশ্বাস ফেলে, ভাবে—ঢাকা শহরটা আরও কত সুন্দর, আরও কতটা সবুজ হতে পারতো—তখনও তারা তোমাকে খোঁজে।
দূর নিউ ইয়র্কে Zoran Mamdani–র নির্বাচনে জয়ের খবর দেখে, তার কথাগুলো শুনে—তখনও তোমারই কথা মনে পড়ে মানুষের।
আর যখন চারপাশে শুধু হতাশা আর অন্ধকার দেখতে পায়, তখন মানুষ সততা, মানবিকতা আর একটু ভালোবাসা খুঁজতে গিয়ে—তোমাকেই খুঁজে পায়।
আর আমরা—তোমার পরিবার।
প্রতিদিন, প্রতিটি মুহূর্তে, প্রতিটি শ্বাসে তোমাকে খুঁজি।
তোমার নাতি ইহান যখন ঠিক তোমার মতো করে মুখ ভরে বড় একটা হাসি দেয়—তখন তোমাকে খুঁজি।
তোমার নাতনি ইলিয়াহ যখন রাগ করে ভ্রু কুঁচকায়—সেটাতেও তোমাকেই দেখি।
ব্যবসার সিদ্ধান্তে কিংবা জীবনের কঠিন সময়ে ভাবি—তুমি কী বলতে, কী করতে—তখন তোমাকে খুঁজি।
প্রতি শুক্রবার তোমার কবর জিয়ারত শেষে মা–কে নিয়ে খেতে বসি; ভাত আর ভর্তার ভেতরেও তোমার অনুপস্থিতি টের পাই, তোমাকেই খুঁজি।
জানি, তুমি আর কখনো ফিরে আসবে না।
তবুও জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তোমাকেই খুঁজে ফিরবো—এই আশা নিয়ে যে ওপারে একদিন তোমার সঙ্গে দেখা হবে।
সেই পর্যন্ত ভালো থেকো, আব্বু।
________________________________________________
আজ আমার বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে আপনারা সবাই মন ভরে তার জন্য দোয়া করবেন—এই কামনা রইলো।
- নাভিদুল হক